কতজন এমন বাঙালি আছে বলুন তো, যাঁরা লুচি পেলে বিরিয়ানি ফেলে খাবেন! অথচ স্বাস্থ্যসচেতন বলে সেই লুচিকে বিদায় জানিয়েছেন জীবন থেকে? সংখ্যাটা নেহাত কম নয়। সেই লুচিপ্রেমীদের জন্যই এই সুখবর। কারণ, লুচিতেও এখন পাওয়া যাবে প্রোটিন!
আদ্যোপান্ত সাদা ময়দা দিয়ে তৈরি ডুবোতেলে ভাজা এই খাবারটি প্রোটিনের জোগান কী ভাবে, দেবে সে কথা জানার আগে বোঝা জরুরি, একটি সাধারণ ময়দায় তৈরি মাঝারি মাপের লুচিতে কতটা ক্যালোরি আর কতখানি শর্করা থাকে?
মোটামুটি একটি ৪-৫ ইঞ্চি ব্যাসের লুচি যদি খুব মোটা বা খুব পাতলা না হয় এবং স্বাভাবিক তেল শোষণ করে, তবে প্রতিটি লুচিতে ১২০ - ১৫০ ক্যালোরি থাকে। শর্করার পরিমাণ লুচি প্রতি ১৮-২০ গ্রাম। অর্থাৎ চারটি লুচি খেলে শরীরে যাবে প্রায় ৮০ গ্রাম শর্করা। যা ইনসুলিন স্পাইক হওয়ার জন্য যথেষ্ট। আর শরীরের নানা অসুখের মূলে রয়েছে এই ইনসুলিন স্পাইক।
আরও পড়ুন:
পুষ্টিবিদেরা বলেন, এই সমস্ত ক্ষেত্রে ইনসুলিনের হঠাৎ বেড়ে যাওয়া রুখতে খাবার আগে প্রোটিন জাতীয় কিছু খাওয়া উচিত। তবে এখানে খাবারের সঙ্গেই প্রোটিনের ব্যবস্থা থাকছে। কারণ, লুচি তৈরিই হচ্ছে ছানার মতো স্বাস্থ্যকর প্রোটিন দিয়ে।
কী ভাবে বানাবেন?
উপকরণ: দেড় লিটার দুধের ছানা
১৫০ গ্রাম ময়দা বা আটা
স্বাদমতো চিনি/ গুড়/ মধু/ স্টিভিয়া (যেটা স্বাস্থ্যকর মনে হয়)
দেড় চা চামচ নুন
দেড় চা চামচ গোলমরিচের গুঁড়ো
১ চা চামচ কালোজিরে
১ চা চামচ গরমমশলা
১ চা চামচ জোয়ান
১ টেবিল চামচ ঘি
প্রয়োজন অনুযায়ী জল
প্রণালী: প্রথমে দুধ থেকে ছানা কাটিয়ে নিন। জল ঝরিয়ে নিন ছানা থেকে। ছানা ঠান্ডা হলে হাত দিয়ে একটু গুঁড়ো করে নিন।
ছানার মধ্যে একে একে মেশান ময়দা বা আটা, যে মিষ্টির বিকল্প বেছে নিয়েছেন সেই মিষ্টি, নুন। কালোজিরে, গরমমশলা। এই সব কিছু যখন খুব ভাল ভাবে মিশে যাবে, তখন দেবেন ঘি আর জোয়ান।
আরও এক বার ভাল ভাবে মিশ্রণটি মেখে নিয়ে প্রয়োজন মতো জল দিয়ে সাধারণ ময়দা মাখার মতোই মেখে নিন মণ্ড। এ বার লেচি কেটে শুধু ভাজার অপেক্ষা। তবে বেলার সময় একটু ঘি বা তেল মাখিয়ে নিলে সুবিধা হবে।