খাওয়ার পর বুক জ্বালা, টক ঢেঁকুর, গলা পর্যন্ত টক বা তেতো তরল উঠে আসা— অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যায় এই অস্বস্তিগুলি বেশ পরিচিত। খাবারের থেকে শুরু করে খাওয়ার সময়, ঘুমের ধরন এবং দৈনন্দিন কিছু অভ্যাসও কারও কারও ক্ষেত্রে এই সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই শুধু কোন খাবারটি বাদ দিতে হবে, তা নয়, খাওয়ার পর কী করছেন, সে দিকেও নজর দেওয়া জরুরি।
ক্যালিফোর্নিয়া নিবাসী গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট সৌরভ শেট্টী সম্প্রতি অ্যাসিড রিফ্লাক্স সামলানোর জন্য ছ’টি সহজ অভ্যাসের কথা জানিয়েছেন। তাঁর পরামর্শগুলির মধ্যে রয়েছে খাওয়ার পর হাঁটা থেকে শুরু করে ঘুমের ভঙ্গি বদলানো।
১. খাওয়ার পর চিনিহীন চুইংগাম
খাওয়ার পর পুদিনা ছাড়া, চিনি-মুক্ত চুইংগাম চিবোনোর পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসক। চুইংগাম চিবোলে লালা তৈরি ও গিলে ফেলার পরিমাণ বাড়ে। ফলে খাদ্যনালিতে উঠে আসা অ্যাসিড দ্রুত নীচের দিকে যেতে সাহায্য করতে পারে। তবে পুদিনা বা পিপারমিন্ট এড়ানো ভাল, কারণ কারও ক্ষেত্রে এটি রিফ্লাক্স বাড়িয়ে দিতে পারে।
আরও পড়ুন:
২. খাওয়ার পর হাঁটা
খাবার খেয়েই শুয়ে পড়া বা দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার বদলে হালকা হাঁটার অভ্যাস করতে পারেন। বিশেষ করে রাতের খাবারের পর অন্তত ১০ মিনিট হাঁটা রিফ্লাক্সের সমস্যা কমাতে সাহায্য করতে পারে বলে উল্লেখ করেছেন চিকিৎসক।
৩. পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট এবং চিনি বাদ
অ্যাসিড রিফ্লাক্স হলেই অনেকে প্রথমে ঝাল-মশলাদার খাবার বাদ দেন। কিন্তু সবার ক্ষেত্রে একই খাবার রিফ্লাক্সের কারণ হয় না। চিকিৎসকের পরামর্শ, অতিরিক্ত পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট ও চিনি কমানোর দিকেও নজর দেওয়া উচিত। নিজের ক্ষেত্রে কোন খাবারের পর সমস্যা বাড়ছে, তা খেয়াল করে বাদ দেওয়া উচিত।
৪. ঘুমের সময়ে মাথা উঁচু
রাতে অ্যাসিড রিফ্লাক্স বেশি হলে বালিশ দিয়ে বিছানার মাথার দিকটি ৬-৮ ইঞ্চি পর্যন্ত উঁচু করে রাখা যেতে পারে। এতে মাধ্যাকর্ষণের কারণে পাকস্থলীর অ্যাসিড খাদ্যনালিতে উঠে আসার প্রবণতা কমতে পারে।
৫. ঘুম ও নৈশভোজের ব্যবধান
রাতের খাবার খেয়েই বিছানায় শুতে চলে গেলে রিফ্লাক্স বাড়তে পারে। তাই ঘুমোনোর অন্তত ২-৩ ঘণ্টা আগে খাবার শেষ করার অভ্যাস করতে হবে। বিশেষ করে যাঁদের রাতে বুকজ্বালা বা টক ঢেঁকুরের সমস্যা বেশি, তাঁদের জন্য খাওয়ার সময়টি খুব গুরুত্বপূর্ণ।
৬. বাঁ দিকে কাত হয়ে ঘুমোনো
রাতে রিফ্লাক্স হলে ডান বা চিত হয়ে শোওয়ার বদলে বাঁ দিকে কাত হয়ে শোওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসক। এই ভঙ্গিতে পাকস্থলীর অ্যাসিড খাদ্যনালিতে উঠে আসার সময় কমতে পারে।
তবে অ্যাসিড রিফ্লাক্স বার বার হলে শুধু ঘরোয়া অভ্যাস বদলে সমস্যাটি ফেলে রাখা ঠিক নয়। দীর্ঘদিনের রিফ্লাক্স খাদ্যনালির ক্ষতি করতে পারে। উপসর্গ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। এই অভ্যাসগুলি সহায়ক হতে পারে, কিন্তু চিকিৎসার বিকল্প নয়।