কন্ডোম নয়, পুরুষের জন্যও আসছে জন্মনিয়ন্ত্রক বড়ি বা ‘মেল কনট্রাসেপটিভ পিল’। একটি ট্যাবলেট খেলেই টানা ৭-৮ ঘণ্টার জন্য শুক্রাণুর গতি রোধ করা যাবে বলে দাবি করেছেন গবেষকেরা। তবে তাতে পুরুষত্বের কোনও ক্ষতি হবে না বলেও দাবি। ওষুধের প্রভাব চলে গেলে আবার স্বাভাবিক নিয়মেই শুক্রাণু ক্ষরণ হবে।
অসুরক্ষিত যৌনমিলনের পর সন্তানধারণের ঝুঁকি এড়াতে মহিলারা সঙ্গমের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে গর্ভনিরোধক ওষুধ খান। এই ধরনের ওষুধ খেলে গর্ভধারণের ঝুঁকি প্রায় ৯০ শতাংশ কমে যায়। এ বার পুরুষের জন্যও তেমন ব্যবস্থা হচ্ছে। তবে পুরুষের ক্ষেত্রে ওষুধটি খেতে হবে যৌনমিলনের ৩০ মিনিট আগে। আমেরিকার ওয়েল কর্নেল ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা ওষুধটি তৈরি করেছেন। তাঁদের দাবি, ওষুধটির বিশেষত্ব এমন যে, সেটি খাওয়ার আধঘণ্টার মধ্যেই শুক্রাণুর গতি থেমে যাবে। এতে শুক্রাণুর উৎপাদন বাধা পাবে না ঠিকই, তবে শুক্রাণু চলাচলের পথটি অবরুদ্ধ হয়ে যাবে। শুক্রাণু তৈরি হলেও সেটি আর চলাচল করতে পারবে না সীমিত সময়ের জন্য। এতে বীর্য স্খলনে কোনও অসুবিধা হবে না, মিলনের অনুভূতিতেও কোনও ব্যাঘাত ঘটবে না বলেই জানিয়েছেন গবেষকেরা। ওষুধের প্রভাব কেটে গেলে প্রজননক্ষমতাও স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।
আমেরিকার সরকারি গবেষণামূলক সংস্থা ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেল্থের অনুমোদন পাওয়ার পরে ওষুধটির পরীক্ষামূলক প্রয়োগ চলছে মানুষের শরীরে। ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে দেখা গিয়েছে, ওষুধটি প্রায় ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রেই সফল হয়েছে। অথচ এটি খেলে শুক্রাণুর উৎপাদন প্রক্রিয়া বাধা পাচ্ছে না। টেস্টোস্টেরন হরমোনের ক্ষরণেও কোনও সমস্যা হচ্ছে না। কেবলমাত্র শুক্রাণুর গতি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য থেমে যাচ্ছে। কাজেই ওষুধটি খেলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হওয়ার ভয়ও তেমন নেই।
আরও পড়ুন:
ওষুধটি কাজ করছে একটি বিশেষ প্রক্রিয়ায়। এটি খেলে ‘এসএসি’ নামক একটি উৎসেচকের ক্ষরণ সাময়িক ভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। শুক্রাণুর চলাচলে এই উৎসেচকটিই বিশেষ ভূমিকা পালন করে। এর সাহায্যেই শুক্রাণু সাঁতার কেটে ডিম্বাণুর দিকে এগিয়ে যায়। কাজেই, উৎসেচকটি না থাকলে শুক্রাণুগুলি নিজেদের গতিশীলতা হারিয়ে ফেলবে এবং ডিম্বাণুর কাছে পৌঁছোতে পারবে না। এই মেয়াদ টানা ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা অবধি স্থায়ী হবে।
পুরুষের জন্মনিয়ন্ত্রক বড়ি বাজারে আসতে এখনও কিছু দেরি আছে বলেই জানিয়েছেন গবেষকেরা। ওষুধটি যাতে সকলের জন্যই নিরাপদ হয়, সে দিকটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।