শিশুখাদ্যে চিনি মেশানোর অভিযোগ আগেও উঠেছে। বেশ কিছু নামী ব্র্যান্ডের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞাও জারি করা হয়েছে। সম্প্রতি কেন্দ্রের খাদ্য সুরক্ষা ও গুণমান নিয়ন্ত্রক সংস্থা (এফএসএসএআই)নির্দেশিকা জারি করে জানিয়েছে, ২ বছর নয়, ৬ মাসের নীচে শিশুর খাবারে চিনি মেশানো যাবে না। বাজারে যে সব শিশুখাদ্য বিক্রি হয়, সেগুলি যাচাই করে দেখা হবে। সামান্যতন চিনি, ফ্রুক্টোজ় বা সুক্রোজ় পেলে সেই খাবার নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হবে।
২ বছরের নীচে শিশুদের খাবারে চিনি মেশানো যাবে না, এমন নির্দেশিকাই ছিল আগে। এখন তা কমিয়ে ৬ মাস করা হয়েছে। আগের নিয়ম অনুযায়ী কার্বোহাইড্রেটের উৎস হিসাবে ল্যাকটোজ় বা গ্লুকোজ় পলিমারের পাশাপাশি নির্দিষ্ট মাত্রায় সুক্রোজ় বা ফ্রুক্টোজ় মেশানোর ছাড়পত্র ছিল। নতুন সংশোধনী কার্যকর হলে প্রথম ৬ মাসের জন্য এই ছাড় উঠে যাবে।
৬ মাসের নীচে শিশুদের জন্য কেন চিনি বিপজ্জনক?
শিশুর বৃদ্ধি এই সময়ে দ্রুত হয়। এই সময়টিকে বলা হয় ‘উইনিং পিরিয়ড’। তাই এমন খাবার দিতে হবে যাতে শিশুর পুষ্টি ও বৃদ্ধি তাড়াতাড়ি হয়। মস্তিষ্কের বিকাশও ঘটে। চিনি মস্তিষ্কের বিকাশে বাধা তৈরি করে। তা ছাড়া ওই বয়সে শিশুর লিভার ও অগ্ন্যাশয় পরিপক্ক থাকে না, তাই ফ্রুক্টোজ় বা সুক্রোজ় হজম করতে লিভারকে অতিরিক্ত চাপ নিতে হয় যা ভবিষ্যতে ফ্যাটি লিভারের আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলতে পারে।
অতিরিক্ত চিনি বা কৃত্রিম চিনি শিশুর শরীরে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। এর ফলে দ্রুত ইনসুলিন ক্ষরণ হয় যা শৈশবেই স্থূলতার কারণ হয়ে উঠতে পারে।
শিশুর বয়স ৬ মাসের কম থাকা অবস্থায় তার স্বাদকোরকের বিকাশ হতে থাকে। ওই সময়ে কৃত্রিম মিষ্টির স্বাদ পেলে, শিশুর মিষ্টিজাতীয় খাবারে আসক্তি বাড়বে। এর থেকে ভবিষ্যতে অপুষ্টিজনিত রোগও হতে পারে।
চিনি কিডনির জন্যও বিপজ্জনক। কৃত্রিম মিষ্টি শিশুর শরীরে টক্সিন তৈরি করবে। নবজাতকের অপরিণত কিডনি শরীর থেকে এই অতিরিক্ত টক্সিন বার করতে পারবে না। ফলে কিডনি বিকল হতে শুরু করবে।
বিকল্প খাবার
দোকান থেকে কেনা ‘বেবি ফুড’ একেবারেই দেবেন না। বরং বাড়িতে চাল-ডাল-আলু দিয়ে হালকা করে তৈরি খিচুড়ি সামান্য ঘি বা মাখন দিয়ে খাওয়ানো যেতে পারে শুরুতে।
পাতলা করে রান্না ডালিয়াও ভাল খাবে শিশু। চিনির ব্যবহার না করাই ভাল।
প্রোটিনের জন্য শিশুকে ডাল খাওয়াতে হবে। তবে শুরুতেই অড়হর, ছোলা, মটর ওদের পক্ষে হজম করা কঠিন হবে। তাই মুগ বা মুসুর ডালই দিন।
শিশুকে ছোট মাছ বা জিওল মাছ খাওয়ালে খুব ভাল। শিঙি, মাগুরের মতো জিওল মাছ খাওয়াতে পারেন শিশুকে। মাছ থেকে ভরপুর ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড পাবে শিশু। তবে একই দিনে মাছ, মাংস, ডিম না দেওয়াই ভাল।
প্যাকেটজাত ফলের রস বা কোনও রকম হেল্থ ড্রিঙ্ক শিশুকে না খাওয়ানোই ভাল। বাড়িতেই নানা রকম ফল দিয়ে পিউরি বানিয়ে নিন। আপেল, নাসপাতি সেদ্ধ করে চটকে নিন। এর সঙ্গে কলা চটকে মেখে নিন। শিশুকে এই পিউরি খাওয়ালে প্রয়োজনীয় ফাইবার ও খনিজের ঘাটতি পুষিয়ে যাবে।