সম্প্রতি সব ধরনের ক্রিকেট থেকে নিজের অবসরের কথা ঘোষণা করেছেন অজিঙ্ক রাহানে। অর্থাৎ, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পাশাপাশি ঘরোয়া ক্রিকেট ও আইপিএলেও আর দেখা যাবে না তাঁকে। আর এখন ক্রিকেটজীবনের গোড়ার দিকের দিনগুলির স্মৃতি রোমন্থন করছেন প্রাক্তন ক্রিকেটার।
ফিটনেস, পুষ্টিকর খাবার ইত্যাদি নিয়ে অবগত ছিলেন না অজিঙ্ক। একটি সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ‘‘অনুশীলনের শুরুর দিকে আমি কিছুই জানতাম না যে, কী কী খাওয়া উচিত, কেমন ব্যায়াম করা উচিত। কিন্তু পরবর্তী কালে খেলতে খেলতে নিজের শরীরকে চিনতে পারি। কোন ব্যায়ামে আমার শরীরে কী প্রভাব পড়ছে, কোন খাবারে কী হচ্ছে, তার দিকে নজর দেওয়া শুরু করি। এই নিয়মেই ফিটনেস সম্পর্কে জানতে শিখি।’’
ফিট থাকতে বা ওজন কমাতে মিষ্টির থেকে শতহাত দূরে থাকেন অনেকে। কিন্তু প্রাক্তন ক্রিকেটার কোনও খাবারকেই পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার পক্ষপাতী নন। বরং কী পরিমাণে খাচ্ছেন এবং প্রতি দিনের খাদ্যাভ্যাস কতটা ভারসাম্যপূর্ণ, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ তাঁর কাছে। অন্যান্য অ্যাথলিটদের মতো কৃচ্ছ্রসাধনে বিশ্বাসী নন তিনি। কতটা কার্বোহাইড্রেট, কত পরিমাণে প্রোটিন, এ ভাবে হিসেব কষে খান না অজিঙ্ক। নিজেকে বঞ্চিত করতে চাননি কোনও দিন। রাহানের কথায় জানা যায়, তিনি মিষ্টি খেতে খুবই ভালবাসেন। সুযোগ পেলেই মিষ্টি খেয়ে ফেলেন। তবে সেই ভালবাসা কখনও তাঁর রোজের খাদ্যাভ্যাসকে নিয়ন্ত্রণ করতে দেয়নি। তিনি বিশ্বাস করেন, শরীরের যত্ন নিতে চাইলে সংযমের কোনও বিকল্প নেই। তাই পছন্দের খাবার খান ঠিকই, কিন্তু পরিমিত পরিমাণে।
আরও পড়ুন:
আসলে অজিঙ্কের কাছে ডায়েট এবং শারীরচর্চার ধরনের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ, একটানা নিয়ম মেনে চলা। তাঁর বিশ্বাস, একই কাজ একই ভাবে রোজ করলে শরীর ফিট হতে বাধ্য। আর সেই মন্ত্রেই এত দিন ভারতীয় ক্রিকেট দলে খেলেছেন তিনি।
আজকাল ওজন কমানোর তাড়নায় অনেকেই প্রিয় খাবার সম্পূর্ণ বাদ দিয়ে দেন। কিন্তু তাতে অনেক সময়ে সেই খাবারের প্রতি আকর্ষণ আরও বেড়ে যায়। অজিঙ্কের জীবনযাত্রা মনে করিয়ে দেয়, সুস্থ থাকার জন্য সব আনন্দ থেকে নিজেকে বঞ্চিত করার প্রয়োজন নেই। পরিমিত খাবার, ঘরোয়া রান্না, নিয়মিত শারীরচর্চা এবং ভারসাম্যপূর্ণ যাপনই দীর্ঘদিন ফিট থাকার সবচেয়ে সহজ পথ।