বেসামাল ভিড়, হুড়োহুড়ি, তার পরে পদপিষ্ট হয়ে বহু মানুষের মৃত্যু। কলকাতার দুর্গোৎসবে এমন ঘটনা ভয় ধরিয়েছে অনেকের মনেই। চোরবাগান সর্বজনীনে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনার পর ভিড় দেখে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে বহু মানুষের মনে। খবরে, সমাজমাধ্যমে অনবরত এই ঘটনার খবর আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে তুলছে। ঠাকুর দেখার লাইনে দাঁড়িয়ে অনেকের মনে হচ্ছে, আবার এমন কিছু ঘটবে না তো। ‘ক্রাউড ফোবিয়া’ বা ভিড় দেখে ভয় অনেকেরই আছে। এই ঘটনার পরে যদি ভিড়ে যেতে ভয় পান অথবা হঠাৎ করেই বুক ধড়ফড়, হাত-পা কাঁপতে থাকে, তা হলে উদ্বেগে না ভুগে সেই মুহূর্তে কী করণীয়, তা জেনে রাখা জরুরি।
মণ্ডপের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে বা ভিড়ের চাপে হঠাৎ হাত-পা কাঁপা, দম আটকে আসা বা বুক ধড়ফড় করার ঘটনাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘অ্যাংজ়াইটি অ্যাটাক’ বা ‘প্যানিক অ্যাটাক’ বলে। যদি এমন ঘন ঘন হতে থাকে, তা হলে চিন্তার বিষয়। প্যানিক অ্যাটাক যদি খুব নিয়মিত ভাবে কারও হতে থাকে, সবসময়েই ভিড় দেখলে হাত-পা কাঁপতে থাকে, তা হলে সেটি প্যানিক ডিজ়অর্ডারের পর্যায়ে চলে যেতে পারে। সে কারণে আগে থেকেই সাবধান হওয়া জরুরি।
হঠাৎ ভয়, শরীরে কাঁপুনি, কী ভাবে সামলাবেন?
আতঙ্কিত না হয়ে সেই মুহূর্তে স্থির হয়ে দাঁড়ান। বসার জায়গা থাকলে বসে পড়ুন। মন শান্ত রেখে বক্স ব্রিদিং করতে থাকুন। প্রথমে শ্বাস ছাড়ুন। তার পর ২০ সেকেন্ড স্থির হয়ে বসতে হবে। এর পর গভীর ভাবে শ্বাস টানুন টানা ১০ সেকেন্ড ধরে। শ্বাস ধরে রেখে ৫ গুনুন। তার পর ধীরে ধীরে শ্বাস ছাড়ুন আবারও ১০ সেকেন্ড ধরে। অতিরিক্ত উদ্বেগের প্রভাব সবচেয়ে আগে পড়ে হার্টের উপরে। হৃৎস্পন্দন অনিয়মিত হয়ে বা শ্বাসকষ্ট হতে হতে হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। বক্স ব্রিদিং করলে সে আশঙ্কা থাকবে না।
৪-৭-৮ নিঃশ্বাস অনুশীলন
আরও একটি পদ্ধতিতে শ্বাস নেওয়া ও ছাড়ার অভ্যাস করতে হবে ‘প্যানিক অ্যাটাক’-এর সময়ে। ৪ গুনতে গুনতে শ্বাস নেবেন, ৭ গুনে শ্বাস ধরে থাকবেন, তার পর ৮ গুনতে গুনতে নিঃশ্বাস ছাড়বেন।
দৃষ্টি নির্দিষ্ট দূরত্বে স্থির রাখা
ভিড়ের উপর বা চারপাশের বিশৃঙ্খলার দিকে তাকালে আতঙ্ক বাড়ে। ভিড়ের লোকজনের উপর নজর না দিয়ে মণ্ডপের কোনও সাজসজ্জা, আলোর দিকে দেখুন। মনে ইতিবাচক ভাবনা আনার চেষ্টা করুন।
মুষ্টিমুদ্রা করুন
দুই হাতের আঙুলগুলি ভাঁজ করে হাত মুঠো করুন। বুড়ো আঙুলটি বাকি আঙুলগুলির উপর আলতো করে রাখুন। মুঠো করা হাত খুব শক্ত করে রাখবেন না। হাতের পেশি শিথিল রাখুন। দুই কাঁধও টানটান থাকবে। মুঠো করা হাত দুই হাঁটুর উপরে রেখে গভীর ভাবে শ্বাস নিতে ও ছাড়তে হবে। এই ভঙ্গিতে থাকুন ৫ মিনিট। এতে শরীরের কাঁপুনি কমবে।
৫-৪-৩-২-১ গ্রাউন্ডিং টেকনিক
আতঙ্কে শরীর দুর্বল লাগলে অথবা উদ্বেগ বেড়ে গেলে এই পদ্ধতিটি করতে পারেন। প্রথমে ৫টি জিনিসের নাম বলতে হবে বা ভাবতে হবে যা আপনি দেখতে পাচ্ছেন আপনার চারপাশে, তার পর এমন ৪টি জিনিসের কথা ভাবতে হবে, যা ছুঁতে পারছেন, এ বার ৩টি জিনিসের শব্দ শুনে সেগুলির নাম বলতে হবে। এর পর ২টি গন্ধকে অনুভব করে নাম করতে হবে। শেষে ১টি স্বাদ চিনে নেওয়ার চেষ্টা করতে হবে। এই অনুশীলন অনেকটা প্রশান্তি দেবে মনকে।