খেতে বসে হঠাৎ দাঁতে শিরশিরানি ব্যথা? কথা বলতেও কষ্ট? জল পান করতে গেলেও যন্ত্রণায় কাতরাতে হয়? দাঁতে অসহ্য ব্যথা গোটা দিন নষ্ট করে দিতে পারে। আচমকাই ব্যথা শুরু হলে অনেকেই বুঝতে পারেন না, কী করা উচিত। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করবেন, চিকিৎসকের দ্বারস্থ হবেন, না কি ঘরোয়া টোটকা মেনে ব্যথা কমানোর চেষ্টা করবেন? দিশাহারা হয়ে যান অনেকেই। তবে তৎক্ষণাৎ দাঁতের চিকিৎসককে না পেলে কয়েকটি সহজ পদ্ধতি মেনে দেখতে পারেন ঘরে। তাতে সাময়িক আরাম মিলতে পারে। তবে মনে রাখবেন, এগুলি দাঁতের সমস্যার স্থায়ী সমাধান নয়।
কী কী কারণে দাঁতে ব্যথা হয়? ছবি: সংগৃহীত
চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার আগে কী করবেন?
১. কুলকুচি করুন: প্রথমেই হালকা গরম জল দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন। দাঁতের ফাঁকে খাবারের কণা বা অন্য কোনও পদার্থ আটকে থাকলে তা বেরিয়ে যেতে পারে। এতে অস্বস্তি কিছুটা কমতে পারে।
২. ফ্লসিং করুন: দাঁতের ফাঁকে খাবার আটকে রয়েছে মনে হলে, তা পরিষ্কার করতে ডেন্টাল ফ্লস ব্যবহার করতে পারেন। তবে খুব সাবধানে করবেন। জোরে ফ্লস করলে মাড়িতে আঘাত লাগতে পারে। কোনও ধারালো কাঠি বা সুচ দিয়ে দাঁতের ফাঁক খোঁচানোর চেষ্টা করবেন না।
৩. নুনজল দিয়ে কুলকুচি করুন: এক কাপ হালকা গরম জলে আধ চা-চামচ নুন মিশিয়ে নিন। সেই জল দিয়ে কুলকুচি করে ফেলে দিন। গিলে ফেলবেন না। মুখের ভিতরটা পরিষ্কার রাখতে এবং মাড়ির অস্বস্তি সাময়িক কমাতে সাহায্য করতে পারে।
৪. ঠান্ডা সেঁক দিন: দাঁতের ব্যথার সঙ্গে গাল বা মুখের কোনও অংশ ফুলে গেলে পরিষ্কার কাপড়ে বরফের টুকরো মুড়ে গালের বাইরের দিকে ১০-১৫ মিনিট ধরে ঠান্ডা সেঁক দিতে পারেন। এতে ফোলা ভাব ও ব্যথা কিছুটা কমতে পারে। সরাসরি দাঁতের উপর বরফ লাগাবেন না। তবে যদি ঠান্ডা সেঁকে ব্যথা বেড়ে যায়, তা হলে তা থেকে বিরত থাকাই ভাল।
৫. প্রয়োজনে ব্যথার ওষুধ: প্রেসক্রিপশন ছাড়া পাওয়া যায় এমন ব্যথার ওষুধ সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে। যেমন, প্যারাসিটামল বা আইবুপ্রোফেন। তবে ওষুধের প্যাকেটে লেখা নির্দেশ মেনে খেতে হবে। শারীরিক অবস্থা, অন্য ওষুধ খাওয়ার অভ্যাস বা কোনও অসুখ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ খাবেন না। ব্যথা কমাতে নরম খাবার খান এবং যে পাশে ব্যথা হচ্ছে, সেই পাশ দিয়ে চিবোবেন না।
হঠাৎ দাঁতে ব্যথা হওয়ার কারণ কী?
দাঁতে হঠাৎ ব্যথা শুরু হওয়ার পিছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। সবচেয়ে পরিচিত কারণ দাঁতের ক্ষয়। মুখের ব্যাকটেরিয়া দাঁতের বাইরের স্তর নষ্ট করতে করতে ভিতরের নরম অংশে পৌঁছে গেলে মুশকিল। যেখানে স্নায়ু ও রক্তনালি রয়েছে। তাতে তীব্র যন্ত্রণা হতে পারে। দাঁতের ভিতরের এই অংশে প্রদাহ হলে তাকে পাল্পাইটিস বলা হয়। গভীর ক্ষয়, আঘাত বা দাঁতের কোনও চিকিৎসার পরেও এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ ছাড়া দাঁতে চিড় বা ফাটল ধরলে চিবোনোর সময়ে ব্যথা হতে পারে। দাঁতের গোড়ায় বা মাড়ির আশপাশে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ থেকে তৈরি হতে পারে ডেন্টাল অ্যাবসেস বা পুঁজ জমার সমস্যা। তা ছাড়াও মাড়ির প্রদাহ, দাঁতের ফাঁকে খাবার আটকে যাওয়া, দাঁতের গোড়ার অংশ উন্মুক্ত হয়ে পড়া বা আক্কেল দাঁত ওঠার সময়েও ব্যথা হতে পারে। কখনও সাইনাসের ব্যথাও দাঁত পর্যন্ত চলে যেতে পারে।