তিনি বৃদ্ধ হতে চান না। শরীর ও মনে চিরতরুণ থাকার বাসনায় যা যা করা প্রয়োজন, তার সব কিছুই করে ফেলেছেন। যৌবন ধরে রাখতে গিয়ে বছরে প্রায় ১৬ কোটি টাকা খরচও করেন। আমেরিকার উদ্যোগপতি ধনকুবের ব্রায়ান জনসনকে এ কালের ‘যযাতি’ বলেই ডাকেন অনেকে। তিনি নিজেই জানিয়েছেন, নিয়মিত হাইপারবেরিক অক্সিজেন থেরাপি করিয়ে নিজের শরীরের বয়স অনেক কমিয়ে ফেলেছেন। শরীরের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে যৌবনের মতো সক্রিয় রাখতে হাজার রকম ওষুধ, সাপ্লিমেন্ট ও থেরাপি করান নিয়মিত। কিন্তু এ সব করতে গিয়েই কি বিপদ ঘনাল!
বিরল রোগে আক্রান্ত হয়েছেন ব্রায়ান জনসন। নিজেই জানিয়েছেন, তাঁর পাকস্থলী ধীরে ধীরে নষ্ট হতে বসেছে। পাকস্থলীর কোষ একে অপরকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। এমন রোগকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিভাষায় বলে ‘অটোইমিউন গ্যাস্ট্রাইটিস’। পাকস্থলী তার নিজের কোষকেই শত্রু ভেবে বসে। ফলে একটি কোষ অন্যটিকে ধ্বংস করতে ছুটে যায়। এ ভাবে বিপাকক্রিয়ার গতি কমতে থাকে। পাকস্থলী একটা সময়ে কাজ করাই বন্ধ করে দেয়।
আরও পড়ুন:
কী এই অটোইমিউন গ্যাস্ট্রাইটিস?
অটোইমিউন ডিজ়িজ় হল এমন রোগ, যেখানে নিজের কোষকে চিনতে পারে না শরীর। ফলে শরীরের কোষগুলি একে অপরের শত্রু হয়ে ওঠে। সাধারণত শরীরে ভাইরাস, ব্যাক্টেরিয়া বা কোনও পরজীবীর সংক্রমণ হলে শরীর অ্যান্টিবডি তৈরি করে সে সব জীবাণু ধ্বংস করে। কিন্তু অটোইমিউন রোগ হলে শরীর নিজের কোষের বিরুদ্ধেই এমন প্রোটিন তৈরি করে, যা নিজেরই ক্ষতি করতে শুরু করে। অটোইমিউন রোগ শরীরের নানা অঙ্গে হতে পারে। ব্রায়ানের তা হয়েছে পাকস্থলীতে। একেই বলা হচ্ছে অটোইমিউন গ্যাস্ট্রাইটিস। পাকস্থলীর কোষগুলি একে অপরকে জীবাণু ঠাহর করে ধ্বংস করতে শুরু করেছে। ব্রায়ানের কথায়, তাঁর পাকস্থলী নিজেই নিজেকে খেয়ে ফেলছে। ফলে খাবার পাকস্থলীতে গিয়ে পৌঁছোলে সেখানে পুষ্টিরস শোষিত হচ্ছে না। খাবার থেকে আয়রন, ভিটামিন বি১২, জ়িঙ্কের মতো খনিজ পাকস্থলীতে গিয়ে পৌঁছোচ্ছেই না। ফলে একদিকে যেমন পুষ্টির ঘাটতি হচ্ছে, তেমনই অন্যদিকে আয়রনের অভাবে রক্তাল্পতাও দেখা দিচ্ছে। বাইরে থেকে আয়রন, ভিটামিন ও অন্যান্য খনিজের সাপ্লিমেন্ট নিতে হচ্ছে ধনকুবের উদ্যোগপতিকে।
অটোইমিউন গ্যাস্ট্রাইটিসে আক্রান্তদের পাকস্থলীর ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি বেশি। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা বলছে, এই রোগ হওয়ার কারণ অনেকটাই জিনগত। তবে কেউ যদি দিনের পর দিন নানা রকম সাপ্লিমেন্ট নেন এবং শরীরে বিভিন্ন রকম থেরাপি নিয়মিত করান, তা হলে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। সে ক্ষেত্রে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও নষ্ট হতে শুরু করে। আর এমন রোগের নির্দিষ্ট কোনও চিকিৎসাও নেই। তবে ব্রায়ান আশা রাখছেন, খুব তাড়াতাড়ি এই রোগকে জয় করার উপায়ও তিনি বার করে ফেলবেন।