অর্শের সমস্যা খুবই যন্ত্রণাদায়ক। তা ভোগায় অনেককেই। কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে অর্শ হওয়ার ঝুঁকিও বেশি। এই অসুখটি নিয়ে চিন্তায় থাকেন অনেকেই। মলদ্বারের কাছে ফোলা মাংসপিণ্ড, রক্তপাত হলে আতঙ্কও বাড়ে। অনেকেরই ধারণা, অর্শ বা পাইলস হলেই হয়তো অস্ত্রোপচার করতে হবে। আবার এমনও ধারণা আছে, যে মলদ্বার নিয়ে প্রায়শই রক্তপাত হলে তা ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। অর্শ নিয়ে আতঙ্ক যেমন বেশি, ভুল ধারণাও ততোধিক।
কেন হয় অর্শ?
মলদ্বারের ভিতরে এবং বাইরে রক্তনালি জড়িয়ে পাকিয়ে থাকে জালের মতো। যখন এই রক্তনালিগুলির উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে, তখন সেগুলি ফুলে যায়, প্রসারিত হয় এবং অনেক সময় ফেটে গিয়ে রক্তপাতও ঘটে। কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে, মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত চাপ দিলে, টানা দীর্ঘসময় বসে থাকলে, জল ও তরল খাবার কম খেলে এই চাপ বাড়ে ও রক্তনালি ফুলে গিয়ে সেখানে মাংসপিণ্ডের মতো গজাতে থাকে।
আরও পড়ুন:
অর্শের সমস্যা হলে কি অস্ত্রোপচার করাতেই হবে?
অর্শ হলেই যে সব সময়ে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হবে তা নয়। অর্শের তীব্রতার উপর তা নির্ভর করবে। জীবনযাত্রার মান পরিবর্তন, ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার বেশি খাওয়া, প্রচুর জল পান করা ও চিকিৎসকের পরামর্শ মতো ওষুধ ব্যবহার করলে নিরাময় সম্ভব।
তৃতীয় বা চতুর্থ গ্রেডের অর্শ, যেখানে মাংসপিণ্ড মলদ্বার থেকে বাইরে বেরিয়ে আসে এবং প্রচণ্ড রক্তপাত বা ব্যথা হয়, সে ক্ষেত্রে রোগীর শারীরিক অবস্থা দেখে অস্ত্রোপচার করার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন চিকিৎসকেরা।
শৌচাগারে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলে কি ঝুঁকি বাড়ে?
মোবাইল স্ক্রল করতে করতে বা কাগজ পড়তে পড়তে অনেকেই দীর্ঘসময় ধরে টয়লেট সিটে বসে থাকেন। এর থেকেও কিন্তু অর্শের সমস্যা বাড়তে পারে। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, একটানা বসে থাকা ও মলত্যাগের সময়ে অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ করা অর্শের অন্যতম প্রধান কারণ। এর থেকেও রক্তনালিতে মারাত্মক প্রদাহ হতে পারে।
অর্শের কারণে ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি কম। তাই এই ধারণা সঠিক নয়। তবে মলদ্বারে সংক্রমণ হলে বা রক্তপাত দীর্ঘসময় ধরে হতে থাকলে, তখন বিপদ ঘটতে পারে। সাধারণত, কোলন ক্যানসার বা মলদ্বারের ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণগুলির একটি হল মলদ্বার থেকে রক্তপাত হওয়া। অনেক সময় রোগীরা মনে করেন এই রক্তপাত বুঝি কেবল অর্শের জন্যই হচ্ছে। করেন। তাই মলদ্বারে রক্তপাত হলে নিজে থেকে অনুমান না করে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে প্রক্টোস্কোপি বা কোলনোস্কোপি করিয়ে নেওয়া জরুরি।