ব্রিদিং এক্সারসাইজেই বা প্রাণায়ামে বাড়বে ফুসফুসের কার্যকারিতা৷ যার হাত ধরে কমবে ওজন। ওজন কমানোর এই সোজাসাপটা হিসেব অনেক ফিটনেস প্রশিক্ষকেরই। কাজের চাপ, সময়ের অভাবের মতো বিভিন্ন কারণেই আমরা প্রতি দিন নিয়ম করে জিমে যেতে পারি না বা ডায়েট মানতে পারি না। অধিকাংশ মানুষই এই অনিয়মের শিকার কাজের রুটিনের জন্য। ওজন কমাতে হলে শুধু শারীরচর্চা করলে চলবে না, শ্বাসের ব্যায়াম করাও জরুরি।
চর্বি বা ট্রাইগ্লিসারাইডে থাকে কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন পরমাণু৷ এই পরমাণুর বন্ধনকে ভেঙে ফেলতে পারলেই হয় কাজের কাজ৷ যে পদ্ধতিতে তা হয়, তার নাম অক্সিডেশন৷ চর্বির কোষের কার্বন পরমাণু শ্বাসের সঙ্গে নেওয়া অক্সিজেনের সাহায্যে জাড়িত হয়ে তৈরি করে কার্বন ডাই অক্সাইড, শ্বাসের সঙ্গে তা বেরিয়ে যায়৷ আর চর্বির কোষের হাইড্রোজেনের সঙ্গে অক্সিজেন মিলিত হলে তৈরি হয় জল৷ কাজেই শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে যত বেশি অক্সিজেন শরীরে ঢোকানো যায়, তত লাভ৷ চর্বিকে শরীর থেকে বার করতে ফুসফুস একাই একশো৷ শরীরের শতকরা ৮০ ভাগ চর্বিকে ভেঙে জলে পরিণত করার ও হাওয়ায় মিলিয়ে দেওয়ার দায়ভার সে বহন করে একাই৷
তাহলে কি খাবারদাবারের কোনও ভূমিকাই নেই? পুষ্টিবিদরা বলছেন, তা-ও আছে৷ খুব বেশি মাত্রাতেই আছে৷ ভুলভাল খেয়ে যদি কেজি কেজি চর্বি জমিয়ে ফেলেন, ফুসফুস তখন আর একা সব সামলাতে পারবে না৷ তবে সঠিক খাওয়াদাওয়া, শারীরচর্চার পাশাপাশি সঠিক পদ্ধতি মেনে শ্বাসের ব্যায়াম করলে মেদ ঝরার প্রক্রিয়া তরান্বিত হবে।
আরও পড়ুন:
পেটের মেদ ঝরানোর জন্য কপালভাতি খুব বেশি কার্যকর। এই ব্যায়াম মাসখানেক ২০-৩০ মিনিট ধরে সঠিক নিয়ম মেনে করলে ফল পেতে পারেন চটজলদি। জেনে নিন, সঠিক নিয়ম।
কপালভাতি করার নিয়ম
১) একটি ফাঁকা জায়গায় শান্ত হয়ে পদ্মাসনের ভঙ্গিতে বসুন।
২) প্রথমে স্বাভাবিক ভাবে শ্বাস নিন।
৩) শ্বাসপ্রশ্বাসের প্রক্রিয়া স্বাভাবিক হলে মুখ দিয়ে শ্বাস নিয়ে কিছু ক্ষণ ধরে রাখুন।
৪) এ বার ধীরে ধীরে নাক দিয়ে শ্বাস ছাড়ুন। শ্বাস ছাড়ার সময়ে পেট যেন ভিতরের দিকে ঢুকে আসে, সে দিকে খেয়াল রাখুন।
৫) এই পদ্ধতিতে ২০ বার শ্বাস নিন ও ছাড়ুন।
৬) মিনিট খানেকের বিরতি নিন।
৭) আবার ২০ বার এই ভাবে শ্বাস নেওয়া ও ছাড়া অভ্যাস করুন।
প্রথম দিকে মিনিট দুয়েক এই ব্যায়াম করুন, ধীরে ধীরে সময় বাড়াতে পারেন।