ডায়াবিটিস কেবল বড়দের রোগ নয়। ছোটরাও আক্রান্ত হতে পারে। অনেক শিশু ছোট থেকেই ডায়াবিটিসের শিকার হয়। কেউ জন্মগত ভাবে জুভেনাইল ডায়াবিটিসে ভোগে, আবার কেউ পরবর্তী সময়ে টাইপ ১ ডায়াবিটিসে আক্রান্ত হয়। চিকিৎসকেরা বলছেন, রক্তে শর্করা বাড়তে থাকলে তার কিছু লক্ষণ ধরা পড়ে। বাবা-মায়েরা অনেক সময়েই সে সব লক্ষণ বুঝতে পারেন না। ফলে রোগও ধরা পড়ে দেরিতে। সন্তান ডায়াবেটিক কি না, তা বোঝার কিছু উপায় আছে।
রোগটি যাতে একেবারে গোড়াতেই ধরা পড়ে সে জন্য মূল ৪টি লক্ষণ খেয়াল করতে হবে— ১) শিশু ঘন ঘন প্রস্রাব করছে কি না, ২) শিশু স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি জল পান করছে কি না বা বারে বারেই তার জল পিপাসা পাচ্ছে কি না, ৩) ক্লান্তি বেড়েছে কি না এবং ৪) কোনও কারণ ছাড়াই ওজন কমে যাচ্ছে কি না। আরও একটি বিষয় খেয়াল করতে হবে। শিশু ঘন ঘন বিছানায় প্রস্রাব করে ফেলছে কি না। অনেক শিশুই তা করে, কিন্তু যদি দেখেন, দশ-বারো বছর বয়সের পরেও এমন হচ্ছে, তা হলে সতর্ক হওয়া জরুরি।
আরও পড়ুন:
বংশগত কারণে ডায়াবিটিস হতে পারে। আবার রোজের জীবনের অনেক ভুলভ্রান্তি ডায়াবিটিসের কারণ হতে পারে। চিকিৎসকেদের মতে, এখনকার ছেলেমেয়েরা বাইরে বেরিয়ে খেলতে অভ্যস্ত নয়। শিশুদের মন ভোলাতে বাবা-মায়েরা হাতে তুলে দিচ্ছেন মোবাইল। ফলে ছোট থেকেই শারীরিক কসরত কম হচ্ছে। তার উপর বাইরের খাবার খাওয়ার ঝোঁক তো রয়েছেই।
ডায়াবিটিসের কবল থেকে বাঁচাতে শিশুকে নির্দিষ্ট নিয়মে অভ্যস্ত করে তুলতে হবে। মা-বাবাকেও মানতে হবে কিছু নিয়ম। রান্না করতে ইচ্ছে করছে না বলে শিশুকে যথেচ্ছ ‘সাপ্লিমেন্ট’ বা বাইরে থেকে কেনা প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়ালে চলবে না। রাতে আট ঘণ্টা ঘুম, সকালে তাড়াতাড়ি উঠে শারীরচর্চা করা জরুরি। সেই সঙ্গে টিভি দেখার সময়ও কমিয়ে দিতে হবে।