সকালে ঘুম থেকে উঠে মুখে টক বা তেতো স্বাদ লাগছে? গলায় জ্বালাও হচ্ছে? আপনি ভাবছেন, রাতে কিছু উল্টোপাল্টা খেয়ে ফেলেছেন। কিন্তু খাবারকে দোষ না দিয়ে নিজের অভ্যাসের দিকে নজর দিতে হবে। প্রশ্ন উঠবে আপনারই কিছু আচরণের প্রতি। কারণ, সেখান থেকেই অ্যাসিড রিফ্লাক্স তৈরি হচ্ছে আর পরের দিন সকালে তার প্রভাব থেকে যাচ্ছে।
পাকস্থলীতে খাবার হজমের জন্য যে অ্যাসিড তৈরি হয়, তা কখনও কখনও উল্টো দিকে উঠে খাদ্যনালিতে চলে আসে। এই ঘটনাকেই বলা হয় অ্যাসিড রিফ্লাক্স। অ্যাসিড মুখ পর্যন্ত পৌঁছোলে সকালে ঘুম থেকে উঠে টক বা তেতো স্বাদ লাগতে পারে। কখনও গলায় জ্বালা, মুখে খাবার বা তরল উঠে আসার অনুভূতি বা একনাগাড়ে কাশিও হতে দেখা যায়।
অ্যাসিড রিফ্লাক্স কেন হয়? ছবি: সংগৃহীত
রাতে অ্যাসিড রিফ্লাক্স হওয়ার অন্যতম কারণ হল, রাতের খাবার খেয়েই শুয়ে পড়া। আপনি যখন সোজা হয়ে বসে বা দাঁড়িয়ে থাকেন, তখন মাধ্যাকর্ষণ শক্তি পাকস্থলীর খাবার ও অ্যাসিডকে নীচের দিকে নিয়ে আসতে পারে। কিন্তু শুয়ে পড়লে সেই সুযোগ থাকে না। ঘুমের সময়ে খাবার পাকস্থলোতে পৌঁছোনোর প্রক্রিয়ার গতিও কমে যায়। ফলে খাদ্যনালিতে উঠে আসা অ্যাসিড পরিষ্কার হতে বেশি সময় লাগে।
কোন কোন অভ্যাসে সমস্যা বাড়ে?
পাকস্থলীর অ্যাসিড উপরের দিকে উঠে আসার সম্ভাবনা বাড়ে রাতের কিছু ভুল অভ্যাসে, সেগুলি হল—
· দিনভর কম খেয়ে একসঙ্গে রাতে অনেকটা খাওয়া।
· গভীর রাতে বার বার মুখ চালানো।
· সন্ধ্যার পরে অতিরিক্ত কফি পান।
· রাতের খাবার খাওয়ার পর পরই শুয়ে পড়া।
· তবে এর পাশাপাশি পেটের অতিরিক্ত মেদও অ্যাসিড রিফ্লাক্সের একটি কারণ হতে পারে। পেটের ভিতরে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হলে পাকস্থলীর খাবারের টুকরো বা অ্যাসিড খাদ্যনালির দিকে উঠে আসতে পারে।
আরও পড়ুন:
কী করলে মিলতে পারে স্বস্তি?
১. নৈশভোজ ও ঘুমের মধ্যে ব্যবধান রাখুন: রাতে খাওয়ার অন্তত ২-৩ ঘণ্টা পরে ঘুমোতে যাওয়ার চেষ্টা করুন। কাজের চাপে দেরি হয়ে গেলে ঘুমের ঠিক আগে পেট ভরে ভারী খাবার না খেয়ে তুলনায় হালকা খাবার খাওয়া ভাল। খেয়েই বিছানায় শুয়ে পড়বেন না। মিনিট দশেক হেঁটে নিলে আরাম পেতে পারেন।
২. খাবারের পরিমাণে নজর দিন: একবারে অনেকটা খাবার না খেয়ে পরিমাণ বুঝে খান। পেট অতিরিক্ত ভর্তি হয়ে গেলে অ্যাসিড রিফ্লাক্সের অস্বস্তি বাড়তে পারে। কোন খাবার বা পানীয় খাওয়ার পর বার বার সমস্যা হচ্ছে, তা খেয়াল রাখুন।
৩. ঘুমোনোর ভঙ্গি বদলে দেখুন: রাতে অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা হলে বিছানার মাথার দিক কিছুটা উঁচু করে ঘুমোতে পারেন। বাঁ দিকে কাত হয়ে শুলেও কারও কারও ক্ষেত্রে উপসর্গ কমতে পারে।
৪. নিজে থেকে ওষুধ খাবেন না: মুখে টক স্বাদ পেলেই বার বার অ্যান্টাসিড বা অ্যাসিড কমানোর ওষুধ খেয়ে নেওয়া ঠিক নয়। এতে সাময়িক স্বস্তি মিললেও সমস্যার আসল কারণ থেকে যেতে পারে। খাবারের সময়, পরিমাণ, ঘুমের অভ্যাস এবং শরীরের ওজনের দিকে নজর দেওয়া বেশি কাজে আসে।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি?
মাঝেমধ্যে ভারী খাবার খাওয়ার পরে মুখে টক স্বাদ লাগলে তা নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বেগের প্রয়োজন নেই। কিন্তু নিয়মিত সকালে এমন হলে, ঘন ঘন বুক জ্বালা করলে বা ঘুমের ব্যাঘাত ঘটলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। খাবার গিলতে অসুবিধা, বার বার বমি, অকারণে ওজন কমে যাওয়া, এমন উপসর্গ থাকলেও অবহেলা করা উচিত নয়। এই সমস্ত কিছু গুরুতর রোগের উপসর্গ হতে পারে।