পিৎজ়া দিয়ে দিন শুরু হত। সারাদিন চিজ় কেক, প্যানকেক ও ভাজা খাবার গোগ্রাসে খেতেন। একসময়ে ওজন গিয়ে পৌঁছোয় ১২৫ কেজিতে। শরীরে বাসা বাঁধে নানা অসুখবিসুখ। নেটপ্রভাবী মিনাল পাটিল জানিয়েছেন, ওজন বেড়ে যাওয়ায় হাঁটাচলা করার সময়ে হাঁসফাঁস করতেন তিনি। শ্বাসের কষ্টও হত, তার পরেই ওজন কমানোর কথা ভাবেন। কিন্তু ভারী ব্যায়াম বা কড়া ডায়েট কোনওটিই করেননি তিনি। তার পরেও ৬ মাসের মধ্যে ২৮ কেজি ওজন কমিয়ে ফেলেছেন।
মিনাল জানিয়েছেন, ওজন কমানোর প্রক্রিয়া কোনও জাদু নয়, ধৈর্য ধরে ও ধারাবাহিক ভাবেই ওজন কমনো জরুরি। সে কারণে পুষ্টিবিদ ও ফিটনেস প্রশিক্ষকদের পরামর্শ নিয়ে ওজন কমানোর চেষ্টা শুরু করেন তিনি। কম খেয়ে বা উপোস করে থেকে অথবা শৌখিন কোনও ডায়েটের পথে যাননি। বরং বাড়ির খাবার খেয়ে সুষম ডায়েট করেই ২৮ কেজি ওজন কমিয়েছেন ধীরেসুস্থে। ১২৫ কেজি থেকে এখন তাঁর ওজন ৯৭ কেজি। আগামী দুই থেকে তিন মাসে তা ৭৫ কেজিতে নামিয়ে আনার ভাবনাও রয়েছে তাঁর।
কী ভাবে ডায়েট করেন মিনাল?
সকালে উঠে কোনও একটি ডিটক্স পানীয়, দুপুরে বাড়ির খাবার ভাত, ডাল, রুটি, সব্জি, রাতেও একই রকম হালকা খাবার খেয়েই ওজন কমতে থাকে মিনালের। সেই সঙ্গে চিনি দেওয়া পানীয়, জাঙ্ক খাবার, পিৎজ়া-পেস্ট্রি খাওয়া একেবারেই বন্ধ করে দেন। সুষম আহারের পাশাপাশি হালকা স্ট্রেচিং, যোগাসনও করতে থাকেন নিয়মিত।
আরও পড়ুন:
পুষ্টিবিদেরা বলেন, রোজের ভাত-ডাল-তরকারি অথবা মাছ-মাংস-ডিম, দানাশস্য, দুধ বা দুগ্ধজাত দ্রব্য সঠিক পরিমাণে খাওয়াই হল সুষম ডায়েট। এই ডায়েট মেনে চললে ওজন তো বাড়বেই না, পাশাপাশি কোলেস্টেরল, হাইপারটেনশন, এমনকি টাইপ-২ ডায়াবিটিস থেকে রেহাই পাওয়া যাবে। অপুষ্টি বা স্থূলত্বের মতো সমস্যা ৮০ শতাংশ কমে যাবে। ব্যালান্সড ডায়েটে খাদ্যতালিকায় কার্বোহাইড্রেট থাকা উচিত ৬০ শতাংশ। প্রোটিন ২০ শতাংশ। ফ্যাট ২০ শতাংশ। কার্বোহাইড্রেটের মধ্যে ব্রাউন রাইস, কিনোয়া, ডালিয়া খেলে বেশি ভাল। ভাত খেলে ১ কাপের বেশি নয়। রুটি ময়দা বা আটার বদলে রাগি বা ওট্স দিয়ে বানিয়ে খেতে পারেন।
প্রোটিনের মধ্যে থাকবে লিন মিট (চিকেন), ডিম, নানা রকম মাছ, সয়াবিন, নানা রকম ডাল, লো-ফ্যাট দুধ। লিন মিট (চিকেন), ডিম, নানা রকম মাছ, সয়াবিন, নানা রকম ডাল, লো-ফ্যাট দুধ। প্রক্রিয়াজাত মাংস, বাইরে থেকে কেনা বার্গার-সসেজ-সালামি, নাগেট, ফ্লেভার দেওয়া দই খাওয়া বন্ধ করতে হবে। সেই সঙ্গেই রোজের খাদ্যতালিকায় রাখতে হবে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট। তা পাওয়া যাবে নানা রকম বাদাম, বীজ থেকে। রাতের খাওয়া সন্ধে ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে সেরে নিলে ভাল। এতেই দ্রুত ওজন কমতে থাকবে।