‘রাগে ফেটে পড়া’ বা ‘রেগে আগুন, তেলে বেগুন’-এর মতো বাগ্ধারা কি আপনার ক্ষেত্রে খাটে? যে কোনও সময়ে রাগের বিস্ফোরণ ঘটতে পারে? চিৎকার, চোখ-মুখ লাল হয়ে যাওয়া অথবা ভিতরে ভিতরে রাগ পুষে রাখার অভ্যাসও রয়েছে? রাগের বহিঃপ্রকাশ যা-ই হোক না কেন, মনের পাশাপাশি তা যে শরীরেও প্রভাব ফেলে, এ কথা জানতেন?
রাগ মানুষের স্বাভাবিক অনুভূতি। কিন্তু সেই রাগ যদি বার বার তীব্র আকার নেয় বা দীর্ঘ ক্ষণ ধরে থাকে, তা হলে হৃদ্যন্ত্রের উপর বিশেষ করে প্রভাব পড়়তে পারে। হৃৎস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, বুক ধড়ফড় করা, পেশি আড়ষ্ট হয়ে থাকা, চোখ-মুখ লাল হয়ে যাওয়া, মনে হওয়া যেন রক্ত ফুটছে, এগুলি কেবলই মানসিক নয়। এগুলির ফলে হৃদ্যন্ত্রে প্রবল চাপ পড়তে পারে। চিকিৎসকদের মতে, রাগ হলে শরীরে স্ট্রেস হরমোন, অ্যাড্রিনালিন এবং কর্টিসলের ক্ষরণ দ্রুত বেড়ে যায়। এর ফলে হৃদ্স্পন্দন বাড়ে এবং রক্তচাপ বৃদ্ধি পায়। যদি এমন ঘটনা ঘন ঘন ঘটে, তা হলে দীর্ঘ মেয়াদে হৃদ্যন্ত্র এবং রক্তনালির উপর অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে। যাঁদের হৃদ্যন্ত্রের রোগ রয়েছে, তাঁদের রাগ প্রকাশের ক্ষেত্রে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন, নয়তো হৃদ্রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
প্রবল রাগ কী ভাবে হৃদ্যন্ত্রে প্রভাব ফেলতে পারে? ছবি: সংগৃহীত
হৃদ্রোগ চিকিৎসকদের পরামর্শ, রাগের মুহূর্তে মাত্র ৯০ সেকেন্ড নিজেকে সামলে রাখতে পারলে পরিস্থিতি অনেকটাই বদলে যেতে পারে।
কী এই ৯০ সেকেন্ডের নিয়ম?
অনেকের মতেই রাগ প্রকাশ করে ফেললে মন শান্ত হয়ে যায়। তাই রাগ প্রকাশ করে দেওয়াই উচিত। কিন্তু আদপে তাতে শারীরিক সমস্যাগুলি বাড়ে বই কমে না। তাই ৯০ সেকেন্ডের নিয়ম মেনে দেখা যেতে পারে। এতে রাগ চেপে রাখতে হবে না, আবার তীব্র আকার নেওয়ার আগেই কমে যাবে। তার জন্য কয়েকটি নিয়ম ধাপে ধাপে মেনে চলতে হবে—
আরও পড়ুন:
১. ধরা যাক, কোনও একটি কথায় আপনার রাগ হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে তার প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে ৯০ সেকেন্ড চুপ করে থাকতে হবে।
২. এই সময়ের মধ্যে ধীরে ধীরে গভীর ভাবে নিঃশ্বাস নিতে হবে, ছাড়তে হবে।
৩. সেই পরিস্থিতি থেকে খানিক দূরত্ব তৈরি করা প্রয়োজন। তাই একটু হেঁটে এলে ভাল হয়। এর ফলে ধীরে ধীরে স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা কমতে শুরু করবে।
৪. এই সময়ের মধ্যে চট করে ভেবে নিতে হবে, রাগ করার নির্দিষ্ট কারণ কী, তাতে ধীরে ধীরে রাগ কমে যেতে পারে।
৫. এর পর প্রতিক্রিয়া দিলে দেখা যাবে, তত ক্ষণে রাগের তীব্রতা অনেকটা কমে গিয়েছে। এর ফলে শরীরেও তেমন চাপ পড়বে না।
এই সময় কোনও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে যদি নিজেকে একটু সময় দেওয়া যায়, তা হলে সেই আবেগ ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে।