মা হয়েছেন। তার পরেও চেহারায় মেদ জমেনি। বরাবরই ছিপছিপে গড়ন রাধিকা আপটের। তাঁর ফিটনেসও প্রশংসনীয়। যে কোনও চরিত্রেই মানানসই তিনি। বয়স চল্লিশের কোঠা পেরিয়েছে, তবে হরমোনজনিত কোনও সমস্যা বা ওজনবৃদ্ধি নিয়ে ভুগতে হয়নি তাঁকে। রাধিকা জানিয়েছেন, কোনওরকম কড়া ডায়েট মেনে চলা বা একবেলা উপোস করে থাকার পক্ষপাতী নন তিনি। বরং ঘরের হালকা খাবার খেতেই পছন্দ করেন। মায়ের বানানো লাড্ডুও খান। শুধু খাওয়াদাওয়া এক বিশেষ নিয়মে করেন রাধিকা।
রাধিকা খাদ্যরসিক। নানা সাক্ষাৎকারে নিজেই জানিয়েছেন সে কথা। চাইনিজ়, ইতালীয়, জাপানি খাবার পছন্দ করেন। জাঙ্ক খাবারও যে খান না, এমন নয়। রাধিকা জানিয়েছেন, পছন্দের খাবার খেয়েও ওজন কমানো যায়। শুধু নিয়ম মানতে হবে।
ওজন কমানোর পাঁচ ধাপ
কফি খেয়ে দিন শুরু করার অভ্যাস ছিল একসময়। এখন তা বদলে ফেলেছেন। অভিনেত্রী জানিয়েছেন, খালি পেটে কফি পান করলে তাতে সমস্যা হয় বেশি। বদলে সকালে উঠেই আগে ধনে-জিরে ভেজানো জল পান করেন। এই ডিটক্স পানীয় পেট ঠান্ডা রাখতে ও ওজন কমাতে সাহায্য করে।
আরও পড়ুন:
ডিটক্স পানীয় খাওয়ার অন্তত ৪০ মিনিট পরে শশার রস পান করেন। তাতে মিশিয়ে নেন পুদিনাপাতা ও লেবুর রস। এই পানীয় রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখতে, অতিরিক্ত ক্যালোরি পোড়াতে এবং ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্য ভাল রাখতে সহায়ক।
শশার রস খাওয়ার অন্তত আধ ঘণ্টা পরে কালো কফি খান রাধিকা। তবে শুধু কফি নয়, তাতে মিশিয়ে নেন দারচিনি ও এলাচের গুঁড়ো। এতে হজমশক্তি বাড়ে, শরীর ডিটক্স হয় এবং ওজনও কমে। রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল কমাতেও এই পানীয় উপযোগী।
দুপুরের বা রাতের খাবারের সঙ্গে তিসির চাটনি প্রায় রোজই থাকে। তিসি প্রচুর পরিমাণে ফাইবার ও ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিডসমৃদ্ধ। তিসি খেলে হজমশক্তি বাড়ে, পেট অনেকক্ষণ ভরা থাকে এবং বারে বারে খাওয়ার ইচ্ছা কমে যায়।
রাধিকার ওজন কমানোর আরও এক টোটকা হল ঘুম। কাজ না থাকলে টানা ৮ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুমোন তিনি। কখনও তা ১০ ঘণ্টারও বেশি হয়। এই ঘুমই তাঁর মানসিক স্বাস্থ্য ভাল রাখে, উদ্বেগ দূর করে। অভিনেত্রী জানিয়েছেন, মাসিক চাপ যদি কম থাকে এবং মন ফুরফুরে থাকে, তা হলে শরীরে বেশি মেদ জমতে পারে না।