ডায়াবিটিস ধরা পড়লে মিষ্টি খাওয়ার প্রতি অনেকেরই আগ্রহ বেড়ে যায়। কড়া নিয়মে থাকতে গিয়ে মন যেমন হাঁপিয়ে ওঠে, জিভও চায় মিষ্টির স্বাদ। কিন্তু লোভে পড়লেই স্বাস্থ্যের ক্ষতি। তবে পুষ্টিবিদেরা বলছেন একটু কৌশলী হলেই পায়েসে কমতে পারে ক্যালোরি। তা হতে পারে ডায়াবেটিক বান্ধব।
পায়েসের মূল উপকরণ: চালের পায়েস খুবই জনপ্রিয়। সাধারণত গোবিন্দভোগ বা সুগন্ধি চাল দিয়ে পায়েস রান্না হয়। তবে ডায়াবেটিকদের জন্য বানাতে হলে কালো চাল বা কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্সের ( বিশেষ সূচক যা নির্দেশ করে খাবারটি খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা কতটা বাড়বে) চাল বেছে নিতে পারেন। চালের বদলে ছানা, মাখানা, গাজর, আপেল দিয়েও কিন্তু পায়েস হতে পারে।
শর্করা: পায়েস মিষ্টি খাবার। কিন্তু ডায়াবিটিস হলে চিনি খাওয়াই বারণ হয়ে যায়। স্বাস্থ্যকর বিকল্প হিসাবে বেছে নিতে পারেন মঙ্ক ফ্রুট সুইটনার, খেজুরবাটা, স্টিভিয়া। মঙ্ক ফ্রুটে রয়েছে প্রাকৃতিক শর্করা। খেতে মিষ্টি লাগলেও এতে ক্যালোরির পরিমাণ যৎসামান্যই।
ঘন দুধ: ঘন, ফ্যাটযুক্ত দুধে ক্যালোরির মাত্রা বেশি। এমন দুধ হজম করাও কঠিন। স্বাস্থ্যের খেয়াল রাখতে হলে ফ্যাটবিহীন দুধ বেছে নেওয়া ভাল। পায়েস ঘন করতে ছানা জল ঝেড়ে মসৃণ করে পায়েসে মিশিয়ে দিতে পারেন। দেওয়া যাবে মাখানার গুঁড়োও।
বাদাম: কাঠবাদাম, আখরোট, পেস্তা— এই ধরনের বাদাম একটু বেশি করে ব্যবহার করতে পারেন। এতে ক্যালোরি বাড়লেও, প্রোটিন থাকায় রক্তে শর্করার মাত্রা চট করে বাড়বে না। খেতেও ভাল হবে।
পরিমাণ: পায়েস খেলেও পরিমাণটি বেশি হলে মুশকিল। অনেকেই ভাবেন, এক দিন খাওয়া হচ্ছে, একটু বেশি হলে ক্ষতি কি? চিকিৎসক থেকে পুষ্টিবিদেরা বলছেন, দীর্ঘ দিন সুস্থ শরীরে থাকা, পছন্দের খাবার খাওয়ার জন্যই পরিমিতিবোধ জরুরি।