ডিম এবং পনির দুই খাবারই ভারতীয় হেঁশেলে জনপ্রিয়। ডিম শুধু প্রোটিনে ভরপুর নয়, এতে রয়েছে ভিটামিন এবং খনিজ। খেতেও সুস্বাদু। অন্য দিকে, পনিরও প্রাণিজ প্রোটিনের অন্যতম উৎস। বিশেষত যাঁরা নিরামিষ খাবার খান, তাঁদের জন্য পনির অত্যন্ত উপাদেয়। কিন্তু পু্ষ্টির দৌড়ে এগিয়ে কে?
প্রোটিনে ভরপুর ডিম বাড়ন্ত শিশুদের জন্য অত্যন্ত পুষ্টিকর খাবার। ডিমের পুষ্টিগুণ নিয়ে আলোচনাও কম হয় না। কিন্তু প্রোটিনের অঙ্কে এগিয়ে পনির। ১০০ গ্রাম ডিমে যেখানে সর্বোচ্চ ১৪ গ্রাম প্রোটিন মেলে, সেখানে সমপরিমাণ পনিরে ১৮- ২২ গ্রাম পর্যন্ত প্রোটিন মিলতে পারে। ১০০ গ্রাম ডিমে যেখানে ফ্যাটের মাত্রা ১০ গ্রাম, সেখানে পনিরে প্রায় ১৫ গ্রাম পর্যন্ত (এটা দুধের মানের উপর নির্ভর করে) ফ্যাট মেলে। তা হলে কি প্রোটিনের দৌড়ে ডিমকে টেক্কা দিতে পারে পনির? ডিমের বদলে পনির বেছে নেওয়া ভাল?
প্রোটিন তো আছেই, সেই সঙ্গে ডিমে রয়েছে ভিটামিন ৬, ভিটামিন ১২, ফলিক অ্যাসিড, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, সোডিয়াম, থিয়ামিন, আয়রন, জ়িঙ্ক, ভিটামিন ডি-সহ নানা উপকারী উপাদান। একটি ডিমে প্রায় ৬ গ্রাম প্রোটিন পাওয়া যায়। জরুরি সমস্ত অ্যামিনো অ্যাসিড মেলে এতে। হার্টের রোগীরাও নির্দ্বিধায় ডিম খেতে পারেন। লিভার ভাল রাখতেও ডিম খাওয়া চলে।
নিরামিষাশীদের কাছে ডাল বা দানাশস্য ছাড়া প্রোটিনের উৎস হল পনির। যেহেতু পনির দুগ্ধজাত, তাই এই খাবারে প্রোটিনের পাশাপাশি ফ্যাটের পরিমাণও বেশি। পুষ্টিবিদেরা বলছেন, ১০০ গ্রাম পনিরে ডিমের চেয়েও বেশি প্রোটিন মেলে। এ ছাড়াও পাওয়া যায়, ক্যালশিয়াম, ফসফরাস এবং ভিটামিন বি। হাড় মজবুত রাখার জন্য তা অত্যন্ত জরুরি। মাছ, মাংস বা ডিমের বিকল্প হিসাবে তাই পনির অবশ্যই পাতে থাকে দরকার।
ডিম না পনির?
ডিমে প্রোটিনের মাত্রা তুলনামূলক কম হলেও এতে জরুরি সমস্ত রকম অ্যামিনো অ্যাসিড মেলে। স্বাস্থ্যকর ফ্যাটও পাওয়া যায়। তাই ডিমের বদলে পনিরের ভাবনা ঠিক নয়। বরং স্বাদে বৈচিত্র আনতে ডিমের পাশাপাশি পনির খাওয়া যেতে পারে। অন্য দিকে, যাঁরা মাছ, মাংস, ডিম খান না তাঁদের প্রোটিনের চাহিদা পূরণের অন্যতম উৎস হতে পারে ভাল মানের পনির।