Advertisement
E-Paper

কয়েক সেকেন্ডের মাথা ঘোরা বা কথা জড়িয়ে যাওয়া, হৃদ্‌রোগের চেয়েও ভয়াবহ অসুখ, বিপদ ঘটার আগেই চিনুন লক্ষণ

বুকে ব্যথা বা ঘাম হওয়া মানে হৃদ্‌রোগের লক্ষণ, তা এখন অনেকেই জানেন। কিন্তু সব ব্যথাবেদনার কারণ হৃদ্‌যন্ত্র না-ও হতে পারে। ক্ষণিকের মাথাঘোরা, চোখে ঝাপসা দেখা বা হাত-পা অসাড় হয়ে যাওয়া হার্টের রোগের লক্ষণ নয়। এই অসুখ আরও বিপজ্জনক।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০১ নভেম্বর ২০২৬ ১৩:৩২
What Is a Mini-Stroke, what are the symptoms and prevention tips

সেকেন্ডের মাথাঘোরা, হাত-পা অসাড়, হার্টের রোগের চেয়েও ভয়াবহ। ফাইল চিত্র।

ব্রেন স্ট্রোক এবং মিনি-স্ট্রোক কি এক? এই প্রশ্ন অনেকেরই। ব্রেন স্ট্রোক নিয়ে একটি স্পষ্ট ধারণা আছে অনেকেরই। যেমন, কথা জড়িয়ে যাওয়া, শরীরের একপাশ অসাড় হয়ে যাওয়া, মুখ বেঁকে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। অনেক সময়ে শরীর একপাশ পক্ষাঘাতগ্রস্তও হয়ে পড়ে। মিনি-স্ট্রোক ঠিক তেমনটা নয়। তবে চিকিৎসকেরা একে বলেন ব্রেন স্ট্রোকের পূর্বাভাস। এ ক্ষেত্রেও লক্ষণের ধরন অনেকটাই এক, তবে তা হয় কিছু সময়ের জন্য। যেমন, হাঁটছেন হঠাৎ করে মাথা ঘুরে গিয়ে চোখে ঝাপসা দেখলেন, হাত বা পা অসাড় হয়ে গেল অথবা পেশিতে এমন টান ধরল যে কিছুক্ষণের জন্য জবুথবু হয়ে গেলেন। কথা বলার শক্তিও হারিয়ে ফেললেন। এই সবই মিনি-স্ট্রোকের লক্ষণ হতে পারে। চিকিৎসা বিজ্ঞানে একে বলে ‘ট্র্যানসিয়েন্ট ইসকিমিক অ্যাটাক’ বা ‘টিআইএ’। লক্ষণ কয়েক সেকেন্ড থেকে কয়েক মিনিট স্থায়ী হতে পারে।

কেন হয় মিনি-স্ট্রোক?

দীর্ঘদিন ধরে রক্তনালির প্রাচীরে কোলেস্টেরল, চর্বি এবং ক্যালশিয়াম জমে ‘প্লাক’ বা কঠিন আস্তরণ তৈরি করে। এর ফলে ধমনীগুলি সঙ্কুচিত ও শক্ত হয়ে যায়। একে বলে অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস, যা মিনি-স্ট্রোকের অন্যতম বড় কারণ।

সঙ্কুচিত ধমনীর গায়ে অনেক সময় ছোট রক্তপিণ্ড বা ব্লাড ক্লট তৈরি হতে পারে, যা হঠাৎ করে রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে।

শরীরের অন্য কোনও অংশ (বিশেষ করে হৃৎপিণ্ড থেকে) থেকে রক্তের জমাট বাঁধা টুকরো রক্তপ্রবাহের মাধ্যমে এসে মস্তিষ্কের সরু ধমনীতে আটকে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রেও মস্তিষ্কে রক্ত চলাচলে বাধা তৈরি হয়।

ব্যতিক্রমী কিছু লক্ষণ

কোনও রকম ব্যথা ছাড়াই হঠাৎ করে এক চোখের দৃষ্টিশক্তি সম্পূর্ণ বা আংশিক হারিয়ে যাওয়া মিনি-স্ট্রোকের লক্ষণ হতে পারে। এটি কয়েক সেকেন্ড থেকে কয়েক মিনিট স্থায়ী হয়ে আবার হঠাৎ ঠিক হয়ে যেতে পারে।

ডবল ভিশনও মিনি-স্ট্রোকের পূর্ব লক্ষণ হতে পারে। মস্তিষ্কে রক্তচলাচল বন্ধ হয়ে গেলে চোখের স্নায়ুগুলিও নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে কিছু সময়ের জন্য। সে ক্ষেত্রেও ডবল ভিশন বা দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়।

মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া, বিভ্রান্তি, সাময়িক স্মৃতিনাশ, অতিরিক্ত উদ্বেগ, মাঝেমধ্যেই অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার লক্ষণও দেখা দিতে পারে। ভাবনাচিন্তা গুলিয়ে যায় অনেক সময়েই।

মাথা ঘুরছে না, কিন্তু সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারছেন না, হাঁটাচলা করার সময়ে শরীরের ভারসাম্য থাকছে না, এমন লক্ষণও দেখা দিতে পারে।

সাবধানে থাকবেন কী ভাবে?

লক্ষণ যেমনই হোক, দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। মিনি-স্ট্রোকের লক্ষণকে ক্লান্তি বা মানসিক চাপ ভেবে এড়িয়ে গেলে ভুল হবে।

জীবনযাত্রায় বদলও প্রয়োজন। যেমন ধূমপান কমাতে হবে, মদ্যপানে লাগাম টানতে হবে। সুষম খাবার খেতে হবে, বাইরের খাবার কম খেলেই ভাল। হার্টের সমস্যা যাঁদের আছে, রক্তচাপের হেরফের হয় অথবা ডায়াবিটিস আছে, তাঁদের অনেক বেশ সাবধানে থাকতে হবে। প্রয়োজনে সময়ান্তরে স্বাস্থ্যপরীক্ষা করিয়ে নিতে হবে।

Stroke Brain Stroke

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy