বসেছিলেন, উঠতে গিয়ে হঠাৎ করে মাথা ঘুরে গেল? কিংবা শুয়ে রয়েছেন তা-ও মনে হচ্ছে মাথা ঘুরছে? রাস্তা দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ চারদিক অন্ধকার হয়ে গেল? এই ধরনের উপসর্গগুলি অনেকের কাছেই চেনা ঠেকতে পারে। কখনও কখনও নির্দিষ্ট পরীক্ষায়, নির্দিষ্ট সমস্যা ধরা পড়ে, কখনও পড়েও না।
কিন্তু আচমকা মাথা ঘোরার নেপথ্যে এক নয়, একাধিক কারণই থাকতে পারে। তা যেমন অন্তঃকর্ণের সমস্যা হতে পারে, তেমনই আচমকা রক্তে শর্করার মাত্রা নেমে গেলেও এমন হয়।
আরও পড়ুন:
১। মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালনের সমস্যা হলে অথবা শরীরের রক্তচাপের হেরফের হলে তার থেকেও এমন হতে পারে। হাইপারটেনশন বাসা বাঁধলে তার পূর্বলক্ষণ কিন্তু এমনই হতে পারে।
২। অর্থোস্ট্যাটিক হাইপোটেনশনের কারণেও আচমকা মাথা ঘুরে যেতে পারে। হার্ট এবং স্নায়ু রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে এই সমস্যা দেখা যায়। এক্ষেত্রে শোয়া বা বসা অবস্থা থেকে দাঁড়ালে আচমকা রক্তচাপ কমে যায়, ফলে আচমকা মাথা ঝিমঝিম করে বা মাথা ঘুরে যায়। চোখের সামনে ঝাপসা হয়ে আসে।
৩। শুয়ে শুয়ে মাথা ঘুরলে নেপথ্যে ভার্টিগোও কারণ হতে পারে। এতে মনে হয় চারপাশ ঘুরছে বা শরীর ভারসাম্য হারাচ্ছে। অন্তঃকর্ণের সমস্যা, স্নায়বিক কারণে ভার্টিগো হতে পারে। অন্তঃকর্ণে কিছু ছোট ছোট যন্ত্র স্থানচ্যুত হলে এমন সমস্যা তৈরি হয়। মেনিনজাইটিসের সমস্যা থাকলেও মাথা ঘুরতে পারে।
৪। মস্তিষ্কে কম অক্সিজেন পৌঁছোলে মাথা ঘুরতে পারে। অনেক সময়ে হৃদ্যন্ত্রের সমস্যা থাকলে রক্ত সঞ্চালন ঠিক মতো হয় না। ফলে এই সমস্যা দেখা দেয়। তাই মাথা ঘোরানোর সমস্যা হৃদ্রোগের পূর্বাভাস হতে পারে।
৫। রক্তে শর্করার মাত্রা আচমকা কমে গেলেও মাথা ঘুরে যেতে পারে। এক্ষেত্রে মাথা ঝিমঝিম করার পাশাপাশি হাত-পাও অসাড় লাগে। মূলত ডায়াবেটিক এবং প্রি-ডায়াবিটিস স্তরে এমনটা হয়।