ছুটি মিলবে, তবে লম্বা নয়? দুর্গাপুজোয় বাড়িতেও থাকতে মন চাইছে না? তবে বেরিয়ে পড়ুন তুলিনের উদ্দেশে। চারচাকায় সফর করলে সকালে রওনা হলে পৌঁছে যাবেন বিকেলেই।
পুরুলিয়া বললে অযোধ্যা পাহাড় বা গড়পঞ্চকোটের নামই সর্বাগ্রে আসে। লোকে জয়চণ্ডী পাহাড়েও ঘুরতে যান। তবে এই সবের মধ্যে অলক্ষেই রয়ে যায় ঝালদা মহকুমার বিভিন্ন প্রান্ত। মোটামুটি দিন তিনেক তুলিনে থাকলে আশেপাশের অনেক জায়গাই ভাল করে ঘোরা সম্ভব। তুলিন থেকে ২০ কিলোমিটার দূরের জাজাহাতুও কম সুন্দর নয়। পুজোয় দিন পাঁচেক হাতে থাকলে সাজিয়ে নিন সফর।
তুলিন দিয়ে বয়ে গিয়েছে সুবর্ণরেখা। ছবি:সংগৃহীত।
রানিগঞ্জ-রঘুনাথপুর রোড ধরে গেলে কলকাতা থেকে তুলিনের দূরত্ব প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার। টানা গেলে সাড়ে আট থেকে ন’ঘণ্টার মতো সময় লাগবে। কলকাতা থেকে বর্ধমান, পানাগড়, দুর্গাপুর, রানিগঞ্জ, রঘুনাথপুর, ঝালদা হয়ে তুলিন। মুরী জংশন রেলস্টেশন থেকে তুলিন কয়েক কিলোমিটার মাত্র।
ক্লান্তিকর জীবনে তুলিন শান্তির পরশ এনে দিতে পারে। এখান দিয়ে বয়ে গিয়েছে সুবর্ণরেখা নদী। নদীর ও পারে রাঁচী জেলার মুরী শহর। তুলিনে থেকেই ঘুরে নেওয়া যায় একাধিক বাঁধ, ঝর্না। তবে যদি কোথাও যেতে ইচ্ছা না করে তা হলে অলসযাপনেও প্রকৃতির সান্নিধ্য মন্দ লাগবে না। গাছগাছালি ঘেরা শান্ত স্থান ভুলিয়ে দেবে শহুরে জীবনের ক্লান্তি।
আর যদি মন চায় বেরিয়ে পড়তে পারেন গাড়ি নিয়ে। মিনিট দশেক গেলেই মিলবে বানসা পাহাড়। এর মাথায় উঠলে অনেক দূর পর্যন্ত দেখা যায়।
তুলিন থেকে ২৩ কিলোমিটার দূরে মুরুগুমা জলাধার। পাহাড় ঘেরা মুরুগুমা দেখতে আর পাঁচটি জলাধারের চেয়ে আলাদা লাগে। মনে হয়, পাহাড়ের অংশবিশেষের ফাঁক দিয়ে যেন এঁকেবেঁকে গিয়েছে জলাধারটি। অরণ্যঘেরা স্থানটি অত্যন্ত মনোরম। পুরুলিয়ার অনেক জায়গাতেই রাস্তা বেশ সুন্দর। মসৃণ। পথে সঙ্গ দেবে ছোট ছোট পাহাড়। মুরুগুমা যাওয়ার পথে ছোট্ট একটি জলপ্রপাত ঘুরে নিতে পারেন। স্থানীয়েরা বলেন লক্ষ্মীপুর জলপ্রপাত।
ঘুরে নিতে পারেন মুরুগুমা জলাধার। ছবি:সংগৃহীত।
তুলিন থেকে একদিন মুরুগুমার দিকে গেলে, আর একদিন চলুন জাজাহাতুতে। সড়কপথে দূরত্ব ২০ কিলোমিটারের মতো। তুলিন থেকে ঝালদা এসে ধরতে হবে ডান দিকের পথ। ঝালদার এই ঠিকানাটিও নিজগুণে ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। অনুচ্চ পাহাড় ঘিরে রেখেছে চারপাশ। দোলের সময় ঝালদার আনাচকানাচ ভরে যায় আগুনরঙা পলাশে। শীতের পরিবেশ মনোরম বলে পর্যটকেরা বেছে নেন সেই সময়ও। শরতও কম সুন্দর নয়।
জাজাহাতু থেকে দৃশ্যমান চেমটাবুরু শৃঙ্গ। ছবি:সংগৃহীত।
জাজাহাতুকে ঘিরে রয়েছে ছোটবড় নানা পাহাড়। কোনও এক সকালে কিংবা পড়ন্ত বিকেলে তেমন একটি পাহাড়ে কিছুটা অন্তত উঠলেও আশপাশের দৃশ্য দারুণ দেখাবে। বন্ধুবান্ধব থাকলে আড্ডা জমতে পারে সেখানেই। রাস্তার দু’পাশের ঘন অরণ্যও চোখকে প্রশান্তি দেবে। জাজাহাতু থেকে ঘুরে নিতে পারেন নোরাহরা জলাধার। শীতের দিনে স্থানীয়েরা এখানে পিকনিকে আসেন। ঘুরে নেওয়া যায় লায়েক বাঁধ, পাঁড়রি ড্যাম।
কোথায় থাকবেন?
তুলিনে হেরিটেজ বাংলো আছে থাকার জন্য। তুলিনে সাধারণ কিছু অতিথিনিবাসও মিলবে। জাজাহাতুতে একটি বেসরকারি ইকো রিসর্ট আছে। এ ছাড়াও চাইলে মুরুগুমার আশপাশে থাকতে পারেন।
কী ভাবে যাবেন?
কলকাতা থেকে তুলিন যেতে হলে ১৯ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে রানিগঞ্জ। তার পর বাঁ দিকে শালতোড়া-রঘুনাথপুর-কোটশিলা-ঝালদা হয়ে তুলিন।