সকালে ঘুম থেকে উঠে নাক বন্ধ, গলায় খুসখুসে ভাব, কখনও আবার শুকনো কাশি। ঋতু বদলের সময়ে এমন সমস্যায় ভোগেন অনেকেই। বিশেষ করে তাপমাত্রার ওঠানামা, বাতাসের আর্দ্রতার পরিবর্তন এবং বায়ুদূষণ একসঙ্গে শ্বাসনালিতে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। নাক ও গলার ভিতরের আর্দ্র আবরণ শুকিয়ে গেলে জ্বালা বা অস্বস্তি আরও বাড়তে পারে। এই সময়ে ওষুধের পাশাপাশি খাবারদাবারের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। কারণ, সুষম আহার ও পর্যাপ্ত জল শরীরের স্বাভাবিক রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাকে আরও জোরদার করতে সাহায্য করে। কী কী বদল আনবেন রোজের খাদ্যাভ্যাসে?
খাওয়াদাওয়ায় কী বদল আনতে হবে এই সময়ে? ছবি: সংগৃহীত
১. উষ্ণ খাবার খাওয়া: নাক বন্ধ বা গলায় অস্বস্তি থাকলে উষ্ণ খাবার বেছে নিতে পারেন। স্যুপ, স্ট্যু, খিচুড়ি, নরম করে রান্না করা সব্জি বা ওট্সের মতো খাবার এই সময়ে আরাম দিতে পারে। তুলসী, আদা বা গোলমরিচ দিয়ে তৈরি চা-ও খেতে পারেন। উষ্ণ খাবার ও পানীয় গলার অস্বস্তি সাময়িক ভাবে কমাতে পারে। তবে খুব গরম খাবার বা পানীয় খাবেন না, তাতে মুখ ও গলার ভিতরের আবরণে জ্বালা হতে পারে। ফ্রিজের ঠান্ডা খাবার বার করেই না খেয়ে গরম করে খাওয়া উচিত। গলায় অস্বস্তি থাকলে ঠান্ডা জল বা আইসক্রিম খাবেন না। তা হলে তৎক্ষণাৎ পেশি সঙ্কুচিত হয়ে অস্বস্তি বেড়ে যেতে পারে।
২. ভাজাভুজি বাদ দেওয়া: ছাঁকা তেলে ভাজা, প্রক্রিয়াজাত বা মিষ্টিজাত খাবার শ্লেষ্মা তৈরি করতে পারে। তা ছাড়া বিপাকীয় স্বাস্থ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে তার ফলে। তার বদলে ঘরোয়া, গরম খাবার খাওয়া উচিত।
৩. বেশি জল খাওয়া: গরম গরম চা, টেংরির জ্যুস, স্যুপ বা লেবুর রস মেশানো ঈষদুষ্ণ জল পান করলে গলা আরাম পায়। এর ফলে ঋতু বদলের সময়ে শরীরের জলের ঘাটতির ঝুঁকিও কমে।
৪. মশলাপাতিতে জোর দেওয়া: প্রদাহনাশী গুণ রয়েছে, এমন কিছু মশলা এ ক্ষেত্রে উপকারী হতে পারে। যেমন, হলুদে রয়েছে কারকিউমিন, রসুনে রয়েছে অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল গুণ, তা ছাড়া আদা ও মধুও প্রদাহনাশক। গলার অস্বস্তি এবং কাশির জন্য এই মশলাগুলি বেশ কার্যকর।
৫. মরসুমি ফল খাওয়া: আমলকি, কমলালেবু, পেয়ারা ইত্যাদি ফলও এই সময়ে খাওয়া উচিত। এতে শরীরে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন সি পেলে গায়ে বল পাওয়া যায়।
৬. প্রোবায়োটিকের পরিমাণ বাড়ানো: টক দইয়ের মতো মজানো খাবার খেলে অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভাল থাকে। তাই বার বার পেটের অসুখে ভুগলে প্রোবায়োটিক খাবার পাতে রাখুন।