চল্লিশের পরে গিয়ে মহিলাদের নানা রকম শারীরিক ও মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। বিশেষ করে রজোনিবৃত্তি পর্বের কাছাকাছি সময় চলে এলে, তখন হরমোনের গোলমাল বেশি হয়। ইস্ট্রোজেন হরমোনের ক্ষরণ কমে যায়। ফলে নানাবিধ শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে থাকে। এক দিকে যেমন শরীরে নানা পরিবর্তন আসে, তেমনই বদলে যায় মনমেজাজ। সংসার, কাজকর্ম, ছেলেমেয়ের অজস্র ঝড়ঝাপটা সামলে জীবনের মধ্যপর্বে এসে যখন একটু থিতু হওয়ার সময়, তখনই রজোনিবৃত্তি নতুন সঙ্কট ডেকে আনে। প্রত্যেকের জন্য অভিজ্ঞতা এক রকম হয় না। তাই এ সময়ে শরীরচর্চা করলে দেহ ও মন, দুই-ই ভাল থাকবে। খুব সহজেই এই পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া যাবে।
কী কী ব্যায়াম করবেন?
মৎস্যেন্দ্রাসন
পা দু’টি টানটান করে ছড়িয়ে দিন। শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক থাকবে। এ বার বাঁ পা মুড়ে বাঁ হাঁটু ডান ঊরুর উপর রাখুন। শরীর উপরের অংশ বাঁ দিকে ঘুরিয়ে বাঁ হাত ডান হাঁটুর উপর রাখুন। ডান হাত পিঠের দিক দিয়ে ঘুরিয়ে পায়ের পাতা ধরে রাখুন। এই ভঙ্গিতে ২০ সেকেন্ড থেকে আগের অবস্থানে ফিরে আসুন। এই আসন অভ্যাসে বুকের পেশি প্রসারিত হবে, সেই অংশের লসিকা গ্রন্থিগুলিতে রক্ত সঞ্চালন সঠিক ভাবে হবে।
আরও পড়ুন:
উপবিষ্ট কোণাসন
ম্যাটের উপর দু’পা সামনের দিকে ছড়িয়ে পিঠ সোজা রেখে বসুন। শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক থাকবে। এ বার দুই পা দু’পাশে যতদূর সম্ভব প্রসারিত করতে হবে। দুই হাত দিয়ে দুই পায়ের আঙুল ধরতে হবে। ধীরে ধীরে মাথা ঝুঁকিয়ে মাটিতে স্পর্শ করুন। ২০ সেকেন্ড ওই ভঙ্গিতে থেকে আবার আগের অবস্থানে ফিরে আসুন।
বদ্ধ কোণাসন
প্রথমে কোমর-পিঠ টান টান করে ম্যাটের উপর বসুন। দুই হাঁটু ভাঁজ করে দুই পায়ের পাতা জননাঙ্গের কাছে টেনে আনুন। পায়ের পাতা মুখোমুখি প্রণামের ভঙ্গিতে রাখুন। এ বার লম্বা শ্বাস নিয়ে শরীর ঝুঁকিয়ে মাথা মাটি স্পর্শ করাতে হবে। এতে পেটে চাপ পড়বে। এই ভাবে ২০-৩০ সেকেন্ড থেকে আবার আগের অবস্থানে ফিরে যেতে হবে।