রক্তচাপ কেন বাড়ছে, তা নিয়ে মনের উপরেও চাপ বাড়ছে দিন দিন। ঘরে ঘরে উচ্চ রক্তচাপের রোগী। বয়স চল্লিশ পেরোলে আর কথাই নেই, রক্তচাপ যেন বশেই থাকছে না। দুশ্চিন্তা, কর্মক্ষেত্রের অতিরিক্ত চাপ, রোজের টানাপড়েনে রক্তচাপ যখন-তখন বেড়ে যেতে পারে। আর তা বিপদসীমা ছাড়িয়ে গেলেই হৃদ্রোগ বা স্ট্রোকের আশঙ্কা বাড়তে পারে। উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওষুধ খেতেই হয়, পাশাপাশি, রোজের জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাসেও নজর দিতে বলেন চিকিৎসকেরা।
বেশিরভাগ মানুষই ভাবেন ওষুধ খাচ্ছেন মানেই তিনি নিরাপদ। কিন্তু জানেন কি, ভুল সময়ে ওষুধ খাওয়া, একদিন ওষুধ না খাওয়া বা ওষুধ খেয়েই নুন-মশলাদার খাবার খেয়ে নেওয়া—এই ছোট ছোট ভুলগুলিই আপনার ওষুধকে অকেজো করে দিচ্ছে? ফলে রক্তচাপ কিছুতেই নিয়ন্ত্রণে থাকছে না। বাড়ছে হার্ট অ্যাটাক আর স্ট্রোকের ঝুঁকি। প্রেশারের ওষুধ শুধু গিলে নিলেই হয় না, এরও আছে কিছু নিয়ম।
কী কী নিয়ম মানতে হবে, জানালেন চিকিৎসক অন্বিত ভট্টাচার্য। চিকিৎসক বলেন, ‘‘প্রেশারের ওষুধ শুরুর পর মাথা ঘোরাচ্ছে বলে অনেকে নিজে থেকে বন্ধ করে দেন, এমনটা কখনওই করা উচিত নয়। প্রথম দু-এক সপ্তাহ সমস্যা হতে পারে, তারপর শরীর ওষুধের সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে।’’
আরও পড়ুন:
কী ভাবে খেতে হবে?
১) রোজ একই সময়ে খান, ঘুমোতে যাওয়ার আগে বা সকালে, চিকিৎসক যা বলেছেন সেভাবেই
২) প্রেশার মাপার আগে খাবেন না, রিডিং বদলে যেতে পারে
৩) একাধিক ওষুধ চললে সবগুলি একসঙ্গে খেয়ে নেবেন না, চিকিৎসকের নির্দেশ মতো ক্রম মেনে চলুন
৪) একদিন প্রেশার স্বাভাবিক দেখাচ্ছে মানে এই নয় যে ওষুধ বাদ দেওয়া যায়। প্রেশার স্বাভাবিক দেখাচ্ছেই কারণ ওষুধ কাজ করছে।
৫) অনেকে খরচ বাঁচাতে বা ভুলে গিয়ে মাঝেমধ্যেই ওষুধ বাদ দেন। এভাবেই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে প্রেশার ওঠানামা করে, আর দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতি বাড়ে।
কোন লক্ষণ দেখলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
১) শুকনো কাশি না কমা, একধরনের ওষুধে এটা হতে পারে, তখন ওষুধ বদলাতে হয়
২) পা ফুলে যাওয়া
৩) প্রস্রাব বেড়ে যাওয়া বা কমে যাওয়া
৪) অসম্ভব দুর্বলতা বা বারবার মাথা ঘোরানো
প্রেশারের ওষুধ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সারাজীবন চালাতে হয়, আর সেটাই স্বাভাবিক। নিয়মিত খেলে হার্ট, কিডনি আর ব্রেন, তিনটেই সুরক্ষিত থাকে।