পেটের মারাত্মক সংক্রমণ ঘটছে আমেরিকার নানা জায়গায়। সেখানকার সেন্টার ফর ডিজ়িজ় কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) জানিয়েছে, আমেরিকার প্রায় ১৮টি স্টেটে সাইক্লোস্পোরিয়াসিস নামে একধরনের রোগ ছড়িয়ে পড়ছে। মূলত পরজীবী থেকেই ছড়াচ্ছে এই রোগ। আক্রান্ত ৭০০ ছাড়িয়ে গিয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি অনেকে। সতর্কতা জারি হয়েছে দেশের নানা জায়গায়। পরজীবী ঘটিত এমন সংক্রমণের কথা এ দেশেও শোনা গিয়েছে আগে। রোগটি কী?
সাইক্লোস্পোরা কায়েটানেনসিস নামে এক পরজীবীর থেকে সংক্রমণ ঘটে। এই রোগ ছোঁয়াচে নয়, তবে দূষিত জল, খাবার এবং আক্রান্তের মল বা মূত্র থেকে রোগ ছড়াতে পারে। রোগটি কী কারণে ছড়াচ্ছে, তা নিশ্চিত করে জানাতে পারেনি আমেরিকার ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ), তবে কাঁচা সব্জি বা আধসেদ্ধ খাবার, উচ্চতাপে রান্না না হওয়া মাংস থেকে রোগটি ছড়াচ্ছে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
সাইক্লোস্পোরা পরজীবীটি যখন মানুষের অন্ত্রে প্রবেশ করে, তখন সাইক্লোস্পোরিয়াসিস রোগ হয়। এই পরজীবী দূষিত, পচা-বাসি খাবার, মলমূত্রে জন্মায়। সাইক্লোস্পোরিয়াসিস রোগটি পাবমেড থেকে একাধিক গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে গবেষকেরা জানিয়েছেন, শুধু রান্না খাবার নয়, কাঁচা শাকসব্জি, ফলমূল ও তরল খাবার থেকেও ছড়াতে পারে এই পরজীবী। বিশেষ করে স্যালাডে যে সব কাঁচা সব্জি ব্যবহার করা হয়, যেমন শসা, টম্যাটো, লেটুসপাতা, ধনেপাতা বা বেসিলপাতা, তার থেকে ছড়াতে পারে এটি। আবার ধনেপাতা, বেরি জাতীয় ফল থেকেও ছড়ায় সাইক্লোস্পোরা। পরজীবীটি সরাসরি এক জনের শরীর থেকে অন্য জনের শরীরে ছড়ায় না, তবে মল ও মূত্রের মাধ্যমে বাহিত হতে পারে।
সাইক্লোস্পোরিয়াসিস হলে রোগীর মারাত্মক ডায়েরিয়া হয়, পেটে যন্ত্রণা হতে থাকে। কিছু খেলেই বমি হয়ে যায়। সঙ্গে জ্বর, মাথাব্যথা, পেশির খিঁচুনি শুরু হয়। সংক্রমণ বেশি ঘটলে রোগীর পেশির অসাড়তাও দেখা দিতে পারে। এই পরজীবীর সংক্রমণ থেকে বাঁচতে টাটকা ফলসব্জি খেতেই বলছেন চিকিৎসকেরা। কাঁচা আনাজ ও ফল ভাল করে ধুয়ে তবেই খেতে বলা হচ্ছে। বাজার থেকে কিনে আনা শাকপাতা বা সব্জি অথবা ফলে যে কীটনাশক লেগে থাকে তার মধ্যেও জন্মাতে পারে পরজীবী, কাজেই সেগুলি শুধু জল দিয়ে ধুলে হবে না। বরং জলে সামান্য বেকিং সোডা বা ভিনিগার মিশিয়ে ধুতে হবে। রাস্তায় বিক্রি হওয়া নরম পানীয়, লস্যি, শরবত বা যে কোনও ফুড কালার মেশানো খাবার খেলেও রোগটি হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে।