পাঁচ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলকে একাই দুরমুশ করেছেন। নিউ জ়ার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ব্রাজ়িলের স্বপ্নভঙ্গ করেছেন অতি নির্মম ভাবে। নরওয়ের ৬ ফুট ৫ ইঞ্চির ভাইকিং যোদ্ধা মাঠে নামলে আতঙ্কে থাকেন প্রতিপক্ষের ফুটবলাররাও। কিন্তু তাঁর এমন শক্তির রহস্য কি যোগাসন?
মাঠের ভিতরে যিনি চরম আগ্রাসী, মাঠের বাইরে নিজেকে শান্ত রাখতে নিয়মিত যোগাসনই অভ্যাস করেন। নরওয়ের স্ট্রাইকার জানিয়েছেন, ফিট থাকতে নানা রকম শারীরচর্চা তো করতেই হয় ফুটবলারদের, তবে নিয়ম করে যোগাসন অভ্যাস করতে ভোলেন না। যে কোনও সময়ে মন শান্ত রাখতে ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধিতে সুখাসনে বা পদ্মাসনে বসে জ্ঞান মুদ্রা অভ্যাস করেন। যোগাসনের আরও কিছু পদ্ধতিতেও তিনি সিদ্ধহস্ত। এমনকি ব্রাজ়িলের সঙ্গে উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচের আগেও এই যোগাসনই ছিল তাঁর মনের শক্তির আসল চাবিকাঠি। মাঠে তাঁর আগ্রাসন, গতি ও প্রতিপক্ষকে খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দেওয়ার শক্তির নেপথ্যে যে শান্ত ও স্থির মস্তিষ্কটি কাজ করে, তার নেপথ্যে রয়েছে যোগাসনই।
মাঠে বহুবার সুখাসনে বসে ধ্যানমগ্ন অবস্থায় দেখা গিয়েছে আর্লিং হালান্ডকে।
আর্লিং হালান্ড নিজেই বহুবার স্বীকার করেছেন, তীব্র উত্তেজনা ও মানসিক চাপের মুহূর্তে যোগাসনই তাঁকে ধৈর্য ধরে রাখতে সাহায্য করে। মাঠেও বহুবার পদ্মাসন বা সুখাসনের ভঙ্গিতে চোখ বন্ধ করে ধ্যানমগ্ন অবস্থায় বসে থাকতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। খেলা শুরুর আগে ও পরে, অনুশীলনের পরে, ড্রেসিংরুমে— যে কোনও সময়েই মন স্থির রাখতে যোগাসনকেই বেছে নিয়েছেন নরওয়ের ভাইকিং যোদ্ধা।
নিয়মিত যোগাসন অভ্যাস করেন নরওয়ের স্ট্রাইকার।
আর্লিং হালান্ডের মতো জ্ঞানমুদ্রা অভ্যাসে কী লাভ হবে?
মন স্থির রাখতে, মনঃসংযোগ বৃদ্ধিতে এবং মানসিক চাপ কমাতে সুখাসন বা পদ্মাসনে বসে ধ্যান করার কোনও বিকল্প নেই। সেই সময়ে হাত রাখতে হবে জ্ঞান মুদ্রার ভঙ্গিতে। প্রথমে পিঠ সোজা করে সুখাসনে বসতে হবে। চাইলে পদ্মাসনেও বসা যাবে। দুই হাত থাকবে হাঁটুর উপর। এ বার তর্জনী ভাঁজ করে বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠের গোড়ায় নিয়ে আসতে হবে। বাকি তিন আঙুল সোজা ভাবে খোলা থাকবে। দুই হাত টানটান করে না রেখে আরামদায়ক ভাবে রাখতে হবে। এই ভঙ্গিমায় চোখ বন্ধ করে গভীর ভাবে শ্বাস নিতে ও ছাড়তে হবে।
আরও পড়ুন:
নিয়মিত সুখাসন বা পদ্মাসনে বসে জ্ঞান মুদ্রা অভ্যাস করলে উদ্বেগ, দুশ্চিন্তা কমবে। অবসাদ যদি গ্রাস করে, তা হলে এই মুদ্রা অভ্যাসে সুফল পেতে পারেন। ঘুমের সমস্যা ও অনিদ্রা দূর হবে নিয়মিত এই মুদ্রা অভ্যাস করলে। বুদ্ধির বিকাশ হবে। মনঃসংযোগ ও স্মৃতিশক্তি বাড়বে। প্রবল মানসিক চাপের মধ্যে দিয়ে যেতে হয় যাঁদের, তাঁরা নিয়মিত এই আসন ও মুদ্রা অভ্যাস করলে যে কোনও জটিল পরিস্থিতিতেই মন শান্ত রাখতে পরবেন। অত্যধিক উত্তেজনা ও উৎকণ্ঠা কমবে।