উত্তরপ্রদেশে ভেজাল চা তৈরির কারখানায় হানা দিয়ে প্রায় ৮০০ কেজি রাসায়নিক মেশানো চা-পাতা বাজেয়াপ্ত করেছে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স এবং ফুড সেফটি অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফএসডিএ) যৌথ দল। সেই কারখানা থেকে বিপুল পরিমাণে ভেজাল চা-পাতা তো উদ্ধার হয়েইছে, পাশাপাশি কেজিখানেক কৃত্রিম রং ও নানা রকম রাসায়নিকও পাওয়া গিয়েছে। সেই সব রাসায়নিক মিশিয়েই ওই চা-পাতা প্যাকেট করা হচ্ছিল বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনার পরে নড়েচড়ে বসেছে খাদ্যের গুণমান নিয়ন্ত্রক সংস্থা এফএসএসএআই। গ্রাহকদের সতর্ক করে জানানো হয়েছে, চা-পাতা কেনার সময়ে সাবধান হতে হবে। যে চা-পাতা বাজার থেকে কিনছেন, তা আদৌ খাঁটি না ভেজাল মেশানো, তা বোঝা খুব জরুরি।
চা-পাতায় কী কী ভেজাল মেশানো হয়?
চায়ের লিকারের রং আরও আকর্ষণীয় করতে নানা রকম রাসায়নিক মেশানো হয়, যেমন— বিসমার্ক ডাই নামে এক ধরনের রং মেশানো হয় যা কারখানায় কাপড় রাঙাতে ব্যবহার করা হয়। নিম্নমানের বা শুকিয়ে যাওয়া চা-পাতায় ওই রং মিশিয়ে দিলে সেটি দেখতেও তাজা লাগে ও সেই চায়ের লিকারেও সুন্দর রং আসে।
গ্রিন টি টাটকা দেখাতে তাতে সানসেট ইয়েলো নামে একপ্রকার কৃত্রিম রং মেশানো হয়। আবার পটাশিয়াম ফেরোসায়ানাইড নামে রাসায়নিকও মেশানো হয়। চায়ের লিকারে সবজেটে আভা আনতেই এই রাসায়নিক মিশিয়ে দেওয়া হয় যা পেটে গেলে লিভার ও কিডনির রোগ হতে পারে।
আরও পড়ুন:
চায়ের ওজন বাড়িয়ে বেশি মুনাফা লাভের জন্য কাঠের মিহিগুঁড়ো বা লোহার চূর্ণ মেশানো হয় তাতে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে চামড়ার কারখানার অত্যন্ত সূক্ষ্ম চামড়ার গুঁড়ো বা বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে চায়ের সঙ্গেও মিশিয়ে দেওয়া হয়।
ব্ল্যাক-টি বা কালো চায়ের দানাকে অতিরিক্ত কালো এবং চকচকে দেখাতে সামান্য পরিমাণে গ্রাফাইট বা কয়লার মিহিগুঁড়ো মিশিয়ে দেওয়া হয় অনেক সময়েই।
ভেজাল চা-পাতা চেনার উপায় কী?
ঠান্ডা জলের পরীক্ষা
চায়ের পাতা জলে দিয়ে ফোটালে তবেই লিকারের রং আসে। কিন্তু এক চামচ চা-পাতা ঠান্ডা জলে মিশিয়ে দেখুন। যদি চা-পাতা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই জল লালচে বা বাদামি রঙের হয়ে যায়, তবে বুঝতে হবে পাতায় কৃত্রিম রং মেশানো আছে। খাঁটি চা-পাতা ঠান্ডা জলে রং ছাড়ে না। দীর্ঘসময় ভিজিয়ে রাখলে হালকা সোনালি রং হতে পারে।
ফিল্টার পেপার বা ব্লটিং পেপার পরীক্ষা
একটি ফিল্টার পেপার বা সাধারণ ব্লটিং পেপারের উপর কিছুটা চা-পাতা ছড়িয়ে দিন। এ বার সামান্য জল ছিটিয়ে পেপারটিকে ভিজিয়ে নিতে হবে। কিছু ক্ষণ পর পাতাগুলি সরিয়ে পেপারটি জল দিয়ে ধুয়ে নিন। যদি কাগজের উপর কালচে, খয়েরি বা গাঢ় দাগ থেকে যায়, তবে নিশ্চিত যে তাতে কৃত্রিম রং মেশানো হয়েছে। কিন্তু চা খাঁটি হলে কাগজের উপর কোনও দাগ পড়বে না।
আরও পড়ুন:
চুম্বকের পরীক্ষা
একটি কাচের পাত্রে চায়ের গুঁড়ো নিন। এ বার ছোট চুম্বক নিয়ে ধীরে ধীরে চায়ের উপর ঘোরাতে থাকুন। চা খাঁটি হলে চুম্বকে কিছু লাগবে না। কিন্তু গুঁড়ো চায়ে লৌহচূর্ণ মেশানো থাকলে, তা চুম্বকের গায়ে আটকে যাবে। তখন বুঝবেন ভেজাল মেশানো আছে।
গন্ধ ও স্পর্শ
খাঁটি চা-পাতার একটি নিজস্ব মৃদু ও সতেজ সুগন্ধ থাকে। কিন্তু ভেজাল চায়ের গন্ধ অনেক সময় উগ্র বা রাসায়নিকের মতো হয়। এ ছাড়া খাঁটি চা-পাতা আঙুল দিয়ে চাপলে তা সহজে গুঁড়ো হয়ে যায় না, কিন্তু ভেজাল বা কাঠের গুঁড়ো মেশানো থাকলে তা খসখসে লাগে এবং হাতে নিয়ে ঘষলেই সেগুলি ভেঙে যায়।