রোগা হওয়ার জন্য জল। প্রতিটি অঙ্গ সুস্থ রাখার জন্য জল। পেশি সচল রাখার জন্য জল। শরীর থেকে দূষিত পদার্থ বার করার জন্য জল। মোটের উপর, জল ছাড়া সমগ্র শরীর অচল। লোকে বলে, সাধারণ জলই শ্রেষ্ঠ। কিন্তু বেশ কিছু বছর ধরে তারকাদের মধ্যে ক্ষারীয় জল বা অ্যালকালাইন ওয়াটার নিয়ে মাতামাতি নজরে আসছে। তা সে বিরাট কোহলি হোন বা নীতা অম্বানী, মলাইকা অরোরা হোন বা শেহনাজ় গিল। এই জল নাকি সাধারণ জলের থেকে বেশি পুষ্টিকর। তাই তো শয়ে শয়ে টাকা দিয়ে এক বোতল জল কিনছেন তারকারা।
এখন স্বাস্থ্যসচেতনদের মধ্যে অ্যালকালাইন জল নিয়ে আগ্রহ অনেকটাই বেড়েছে। অনেকেই মনে করেন, এই জল নাকি শরীরকে বেশি আর্দ্র রাখে, হজমক্ষমতা বাড়ায়, এমনকি নানা রোগ থেকেও সুরক্ষা দেয়। কিন্তু এই সব দাবির কতটা সত্যি? এই জল আদপে কী? আপনার জন্যও কি উপকারী?
সাধারণ জলের তুলনায় অ্যালকালাইন জলের অম্ল-ক্ষারের মান বা পিএইচ একটু বেশি, অর্থাৎ ৭-এর উপরে থাকে। অ্যালকালাইন জলের মধ্যে ক্যালশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়ামের মতো খনিজ উপাদান প্রবেশ করানো হয়। তাই এই জলের ক্ষারের পরিমাণও বৃদ্ধি পায়। সাধারণত এই ধরনের জলের পিএইচ মাত্রা ৮-৯.৫ পর্যন্ত হয়। পুষ্টিবিদেরা বলছেন, অ্যালকালাইন জল নিয়ে অযথা উচ্ছ্বাসেরও প্রয়োজন নেই, আবার একেবারে উড়িয়ে দেওয়ার দরকার নেই। অর্থাৎ এই জল শরীরের বাড়তি কিছু উপকার করে। কী সেগুলি?
অ্যালকালাইন ওয়াটার কতটা স্বাস্থ্যকর? ছবি: সংগৃহীত।
১. আর্দ্রতা বৃদ্ধি: পুষ্টিবিদদের মতে, অ্যালকালাইন জল শরীরে পর্যাপ্ত জলের জোগান বজায় রাখতে সাহায্য করে। পর্যাপ্ত জল পান করলে হজম করার ক্ষমতা বাড়ে, সারা শরীরে পুষ্টিউপাদান সরবরাহ বাড়ে এবং শরীরের স্বাভাবিক কাজকর্ম ঠিক থাকে।
২. পিএইচ ভারসাম্য বজায় রাখা: শরীরে অম্ল-ক্ষারের মান বা পিএইচ-এর ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য অ্যালকালাইন ওয়াটার কার্যকর হতে পারে। আসলে এখনকার খাদ্যাভ্যাসের ফলে শরীরে অ্যাসিডের মাত্রা বেশি হয়ে যায়। তখন ক্ষারীয় জল পান করলে অম্ল-ক্ষারের মান সঠিক জায়গায় আসতে পারে।
৩. হজমক্ষমতা বৃদ্ধি: পিএইচ-এর ভারসাম্য বজায় থাকে বলে এই জল হজমের জন্যও উপকারী হতে পারে। তবে এই উপকার পেতে শুধু অ্যালকালাইন ওয়াটার নয়, সুষম আহার এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুন:
৪. রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি: সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য শরীরে জলের মাত্রা ঠিক রাখা দরকার। অ্যালকালাইন ওয়াটার একাধিক শারীরবৃত্তীয় কাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, ফলে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পেতে পারে। অবশ্য সুস্থ যাপন, শারীরচর্চা, খাওয়াদাওয়ার অংশ হিসাবে ক্ষারীয় জল কার্যকর।
৫. পুষ্টির সরবরাহ: ক্যালশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়ামের মতো খনিজ থাকে। ফলে জলের মাধ্যমে সারা শরীরে পুষ্টিউপাদান সরবরাহ ভাল হয়। একাধিক শারীরবৃত্তীয় কাজে এই জলের ভূমিকা রয়েছে।
ঘরে বানাতে পারেন এই জল?
অল্প লেবুর রস এবং শসা দিয়ে সহজেই অ্যালকালাইন ওয়াটার বানানো যেতে পারে বাড়িতে। তবে দোকানে পাওয়া অ্যালকালাইন ওয়াটার এবং বাড়িতে বানানো ক্ষারীয় জলের উপাদানে তফাত থাকতে পারে।