Advertisement
E-Paper

‘এনার্জি ড্রিঙ্ক’ নামটি বিভ্রান্তিকর! কী কী উপাদান থাকলে তা ক্ষতিকর, তালিকা দিল খাদ্য সুরক্ষা দফতর

পানীয়ের বোতল থেকে ‘এনার্জি ড্রিঙ্ক’ নামটি সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেশের খাদ্য সুরক্ষা দফতরের (এফএসএসএআই)। কী কী উপাদান থাকলে তাখাওয়া বিপজ্জনক হতে পারে, দিল সে তালিকাও।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৮ জুলাই ২০২৬ ১৬:৩০
Misleading \\\'Energy Drink\\\' Label, FSSAI Lists Ingredients to Avoid

এনার্জি ড্রিঙ্ক কেনার আগে লেবেল পড়ে নিন, কী কী লেখা থাকলে কিনবেন না? ফাইল চিত্র।

‘এনার্জি ড্রিঙ্ক’ কথাটিতে ঘোরতর আপত্তি দেশের খাদ্য সুরক্ষা দফতর (এফএসএসএআই)-এর। এই পানীয় পান করলেই যে শরীরে শক্তি আসবে, তেমনটা মোটেও নয়। বরং এই ধরনের পানীয়তে এমন কিছু উপাদান থাকে, যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর বলেই দাবি করা হয়েছে। এফএসএসএআই জানিয়েছে, এনার্জি ড্রিঙ্ক নাম দিয়ে যে পানীয় বিক্রি হচ্ছে, তাতে ভরপুর পরিমাণে রয়েছে ক্যাফিন ও কৃত্রিম রং, যা শরীরের জন্য ভাল নয়। তাই ‘এনার্জি ড্রিঙ্ক’ নাম দিয়ে কোনও পানীয় বিক্রি করা যাবে না বলেই নির্দেশ দিয়েছে তারা।

সম্প্রতি দেশের খাদ্য সুরক্ষা দফতরের তরফে একটি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ‘এনার্জি ড্রিঙ্ক’ নাম দিয়ে কোনও পানীয় বিক্রি করা যাবে না। এমনকি, পানীয়টি পান করলে শক্তি বাড়বে, শরীর চাঙ্গা হবে বা মনোযোগ বাড়বে, এমন বিভ্রান্তিকর কথাও লেখা যাবে না। কয়েকটি ব্র্যান্ডকে তাদের পণ্য থেকে ‘এনার্জি ড্রিঙ্ক’ কথাটি মুছে দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এফএসএসএআইয়ের পরামর্শ, এমন নাম লেখা পানীয় কেনার আগে তাতে কী কী উপাদান মেশানো আছে, তা ভাল করে জেনে নিতে হবে। পাশাপাশি দেখতে হবে, সেই উপাদানগুলি কী পরিমাণে আছে।

এনার্জি ড্রিঙ্কে কোন উপাদান কী পরিমাণে থাকলে তা ক্ষতিকর?

শক্তিবর্ধক পানীয় হিসেবেই বিক্রি হয় এনার্জি ড্রিঙ্ক। শপিং মল, রেস্তরাঁ-হোটেল— প্রায় সর্বত্র আজকাল এনার্জি ড্রিঙ্কসের ছোট-বড় বোতল, ক্যানের ছড়াছড়ি। অনেকেই ভাবেন, নরম পানীয় যতটা ক্ষতিকর, তার চেয়ে ভাল এনার্জি ড্রিঙ্ক। আসলে তা নয়। এনার্জি ড্রিঙ্কে প্রচুর পরিমাণে চিনি ও ক্যাফিন মেশানো হয়। তাই খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীর চনমনে হয়ে ওঠে, সতেজ লাগে। সে কারণেই এই পানীয়ের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। একটা সময়ে কেবল খেলোয়াড় মহলে এই পানীয়ের কদর ছিল, এখন সর্বত্রই। খাদ্য সুরক্ষা দফতর জানিয়েছে, একটি ২৫০-৩০০ মিলিলিটার এনার্জি ড্রিঙ্কের ক্যানে অন্তত ৯০-৯৫ মিলিগ্রাম বা তার বেশি ক্যাফিন থাকে। সাধারণত, ৩০ থেকে ৩২ মিলিগ্রামের মতো ক্যাফিন শরীরে সহ্য হয়, তার বেশি নয়। তাই এমন পানীয় বেশি খেলে হজমশক্তি দুর্বল তো হবেই, গ্যাস-অম্বল ও অ্যসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা বহু গুণে বেড়ে যাবে।

এনার্জি ড্রিঙ্কের একটি ক্যানে যদি ৪০-৫০ গ্রাম বা তার বেশি চিনির মাত্রা লেখা থাকে, তা হলে সেটি ক্ষতিকর। এমন পানীয় পান করলে ডায়াবিটিসের ঝুঁকি বাড়বেই।

এনার্জি ড্রিঙ্কে টরিন থাকেই। এটি এক ধরনের অ্যামিনো অ্যাসিড, যা পেশির সঞ্চালনে সাহায্য করে। মূলত উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে। বাণিজ্যিক এনার্জি ড্রিঙ্কে থাকা টরিনের পরিমাণ বেশি থাকে ও তা ক্যাফিনের সঙ্গে মিলে বিষক্রিয়া ঘটাতে পারে। যদি টরিনের পাশাপাশি জিনসেং, এল-কার্নিটিন নামে আরও কিছু উদ্দীপকের নাম লেখা থাকে, বুঝতে হবে সেই পানীয়টি পান করা নিরাপদ নয়।

লেবেলে যদি লেখা থাকে ‘হাই ফ্রুক্টোজ় কর্ন সিরাপ’, তা হলে সেটি লিভারের জন্য বিপজ্জনক।

এই ধরনের এনার্জি ড্রিঙ্কে কৃত্রিম চিনিও মেশানো থাকে। লেবেলে যদি সুক্রালোজ়, অ্যাসপারটেমের নাম থাকে, তা হলে বুঝতে হবে, সেটি নিয়মিত সেবনে পেটের সমস্যা হবেই।

রেড ৪০, ইয়েলো ৫, ইয়োলো ৬, ব্লু ১ এই ধরনের কৃত্রিম রঙের নাম থাকলে সেই পানীয়টি না কেনাই ভাল। এই ধরনের রং অ্যালার্জির সমস্যা বৃদ্ধি করে, লিভার ও কিডনির ক্ষতি করে।

Energy drink FSSAI Food Safety

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy