Advertisement
E-Paper

উৎসবে লাগামছাড়া খাওয়াদাওয়া? পেটের অস্বস্তি কমাতে পরিস্থিতি বুঝে ৫টি কৌশল মেনে দেখুন

ছুটি শেষ, এ দিকে শরীর ধুঁকছে। অতিরিক্ত খাওয়াদাওয়ার পর পেট ভার, গ্যাস, পেটফাঁপা কিংবা কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই উৎসবের পরে শরীরকে আবার পুরনো ছন্দে ফেরানোর সময় এসেছে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৫ অক্টোবর ২০২৬ ১৮:০৬
অতিরিক্ত খাওয়া হয়ে গেলে কী কী করবেন?

অতিরিক্ত খাওয়া হয়ে গেলে কী কী করবেন? ছবি: সংগৃহীত।

উৎসব মানেই জমিয়ে খাওয়াদাওয়া। কখনও মিষ্টি, কখনও ভাজাভুজি, আবার কখনও বাইরে খেতে গিয়ে পেট যে কখন ভরে গিয়েছে, খেয়ালই থাকে না! কিন্তু উৎসবের মরসুম পেরোতেই শুরু হয় চিন্তা। ছুটি শেষ, এ দিকে শরীর ধুঁকছে। পেট ভার, গ্যাস, পেটফাঁপা কিংবা কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই উৎসবের পরে শরীরকে আবার পুরনো ছন্দে ফেরানোর সময় এসেছে।

এমন সময়ে অনেকেই কড়া ডায়েট শুরু করেন, কেউ আবার নানা রকম পানীয় খেয়ে শরীর থেকে সমস্ত ক্ষতিকর পদার্থ বার করে দেওয়ার চেষ্টা করেন। দিল্লি নিবাসী পুষ্টিবিদ লভনীত বাত্রা তাঁর ইনস্টাগ্রাম পোস্টে উৎসবের মরসুমে অতিরিক্ত খাওয়াদাওয়ার পর কিছু সহজ অভ্যাসের কথা জানিয়েছেন। তাঁর পরামর্শে রয়েছে পাঁচটি বিশেষ কৌশল।

১. অতিরিক্ত মদ্যপান: উৎসবের সময়ে অতিরিক্ত মদ্যপান করলে পরের দিন শরীর খারাপ লাগতে পারে। পুষ্টিবিদ লভনীতের পরামর্শ, চার ঘণ্টা মেথি ভিজিয়ে রেখে সেই জল এবং ভেজানো মেথি চিবিয়ে খাওয়া যেতে পারে খালি পেটে। পার্টিতে যাওয়ার আগেও এই অভ্যাস মেনে চলা যেতে পারে। তাঁর বক্তব্য, মেথিতে থাকা প্রাকৃতিক জেলজাতীয় উপাদান ও অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট পাকস্থলীর আস্তরণকে সুরক্ষা দিতে এবং লিভারে ক্ষতিকর পদার্থ প্রক্রিয়াকরণের কাজে সাহায্য করতে পারে। তবে মনে রাখা দরকার, মেথি ভেজানো জল মদ্যপানের ক্ষতি ঠেকায় কিংবা শরীর থেকে অ্যালকোহল দ্রুত বার করে দেয়, এমন নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই।

২. অতিরিক্ত মিষ্টি: রসগোল্লা, সন্দেশ কিংবা অন্যান্য মিষ্টি খাওয়ার পরে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ে চিন্তা হয় অনেকেরই। এ ক্ষেত্রে সহায় হতে পারে অ্যাপল সাইডার ভিনিগার। পুষ্টিবিদ এক চা-চামচ অ্যাপল সাইডার ভিনিগার ৩০০ মিলিলিটার জলে মিশিয়ে দুপুর ও রাতে খাবার খাওয়ার ১৫ মিনিট আগে পান করার পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর মতে, ভিনিগারে থাকা অ্যাসিটিক অ্যাসিড কার্বোহাইড্রেট ভাঙার প্রক্রিয়াকে ধীর করতে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বেড়ে যাওয়া কমাতে সাহায্য করতে পারে।

৩. অতিরিক্ত ভাজাভুজি: দুর্গাপুজো, লক্ষ্মীপুজোয় সকালে লুচি না খেলে চলে? সন্ধ্যায় আবার সিঙাড়া, চপ কিংবা অন্যান্য ভাজাভুজি। কিন্তু তেলে ভাজা খাবার খাওয়ার পর অনেকেরই পেট ভার হয়ে থাকে। এই পরিস্থিতিতে পুষ্টিবিদ এক চা-চামচ ইসবগুলের ভুসি ৩০০ মিলিলিটার জলে মিশিয়ে খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। দুপুর ও রাতে খাওয়ার আগে কিংবা পার্টিতে যাওয়ার আগে এটি খাওয়ার কথা বলেছেন তিনি।

৪. অতিরিক্ত বাইরের খাবার: একদিন চাইনিজ়, অন্যদিন ইটালির খাবার, কখনও মোগলাই, কখনও আবার কোরিয়ান, সপ্তাহভর বাইরের খাবার খেয়েছেন। উৎসবের সময়ে বাড়ির খাবারের বদলে রেস্তরাঁর খাওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়। তেল-মশলাযুক্ত খাবার এবং নুন বেশি খাওয়ার ফলে কারও কারও পেটফাঁপা কিংবা গ্যাসের সমস্যা হতে পারে। পুষ্টিবিদের পরামর্শ, জোয়ান, জিরে ও মৌরি দিয়ে তৈরি গরম জল দিনে দু’বার পান করা যেতে পারে। তাঁর মতে, এই পানীয় হজমে সাহায্য করতে এবং পেটফাঁপার অস্বস্তি কমাতে পারে।

৫. অতিরিক্ত ময়দা: পার্টিতে পিৎজ়া, বার্গার, নান, কেক বা অন্যান্য ময়দার খাবার খাওয়া হয়েছে? এ ধরনের পরিশোধিত শস্যে ফাইবারের পরিমাণ তুলনায় কম থাকে। ফলে খাদ্যতালিকায় ফাইবারের অভাব থাকলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দেখা দিতে পারে। লভনীতের মতে, এক চা-চামচ চিয়া বীজ ভাল করে ভিজিয়ে এক গ্লাস গরম জলে মিশিয়ে সকালে অথবা শোয়ার আগে খাওয়া যেতে পারে। চিয়া বীজে থাকা ফাইবার জল শোষণ করে জেলজাতীয় পদার্থ তৈরি করে। এটি মলের পরিমাণ বাড়াতে এবং মলত্যাগ করতে সাহায্য করতে পারে।

Overeating problems

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy