শুধু মদ খেলেই যে ফ্যাটি লিভার হয়, সে ধারণা অতীত। আরও নানা কারণেই ফ্যাটি লিভার হতে পারে। তা ছাড়া এই অসুখ এখন শুধু বড়দের নয়, ক্রমশই তা ছোটদের মধ্যেও ছড়াচ্ছে। খিদে কম, পেট ফুলে থাকা বা ত্বকে তীব্র অ্যালার্জি লিভারের অসুখের লক্ষণও হতে পারে। অনেকেই ভাবেন, লিভারের রোগ মানেই জন্ডিসের উপসর্গ দেখা দেবে। তা না-ও হতে পারে। এমন কিছু লক্ষণ ফুটে ওঠে, যা সাধারণ ভেবে এড়িয়ে যান বাবা-মায়েরা।
কোন কোন লক্ষণ চিনে সতর্ক হবেন?
চোখের সাদা অংশ হলদেটে দেখাতে পারে। ত্বকেও হলুদ আভা দেখা দিতে পারে। এমনকি মলের রংও ফ্যাকাশে হয়ে যেতে পারে।
শিশুর প্রস্রাব যদি অতিরিক্ত গাঢ় হলুদ বর্ণের হয় এবং প্রস্রাবের পরিমাণ কমতে থাকে, তা হলে সতর্ক হতে হবে।
শিশু হঠাৎ খুব ক্লান্ত হয়ে পড়লে বা আগের তুলনায় কম সক্রিয় হয়ে গেলে তা খেয়াল করা প্রয়োজন। দীর্ঘদিন ধরে সবসময়ে ঘুম ঘুম ভাব এলে, খেলাধুলায় অনীহা দেখা দিলে, দুর্বল বোধ করলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
আরও পড়ুন:
শিশু যদি প্রায়ই পেটের উপরে ডানদিকে ব্যথার কথা বলে অথবা তার পেট যদি স্বাভাবিকের চেয়ে অতিরিক্ত শক্ত ও ফোলা মনে হয়, তখন সতর্ক হতে হবে।
শিশু যা-ই খাচ্ছে তা-ই হজম করতে পারছে না এবং ঘন ঘন বমি হচ্ছে, তা হলে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।
ত্বকে কোনও র্যাশ না থাকা সত্ত্বেও শিশু যদি সারা শরীরে তীব্র চুলকানির কথা বলে অথবা হাত-পায়ে বা শরীরের নানা অংশে কালশিটে পড়তে থাকে, তা হলে লিভারের রোগের লক্ষণ হতে পারে।
সতর্ক থাকতে এক বছর এবং তার বেশি বয়সি শিশুদের হেপাটাইটিসের টিকা দিয়ে রাখতে হবে।পাশাপাশি, শিশুর খাওয়াদাওয়ায় নজর দিতে হবে। পরিষ্কার জল খাওয়ান। খুব ভাল হয় যদি জল ফুটিয়ে খাওয়াতে পারেন। বাড়িতে বানানো হালকা খাবারই দিন শিশুকে। রাস্তা থেকে কেনা খাবার, কাটা ফল খাওয়াবেন না। জাঙ্ক ফুড খাওয়া একেবারেই বন্ধ করতে হবে।