হিন্দি ধারাবাহিকের সফল অভিনেতা থেকে সফল প্রযোজকও। কিন্তু ‘রামায়ণ’ ছবিতে লক্ষ্মণ হিসাবে অভিনয়ের পর জীবন পাল্টে গিয়েছে তাঁর। এমনই দাবি রবি দুবের। তাঁর কথায়, ‘‘এটা আমার সৌভাগ্য যে, রামকথায় অভিনয় করার জন্য আমাকে বেছে নেওয়া হয়েছে। এ নিশ্চয়ই আমার মা-বাবার পুণ্যের ফল।’’ ছবির প্রচার-ঝলক মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই রবিকে নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তাঁর পেশিবহুল, সুঠাম চেহারা মুগ্ধ করেছে অনুরাগীদের।
এই রবিই ফিটনেসের প্রতি তাঁর নিষ্ঠার প্রমাণ দিয়েছিলেন ২০২১ সালে। মাত্র এক মাসে ১০ কেজি ওজন ঝরানো থেকে শুরু করে পেশিবহুল চেহারা বানিয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন রবি।
ওজন কমাতে গেলে না খেয়ে থাকতে হবে, দামি সাপ্লিমেন্ট খেতে হবে কিংবা ঘণ্টার পর ঘণ্টা শারীরচর্চা করতে হবে— এমন ধারণা এখনও প্রচলিত। কিন্তু রবি দেখিয়েছিলেন, সঠিক পরিকল্পনা, নিয়ন্ত্রিত খাওয়াদাওয়া এবং নিয়মিত শারীরচর্চা করলে অল্প সময়েও আমূল পরিবর্তন সম্ভব। অবশ্য সেই পরিবর্তন রাতারাতি নয়, বরং শৃঙ্খলার ফল।
রবি কোনও সাপ্লিমেন্ট বা প্রোটিন শেকের উপর নির্ভর করেননি। ছবি: সংগৃহীত
২০২১ সালে কোভিডে আক্রান্ত হন তিনি। সে সময়ে পঞ্জাবে নিজের বাড়িতে গিয়ে থাকছিলেন। ফলে সেরে ওঠার সময়ে ভাল করে খাওয়াদাওয়া করতে হয়। কিন্তু তাতে ওজন বেড়ে যায়। তার পর হঠাৎই এক মাসের মধ্যে একটি শুট পড়ে যায় তাঁর। এ দিকে শুটের জন্য উপযুক্ত চেহারা তৈরি ছিল না রবির। ১০ কেজি ওজন কমানোর দরকার পড়ে তাঁর। ব্যস, শুরু হল ওজন কমানোর যাত্রা। কী ভাবে লক্ষ্য পূরণ করেন পর্দার ‘লক্ষ্মণ’?
গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে তাঁর খাদ্যাভ্যাস। রবি কোনও সাপ্লিমেন্ট বা প্রোটিন শেকের উপর নির্ভর করেননি। বরং তিনি এমন একটি খাদ্যতালিকা অনুসরণ করেছিলেন, যেখানে শরীরের প্রয়োজনের তুলনায় কিছুটা কম ক্যালোরি গ্রহণ করা হয়। একে বলা হয় ক্যালোরি ঘাটতির খাদ্যাভ্যাস। অর্থাৎ, শরীর যত ক্যালোরি খরচ করছে, তার তুলনায় কিছুটা কম ক্যালোরি খাবার থেকে নিচ্ছে। ফলে শরীর জমে থাকা চর্বি থেকে শক্তি নিতে শুরু করে এবং ধীরে ধীরে ওজন কমতে থাকে।
তবে ডায়েটের সঙ্গে সঠিক পরিমাণে ব্যায়াম না করলে এই ভাবে ওজন কমানো সম্ভব ছিল না রবির পক্ষে। রোজ দেড় ঘণ্টা ভারোত্তোলনের ব্যায়াম করতে হত সকালে। বিকেলে ১০ কিলোমিটার জগিং করতেন রবি।
আরও পড়ুন:
রবি জানিয়েছেন, এত শারীরচর্চা করার পরেও তিনি কোনও ধরনের সাপ্লিমেন্ট ব্যবহার করেননি। তবু তাঁর পেশির শক্তি অনেকটাই ধরে রাখা সম্ভব হয়েছিল। এই অভিজ্ঞতার পর তিনি বুঝেছিলেন, দীর্ঘ দিন সুস্থ থাকতে হলে অল্প সময়ের কঠোর ডায়েট নয়, বরং পরিমিত খাবার, নিয়মিত শারীরচর্চা এবং শৃঙ্খলাকেই জীবনযাপনের অংশ করে তোলা প্রয়োজন।