মাথাব্যথার হাজার কারণ আছে। গ্যাস, অম্বল, মানসিক চাপ থেকে যেমন মাথাব্যথা হয়, তেমনই চোখের সমস্যার জন্যও মাথায় যন্ত্রণা হতে পারে। তবে কখন তা চোখের জন্য হচ্ছে, কখন মানসিক চাপ মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠছে, বোঝা শক্ত। চোখ থেকে সমস্যা হচ্ছে, বুঝবেন কী ভাবে?
১। কাছের বা দূরের জিনিস দেখায় সমস্যা থাকলে অর্থাৎ হাইপারোপিয়া বা মায়োপিয়ার ক্ষেত্রে দীর্ঘক্ষণ একটানা ল্যাপটপ বা ফোনের পর্দার দিকে তাকিয়ে থাকলে চোখের পেশিতে অত্যধিক চাপ পড়ে। টানা কাজ করার পর যদি মাথা ব্যথা শুরু হয়, কপালে ব্যথা করতে শুরু করে, তা হলে বুঝতে হবে সমস্যা চোখ থেকে হচ্ছে।
২। দেখতে অসুবিধা হওয়া, কোনও জিনিস ঝাপসা দেখা কিংবা দুটো দেখতে শুরু করলেও সতর্ক হওয়া জরুরি। যদি দেখা যায়, টিভি দেখলে বা ল্যাপটপে কাজ করলে মাথা ব্যথা করছে, আবার চোখ বুজে বিশ্রাম করলে তা কমে যাচ্ছে, তা হলে হতে পারে সেটি চোখের পাওয়ারের জন্য।
৩। কাছের জিনিস দেখার সময় চোখে বেশি চাপ পড়ে। কাছের বস্তুতে দৃষ্টি নিবদ্ধ করার পাশাপাশি চোখের মণিটিও সেই দিকে ঘোরাতে হয়। অনেক সময়ে কাছের জিনিস দেখতে অসুবিধা হলে মাথার যন্ত্রণা শুরু হয়। চোখে সেই কাজটি সহজে করতে না পারলে, পেশি এবং স্নায়ুতে চাপ পড়ে, যার জেরে সমস্যা হয়।
৪। মাথাব্যথা শুরু হওয়ার আগে চোখে আচমকা আলো বা কখনও অন্ধকার নেমে এলেও সতর্ক হওয়া দরকার। এটি এক ধরনের স্নায়বিক সমস্যা। একে বলে অকুলার মাইগ্রেন। ২০-৩০ মিনিটের মধ্যেই এক্ষেত্রে দৃষ্টি একদম স্বাভাবিক হয়ে যায়। ফলে চট করে পরীক্ষায় ধরা যায় না।
৫। ক্লাস্টার মাথাব্যথাও কখনও কখনও হয়। এ ক্ষেত্রে মাথার একপাশে ও এক চোখে যন্ত্রণা শুরু হবে। চোখ লাল হয়ে ফুলে ওঠে, অনবরত জল পড়তে থাকে। অত্যধিক পরিশ্রম, কম ঘুম, রাত জাগার অভ্যাসের কারণে এমন ব্যথা হতে পারে। এই ধরনের মাথা ব্যথা কয়েক মাস হয়, তার পর নিজেই কয়েক মাসের জন্য উধাও হয়ে যায়।
আরও পড়ুন:
মাথাব্যথা এড়ানোর উপায়
· ল্যাপটপ, মোবাইল স্ক্রিনের ব্লু লাইট থেকে অনেক সময়ে মাথা ব্যথা হয়। এ ক্ষেত্রে অ্যান্টি-গ্লেয়ার লেন্স যুক্ত চশমা ব্যবহার করা যায়।
· টানা কাজ করতে হলে ২০ মিনিট অন্তর ২০ সেকেন্ডের জন্য দূরে কোথাও চোখ রাখতে পারেন বা চোখ বন্ধ করতে পারেন। মনোযোগ দিয়ে কাজ করার সময়ে চোখের পাতা ফেলতে ভুলে যান অনেকে। তাতেও চোখের জল শুকিয়ে গেলে, চোখে জ্বালা দিতে পারে।
· পর্দার দিকে তাকিয়ে কাজ করার সময় মাথা ব্যথা করলে বিরতির সময় বাড়িয়ে নিতে পারেন।
সমস্যা বেশি হলে চক্ষু চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।