Advertisement
E-Paper

মহারাষ্ট্রে দুধ ভেজালচক্রের হদিসের পরে আতঙ্ক! কী কী রাসায়নিক মেশানো হয়, সেগুলি কতটা ক্ষতিকর?

মহারাষ্ট্রে প্রায় ৯ কোটি টাকার দুধ ভেজালদুধের চক্রের হদিস পাওয়ার পরে আতঙ্কে ভুগছেন অনেকেই। বাড়িতে যে দুধ আসছে, তাতে ভেজাল আছে কি না, সে নিয়েও চিন্তা বেড়েছে। ভেজাল দুধকে আসলের মতোই দেখাতে কী কী রাসায়নিক মেশানো হয় তাতে?

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৫ জুলাই ২০২৬ ১৭:৪৬
Milk Adulteration in Maharashtra, the Dangerous Chemicals Lurking in Your Glass and Their Toxic Impact

ভেজাল দুধে কী কী রাসায়নিক মিশছে, তা শরীরের জন্য কতটা বিপজ্জনক? ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

দুধেও মিশছে বিষ। মহারাষ্ট্রে কোটি কোটি টাকার ভেজাল দুধের কারবারের হদিস পাওয়ার পরেই আতঙ্কে ভুগছেন অনেকে। বাড়িতে যে দুধের প্যাকেট আসছে তাতে ভেজাল নেই তো, চিন্তা এখানেই। মহারাষ্ট্রের ঘটনায় তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, দুধে পাম অয়েল, ডিটারজেন্ট ও আরও নানা রাসায়নিক মেশানো হয়েছে। এই সব রাসায়নিক ভেজাল দুধকে আসলের মতোই টাটকা দেখালেও, মানুষের শরীরের জন্য সেগুলি বিষ। দীর্ঘদিন ধরে এমন রাসায়নিক মিশ্রিত দুধ খেলে লিভার ও কিডনি বিকল হতে বাধ্য।

দুধের ব্যবসায়ে অধিক মুনাফা অর্জনের জন্য অসাধু ব্যবসায়ীরা সাধারণত দুধে জল মেশায়। কিন্তু শুধু জল মেশালে দুধ পাতলা হয়ে যায় এবং সহজেই তা বোঝা যায়। তাই ক্রেতাদের চোখকে ফাঁকি দিতে জল মেশানো পাতলা দুধকে একদম খাঁটি, ঘন এবং টাটকা দেখাতে রাসায়নিক উপায়ে তৈরি করা হয় সিন্থেটিক বা কৃত্রিম দুধ, যা দেখতে একেবারে আসলের মতো। দুধের প্রাকৃতিক প্রোটিন নকল করতে মেশানো হয় ইউরিয়া, স্টার্চ ও গ্লুকোজ়। দুধের স্বাভাবিক চর্বি বা ফ্যাট নকল করতে মেশানো হয় উদ্ভিজ্জ তেল। এমন দুধকে দীর্ঘদিন টাটকা রাখতে মেশানো হয় নানা রাসায়নিকও।

ভেজাল দুধে কী কী রাসায়নিক মিশছে?

ইউরিয়া

ইউরিয়া মূলত একটি নাইট্রোজেন সমৃদ্ধ সার। দুধে নাইট্রোজেনের পরিমাণ বৃদ্ধি করতে ইউরিয়া মেশানো হয় যাতে ল্যাব টেস্টে দুধের প্রোটিনের মাত্রা বেশি দেখায়। ইউরিয়া মিশ্রিত দুধ নিয়মিত খেলে কিডনি ও লিভারের মারাত্মক ক্ষতি হয়। ক্রনিক কিডনির রোগ হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ে।

ডিটারজেন্ট বা সাবান

দুধে উদ্ভিজ্জ তেল মেশানোর পরে ডিটারজেন্ট মেশানো হয়, যাতে তেলের সঙ্গে জল মিশে যেতে পারে এবং সাদা, ঘন ফেনা তৈরি হয়। এটি দেখে মনে হবে দুধ একেবারে টাটকা। ডিটারজেন্ট পাকস্থলীর কোষ নষ্ট করে দেয়। এটি পেটে গেলে তীব্র পেটব্যথা, বমি, বিষক্রিয়া হতে পারে। গ্যাস্ট্রিক আলসার হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ে।

কস্টিক সোডা বা সোডিয়াম হাইড্রক্সাইড

দুধ যাতে নষ্ট না হয়ে যায় বা অনেক দিনের পুরনো দুধ একেবারে তাজা দেখায়, সে জন্য কস্টিক সোডা মিশিয়ে দেওয়া হয়। এই রাসায়নিক রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয় এবং হৃদ্‌রোগের ঝুঁকিও বৃদ্ধি করে। খাদ্যনালি ও পাকস্থলীতে ক্ষত তৈরি করতে পারে।

ফরমালিন

কাঁচা মাছ বা মাংস সংরক্ষণের জন্য এই রাসায়নিক মেশানো হয়। দুধ যাতে অনেক দিন পর্যন্ত টাটকা থাকে, সে জন্য এই রাসায়নিক মেশান অসাধু ব্যবসায়ীরা। ফরমালিন আদতে কার্সিনোজেন (ক্যানসার সৃষ্টিকারী উপাদান থাকে)। এটি পেটে গেলে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়বে। তা ছাড়া অ্যালার্জি ও হাঁপানির সমস্যাও দেখা দেবে।

স্টার্চ

জল মেশানো পাতলা দুধের ঘনত্ব বৃদ্ধি করতে এটি মেশানো হয়। অনেক সময়ে গ্লুকোজ় পাউডারও মেশানো হয়। এটি সরাসরি রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যা ডায়াবিটিস রোগীদের জন্য বিপজ্জনক। দীর্ঘদিন ধরে স্টার্চ মেশানো দুধ খেলে লিভারের রোগ হওয়ার ঝুঁকিও বাড়বে।

পাম অয়েল

দুধে প্রোটিন ও ফ্যাটের মাত্রা সঠিক দেখাতে অসাধু ব্যবসায়ীরা এতে পাম অয়েল মিশিয়ে দেন। পাম অয়েল সহজে হজম হয় না। এটি পেটে গেলে ডায়েরিয়ার সমস্যা হতে পারে। এর থেকে লিভার ও কিডনির রোগ হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ে। পাম অয়েল শরীরে ক্যালশিয়াম ও ফ্যাট শোষণের হার কমিয়ে দেয় যা অপুষ্টিজনিত রোগের কারণ হয়ে উঠতে পারে।

food adulteration milk

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy