Advertisement
E-Paper

ভাইরাসের প্রোটিন গুঁড়িয়ে দেবে! এড্‌সের নতুন ওষুধ কেমন কাজ করছে মানুষের শরীরে?

এইচআইভি-র মতো মারণ ভাইরাসকে জব্দ করার নতুন ওষুধ আসতে চলেছে বাজারে। শরীরে সুচ ফোটানোর প্রয়োজন হবে না, অস্ত্রোপচারও নয়। শুধু ট্যাবলেট খেলেই কাজ হবে বলে দাবি।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৪ অগস্ট ২০২৬ ০৯:০২
Breakthrough in HIV Treatment new Oral Pill Shows Promising Results in First Human Trial

এইচআইভি কি নির্মূল হতে পারে নতুন ওষুধে? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

এড্‌সের মতো মারণরোগের চিকিৎসায় কি তবে আশার আলো দেখা গেল? এড্‌স একেবারে নিরাময় করে দেবে, এমন সম্ভাবনা ভবিষ্যতেই বোঝা যাবে। তবে গবেষকেরা দাবি করেছেন, নতুন ওষুধটি এইচআইভি-র মতো মারণ ভাইরাসকে ভালমতোই জব্দ করতে পারবে। এর জন্য শরীরে সুচ ফোটানোর প্রয়োজন হবে না, অস্ত্রোপচারও করতে হবে না। কেবল ওষুধ খেলেই কাজ হবে।

আমেরিকান সোসাইটি ফর মাইক্রোবায়োলজির গবেষকেরা ওষুধটি তৈরি করেছেন যার নাম ‘ভিএইচ-৪৯৯’। এই ওষুধ এইচআইভি-১ ভাইরাসকে ধ্বংস করতে পারবে বলে দাবি করা হয়েছে। এইচআইভি আক্রান্ত রোগীদের ওষুধটি খাইয়ে তেমনই দেখা গিয়েছে বলে দাবি। ওষুধটির পরীক্ষামূলক প্রয়োগ চলছে মানুষের শরীরে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়ালের পরে সাফল্য এসেছে বলে দাবি। গবেষণালব্ধ ফলাফল ‘ক্লিনিক্যাল ইনফেকশাস ডিজ়িজ়েস’ নামক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।

কী ভাবে ভাইরাস মারবে নতুন ওষুধ?

এইচআইভি (হিউম্যান ইমিউনো ডেফিসিয়েন্সি ভাইরাস) শরীরে ঢুকলে সবচেয়ে আগে শরীরের রোগপ্রতিরোধী টি-কোষকে নিশানা করে। খুব দ্রুত জিনগত ভাবে বদলে যেতে পারে এই ভাইরাস। তাড়াতাড়ি বিভাজিত হয়ে সংখ্যাতেও বাড়তে পারে। ফলে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হতে শুরু করে। সাধারণ কোনও সংক্রমণ হলেও তা বড় ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। প্রাণসংশয় দেখা দেয়। ‘ভিএইচ-৪৯৯’ ওষুধটির কাজ হবে রক্তের লিম্ফোসাইট কোষগুলিকে (বি ও টি লিম্ফোসাইট) সক্রিয় করে তুলে ভাইরাসের বিরুদ্ধে সুরক্ষাবলয় তৈরি করা।

পাশাপাশি ভাইরাসের সুরক্ষাকবচ অর্থাৎ, তাদের ক্যাপসিড প্রোটিনকে ছিঁড়েখুঁড়ে দেওয়া। এই প্রোটিনের আস্তরণই ভাইরাসকে সুরক্ষিত রাখে ও তাদের দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে সংখ্যায় বাড়তে সাহায্য করে। মানুষের দেহকোষে ভাইরাসের দীর্ঘদিন টিকে থাকা, স্নায়ু ও রক্তকোষে ছড়িয়ে পড়া এবং বংশবৃদ্ধির জন্য এই ক্যাপসিড প্রোটিনটি অত্যন্ত জরুরি। তাই এই প্রোটিনটি নষ্ট হলেই ভাইরাস দুর্বল হয়ে পড়বে এবং শরীরে ছড়িয়ে পড়তেও পারবে না বলে দাবি গবেষকদের।

রোগীদের ওষুধটি খাইয়ে কী দেখা গিয়েছে?

ওষুধটির দ্বিতীয় পর্যায়ের ট্রায়ালে ২৩ জন এড্‌স রোগীকে ওষুধটি খাওয়ানো হয়েছিল। অতীতে এড্‌সের কোনও চিকিৎসা হয়নি, এমন রোগীদেরই বেছে নেওয়া হয়। তাঁদের কাউকে বেশি ডোজ়ে ও কাউকে কম ডোজ়ে ওষুধটি খাইয়ে পরীক্ষা করা হয়। তাতে দেখা যায়, ওষুধটি খাওয়ার ১১ দিনের মাথায় রোগীদের শরীরে সংক্রমণের তীব্রতা কমেছে। রক্তে ভাইরাসের পরিমাণও কম। বেশি ডোজ়ে খেয়েছিলেন যাঁরা, তাঁদেরও রোগের তীব্রতা কমে গিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। ওষুধটি খেয়ে তেমন কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও দেখা যায়নি।

বর্তমানে বাজারে লেনাক্যাপাভির নামে এড্‌সের ওষুধ আছে। গিলিয়েড সায়েন্সেস ও ভারতের ডক্টর রেড্ডি’জ় ল্যাবরেটরির যৌথ উদ্যোগে ওষুধটি তৈরি করা হয়েছে। ওষুধটি আপাতত আমেরিকাতেই অনুমোদন পেয়েছে। এ দেশে অনুমোদন পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। তবে সেটি খাওয়ার ওষুধ নয়। সেটি ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে দেওয়া হবে। ৬ মাস অন্তর দু’টি ডোজ় দেওয়া হবে রোগীদের। তবে নতুন ওষুধটি কার্যকর হলে, ইঞ্জেকশন নেওয়ার ঝামেলাও থাকবে না বলে দাবি গবেষকদের। ডায়াবিটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা অন্যান্য রোগের ট্যাবলেটের মতোই সেটি খাওয়া যাবে এবং রোগও নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

HIV aids

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy