পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম বা পিসিওএস অসুখটি এখন আর অপরিচিত নয়। অনেক মহিলাই ভুগছেন এই সমস্যায়। পিসিওএস হরমোনঘটিত রোগ। এন্ডোক্রিন সিস্টেমের গোলমালে মূলত এই অসুখ হয়ে থাকে। এই অসুখের কারণে শরীরে পুরুষ হরমোনের আধিক্য ঘটে। ফলে ডিম্বস্ফোটন অনিয়মিত হয়ে যায়। ওজন বেড়ে যাওয়া, মুখে লোমের আধিক্য, ত্বকে ব্রণের হামলা, অনিয়মিত ঋতুস্রাব— পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম বা পিসিওএসের উপসর্গগুলি এমনই। পিসিওএস হলে অনেক সময়ে ডিম্বাশয়ে সিস্ট তৈরি হয়। ফলে ঋতুস্রাব অনিয়মিত হয়ে যায়, হরমোনের গোলমাল শুরু হয়। শরীরে লোমের আধিক্য দেখা দেয়, সন্তানধারণেও সমস্যা দেখা দিতে পারে। পিসিওএস হলে খাওয়াদাওয়া নিয়ন্ত্রণ করতে হয়, ওষুধও খেতে হয় নিয়মিত। চিকিৎসকেরা বলছেন, কেবল খাওয়া বা ওষুধে এই রোগের সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব নয়। পিসিওএস সারাতে হলে নিয়মিত যোগাসন করা জরুরি।
পিসিওএসের নিরাময় হতে পারে কোন কোন আসন অভ্যাসে?
মালাসন
দুই পায়ের মধ্যে কিছুটা দূরত্ব রেখে সোজা হয়ে দাঁড়ান। এ বার হাত দু’টি বুকের সামনে নমস্কারের ভঙ্গিতে এনে ধীরে ধীরে উবু হয়ে বসুন। দু’পা যথাসম্ভব কাছাকাছি আনুন। প্রণাম করার ভঙ্গিতে দু’টি হাত এমন ভাবে রাখবেন, যেন দু’টি কনুই দুই হাঁটু স্পর্শ করতে পারে। টানা ৩-৪ মিনিট এই আসনে থাকার পর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় আসুন।
আরও পড়ুন:
সেতু বন্ধাসন
এতেও পেলভিক এলাকার পেশির ব্যায়াম হয়। জরায়ুর কার্যক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিশেষ ভাবে উপযোগী এই আসন। চিত হয়ে শুয়ে দুই হাঁটু ভাঁজ করতে হবে। পায়ের পাতা মাটিতে থাকবে। শ্বাস নিতে নিতে কোমর এবং নিতম্ব মেঝে থেকে উপরে তুলতে হবে। কাঁধ এবং মাথা মেঝেতেই থাকবে। দুই হাত থাকবে শরীরের দু’পাশে। এই অবস্থায় ২০-৩০ সেকেন্ড থেকে শ্বাস ছাড়তে ছাড়তে কোমর নামাতে হবে।
সুপ্ত মৎস্যেন্দ্রাসন
বুকের পেশি প্রসারিত হয় এই আসন করলে। যা ফুসফুসের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। ফলে শরীরের প্রতিটি কোষে বিশুদ্ধ অক্সিজেনের সরবরাহ বাড়ে। ফুসফুসের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পেলে হৃদপিণ্ডকে কম পরিশ্রম করতে হয়, যা হার্ট সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। প্রথমে শবাসনে শুয়ে পড়ুন, হাত দু’পাশে টানটান থাকবে। এ বার ডান পায়ের হাঁটু ভেঙে, বাঁ পা মাটির সঙ্গে টানটান করে রাখুন।বাঁ হাত দিয়ে ডান হাঁটুটিকে ধরে আপনার বাঁ দিকে নিয়ে যান। অর্থাৎ, শরীরের বাঁ দিকে মোচড় দিন। শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখুন। এই ভঙ্গিমায় ১ থেকে ১০ গুনুন। এর পর আবার আগের অবস্থানে ফিরে আসুন এবং একই ভাবে অন্য পায়েও করুন।