সমাজমাধ্যমে ইদানীং স্বাস্থ্যকর যাপনের ধুম পড়েছে। সকলেই হরেক টোটকা নিয়ে পসার সাজিয়ে বসেছেন। কিন্তু আদপে কোনটি কার জন্য কার্যকর, তা নিয়ে ধন্দ তৈরি হচ্ছে। সম্প্রতি আরও একটি কৌশল নিয়ে কথা শুরু হয়েছে সমাজমাধ্যমে। দাবি করা হচ্ছে, মুখে একটি লবঙ্গ চেপে রাখলেই নাকি নানা ধরনের সমস্যা থেকে মুক্তি মিলতে পারে। কিন্তু চিকিৎসক এবং পুষ্টিবিদেরা বলছেন, এই দাবির পিছনে কিছুটা সত্যি থাকলেও বিষয়টি এতটা সহজ নয়।
লবঙ্গ খেলে কি ঘুম ভাল হয়? ছবি: সংগৃহীত
শিকাগো নিবাসী পুষ্টিবিদ রেশমী রায়চৌধুরীর বক্তব্য, লবঙ্গ অবশ্যই গুণী। তা নিয়ে সন্দেহ নেই। লবঙ্গে রয়েছে ইউজেনল নামে একটি প্রাকৃতিক যৌগ। এই উপাদানের প্রদাহ কমানোর এবং সামান্য ব্যথা উপশমের গুণ রয়েছে। সেই কারণে বহু বছর ধরেই দাঁতের ব্যথা বা মুখের দুর্গন্ধ কমাতে লবঙ্গ বা লবঙ্গের তেল ব্যবহার করা হয়। তবে এর অর্থ এই নয় যে, লবঙ্গ মুখে রাখলেই সব ধরনের সমস্যা দূর হয়ে যাবে। অনেকেই দাবি করছেন, এতে নাকি মানসিক চাপ কমিয়ে ঘুমও ভাল হয়। প্রত্যক্ষ ভাবে এর কোনও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। কিন্তু পরোক্ষ ভাবে কাজ করে।
পুষ্টিবিদের মতে, সুনিদ্রার পথে বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায় মানসিক চাপ, উদ্বেগ। তাঁর কথায়, ‘‘লবঙ্গের সুবাস এবং ইউজেনল যৌগ মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পেতে সাহায্য করে। সাময়িক ভাবে হলেও তা ঘুম আসতে সাহায্য করে। অর্থাৎ লবঙ্গ বা ইউজেনল ঘুমে ভূমিকা পালন করছে ঘুরপথে। প্রদাহ কমাতে পারলে শরীরের নানা ব্যথাবেদনা কমে যায়। অম্বল কমতে পারে। ফলে মানসিক চাপের পাশাপাশি গা-হাত-পা ব্যথা অথবা বদহজম ইত্যাদি উপশমে সাহায্য করে বলে শরীর শান্ত হতে পারে। তাতে ঘুম আসার কথা।’’ লবঙ্গের গুণাবলির মধ্যে অন্যতম হল, তা শ্বাসনালিকে পরিষ্কার রাখে। ফলে নাক বন্ধ হওয়া, কাশি ইত্যাদির সমস্যাও কমে যায়। লবঙ্গ ঘুমের ওষুধ নয়, কিন্তু পরোক্ষ ভাবে সামগ্রিক অর্থে শরীরকে ভাল রাখে বলে ঘুমে সাহায্য হতে পারে।
কেবল ইউজেনল নয়, লবঙ্গে নানা প্রকার ভিটামিন, ক্যালশিয়াম এবং ম্যাগনেশিয়াম রয়েছে। ক্যালশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম স্নায়ুর উত্তেজনা প্রশমিত করতে পারে, ফলে শরীর আরাম পায় এবং ঘুমের আবেশ তৈরি হয়।
পুষ্টিবিদ বলছেন, কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হবে এই টোটকা প্রয়োগের সময়ে—
· ১-২টির বেশি লবঙ্গ খেলে অনেকের আবার বদহজম হতে পারে। তাই পরিমিত পরিমাণে খেতে হবে।
· লবঙ্গ না চিবিয়ে এক কাপ ফুটন্ত জলে তা খানিকক্ষণ ভিজিয়ে রেখে জলটুকু খেলে ভাল কাজ হতে পারে। ঘুমের সময়ে চিবিয়ে খেলে গলায় আটকে যেতে পারে।
· যাঁরা রক্ত পাতলা করার ওষুধ খান, তাঁদের ক্ষেত্রে বেশি লবঙ্গ খাওয়া একেবারেই উচিত নয়।