৪ বছরের পুত্রসন্তানকে আর দুধ খেতে দেন না অভিনেত্রী কাজল অগ্রবাল। এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে রয়েছে তাঁর আসন্ন ছবি ‘দ্য ইন্ডিয়া স্টোরি’। যদিও তার আগে থেকেই সচেতন ছিলেন তিনি। আর তাই তো সন্তানের এক বছর বয়স হতেই দুধ পান বন্ধ করে দিয়েছিলেন কাজল। তার বদলে বাড়িতে তৈরি পনির এবং দই খাওয়ান তিনি। তা ছাড়াও বাজারের ফর্দ থেকে বহু কিছু বাদ দিয়ে দিয়েছেন অভিনেত্রী। কী ভাবে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছোলেন কাজল?
দুগ্ধজাত পণ্য নিয়ে সতর্কতা। ছবি: সংগৃহীত
‘দ্য ইন্ডিয়া স্টোরি’তে অভিনয় করার সময় থেকেই অন্যান্য একাধিক খাবার বাজার থেকে কিনে আনার অভ্যাস ত্যাগ করেছেন কাজল। ছবিটি মূলত খাবারে ভেজাল মেশানোর তিক্ত সত্যের কথা তুলে ধরেছে। সমাজ ও জনস্বাস্থ্যের উপর খাদ্যে ভেজালের ভয়াবহ প্রভাব এবং এর নেপথ্যের সত্য উদ্ঘাটনই ছবিটির বিষয়বস্তু। তারই নায়িকা কাজলের বক্তব্য, এই ছবিটি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিয়েছে। সহজে যা পাওয়া যায়, তার পিছনে ছোটেন না আর। বরং খাটনির পথই বেছে নিয়েছেন পরিবারের, বিশেষ করে সন্তানের স্বাস্থ্যের জন্য।
তাঁর পরিবারে এখন বাজারের পনির বা দই প্রায় কেনাই হয় না। বাড়িতেই তৈরি হয় সব। কাজলের কথায়, তাঁদের বাড়িতে এখন ঘরেই পনির এবং দই বানানো হয়। এতে কী কী উপাদান ব্যবহার হচ্ছে, তা নিজেরাই জানেন। কোনও ভেজাল থাকে না। সরাসরি দুধ পান করলে তা থেকে সন্তানের স্বাস্থ্যহানির ঝুঁকির ভয় থেকেই এই সিদ্ধান্ত তাঁর।
দুধে প্রাকৃতিক ভাবেই ল্যাক্টিক অ্যাসিড থাকে। কিন্তু ভেজাল মেশানো থাকলে, তা থেকে নানা ধরনের জটিল রোগ হতে পারে। দুধে থাকা ল্যাক্টিক অ্যাসিড ব্যাক্টেরিয়া দুধের শর্করাকে অ্যাসিডে পরিণত করার ফলে দুধ টক হয়ে যায়, আর গরম বা আলোয় রাখলে এই ব্যাক্টেরিয়া আরও দ্রুত বংশবৃদ্ধি করায় অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে যায়। দুধে ভেজাল হিসেবে ইউরিয়া বা সোডা মেশালে শুরুতে অ্যাসিডের বিষয়টি চাপা পড়ে যায়। কিন্তু সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে দুধে পচন শুরু হয়। ফলে তা নষ্ট হয়ে গেলেও তা সহজে ধরা যায় না। তাই সরাসরি দুধ পান না করে তা থেকে পনির, দই ইত্যাদি বানিয়ে নেওয়াই উচিত বলে মনে করেন অভিনেত্রী।