লিভারে জমা মেদ বড়ই নাছোড়বান্দা। তা সহজে কমতে চায় না। জীবনযাত্রার ধরন বদলে মেদ জমার পরিমাণ কমানো যায় ঠিকই, তবে ফ্যাটি লিভারের মতো অসুখ একেবারে নির্মূল করে ফেলা চাট্টিখানি কথা নয়। এর জন্য সারাজীবনই ওষুধ খেয়ে যেতে হয়, না হলে কঠিন ডায়েট ও শারীরচর্চার মধ্যে থাকতে হয়। তবে সম্প্রতি আমেরিকার মিশিগান মেডিসিনের গবেষকেরা একটি নতুন ওষুধ তৈরি করে দাবি করেছেন যে, ফ্যাটি লিভারও নির্মূল করা যাবে ওষুধ খেয়ে। শুধু তা-ই নয়, নতুন ওষুধ লিভারের পাশাপাশি হার্টও ভাল রাখবে। অন্ত্রের জটিল রোগের ঝুঁকিও কমাবে।
ওষুধটি এক প্রকার ট্রাইপেপটাইড, যা লিভারের জটিল রোগ ‘মেটাবলিক অ্যাসোসিয়েটেড স্টিয়েটোহেপাটাইটিস’ (মাশ) সারানোর জন্যই তৈরি করা হয়েছে। এর নাম ‘ডিটি-১০৯’। ফ্যাটি লিভার চুপিসারে ডালপালা মেলে শেষে লিভারের আরও এক জটিল রোগ তৈরি করছে, যার নাম ‘মেটাবলিক ডিসফাংশন-অ্যাসোসিয়েটেড স্টিয়েটোহেপাটাইটিস’। লিভারে যদি ১০ শতাংশের বেশি মেদ জমে যায়, তখন তা ধীরে ধীরে এই রোগের দিকে বাঁক নেয়। এই রোগ ফ্যাটি লিভারেরই একটি ধরন, তবে তার চেয়েও মারাত্মক। সহজে সারে না। আর এই রোগটি শরীরে বাসা বাঁধলে তা প্রথমে সিরোসিস ও পরে লিভার ক্যানসারের কারণও হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন গবেষকেরা। এই অসুখের সঙ্গে লড়াই করার মতো ওষুধ বাজারে এখন তেমন নেই। তবে নতুন ওষুধটি কার্যকর হলে, এই রোগটিও নির্মূল করা যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
লিভারের যাবতীয় ক্রিয়াকলাপ নিয়ন্ত্রণ করে যে সব জিন, তাদের উপর খবরদারি করে ‘এমআইআর-৯৩’। এটি একধরনের আরএনএ (রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড), যার কাজই হল লিভারে প্রদাহ তৈরি করা। এই উপাদানটির মাত্রা যদি বেড়ে যায়, তা হলে বিপাকক্রিয়ার হার কমে যাবে। লিভারে মেদ জমবে। ‘এমআইআর-৯৩’ উপাদানটিকে তাই দমিয়ে রাখতে পারলেই লিভারের রোগ হবে না, এমনই ধারণা বিজ্ঞানীদের। আর সে কাজটি করার জন্য নতুন ওষুধটিকে সে ভাবেই তৈরি করা হয়েছে। তবে ওষুধটির কাজ কেবল লিভার ভাল রাখা নয়, এটি রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল কমিয়ে হার্টও ভাল রাখতে পারবে বলে দাবি। এখনকার দিনে অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণে অন্ত্রের নানা রোগও হচ্ছে। হজমশক্তি দুর্বল হয়ে যা লিভারের উপরেও প্রভাব ফেলছে। কাজেই অন্ত্রকে ভাল রাখাও জরুরি। নতুন ওষুধটি সে কাজও করতে পারবে বলে আশা করছেন গবেষকেরা।
গবেষণাগারে ইঁদুরের উপর পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে, ওষুধটি অন্ত্রে ক্ষতিকর ব্যাক্টেরিয়ার বাড়বৃদ্ধি বন্ধ করে দেয় ও অ্যামোনিয়ার উৎপাদন কমিয়ে দেয়। এর ফলে অন্ত্র ঠিকমতো কাজ করতে পারে ও লিভারে টক্সিন পৌঁছোনো বন্ধ হয়, যা প্রকারান্তরে লিভারের প্রদাহ কমিয়ে জমে থাকা মেদ গলিয়ে বার করে দিতে পারে। মিশিগান ইউনিভার্সিটির তৈরি ওষুধটির পরীক্ষা নিরীক্ষা মানুষের উপরেও শুরু হবে। তা সফল হলে এ দেশেও ওষুধটি আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।