৭১ বছর বয়সেও কাজের ব্যস্ততা সামলে সক্রিয় অনুপম খের। তাঁর শারীরচর্চা নিয়ে যেমন আলোচনা হয়, তেমনই নজর কাড়ে খাওয়ার অভ্যাসও। ২০২৪ সালে এক সাক্ষাৎকারে অভিনেতা জানিয়েছিলেন, সাধারণত তাঁর খাবারে থাকে স্ক্র্যাম্বলড এগ এবং অ্যাভোকাডো টোস্ট। তবে একটু বিলাসী খাওয়াদাওয়া করতে ইচ্ছে হলে ছোলে বাটুরে খান তিনি।
সম্প্রতি তাঁর সেই পুরনো সাক্ষাৎকারটি নিয়ে কথা বললেন পুষ্টিবিদ রায়ান ফার্নান্ডো। অনুপমের সঙ্গে আগে কাজ করেছেন। অভিনেতাকে যন্ত্রের সঙ্গে তুলনা করেন পুষ্টিবিদ। তাঁর মতে, অভিনেতা ভোজনরসিক হলেও খাবারের ক্ষেত্রে যথেষ্ট শৃঙ্খলাবদ্ধ। ফার্নান্ডোর ব্যাখ্যা, বয়স বাড়ার সঙ্গে খাবারে বড় কোনও নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে দেওয়ার বদলে ছোট ছোট পরিবর্তন করাই বেশি কার্যকর হতে পারে। আর প্রত্যেকের জন্য ভিন্ন ভিন্ন ডায়েট থাকা উচিত বলে তিনি মনে করেন।
অনুপমের খাদ্যাভ্যাস কেমন? ছবি: সংগৃহীত
রায়ান বলছেন, ‘‘ব্যক্তিগত ডায়েটের অর্থ শুধু খাবারের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা নয়। বরং শরীরের প্রয়োজন বুঝে খাবারের বিকল্প বেছে নেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা তেমনটাই করি।’’ অনুপমের ক্ষেত্রেও সেটা দেখা যায়। ডিম ও অ্যাভোকাডো টোস্টের মতো খাবারের পাশাপাশি পছন্দের ছোলে বাটুরে একেবারে বাদ দেওয়ার কথা নেই। অর্থাৎ স্বাস্থ্যকর খাওয়ার সঙ্গে খাবার উপভোগের বিষয়টিকেও মাথায় রাখা হয়েছে।
বয়স বাড়ার সঙ্গে শরীরের বিপাকক্রিয়া এবং হজমের ক্ষমতায় পরিবর্তন আসতে পারে। ফলে আগের মতো একই পরিমাণ বা একই ধরনের খাবার খেলেও শরীর সবসময়ে একই ভাবে তা ব্যবহার করতে পারে না। বয়স বাড়ার সঙ্গে খাবারের পরিমাণের চেয়ে তার পুষ্টিগুণকে গুরুত্ব দেওয়া বেশি প্রয়োজন। অতিরিক্ত ক্যালোরি-সমৃদ্ধ ভারী খাবারের বদলে তুলনায় হালকা কিন্তু পুষ্টিকর খাবার বেছে নেওয়া যেতে পারে।
খাবারে প্রোটিন, ফাইবার এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাটের ভারসাম্য থাকলে দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতেও সাহায্য করতে পারে। বয়স বাড়লে অনেকেই ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য খাবারের পরিমাণ কমিয়ে দেন। কিন্তু এই সূত্র সব সময়ে কার্যকর নয়। শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি যাতে খাবার থেকে পাওয়া যায়, সেটিও নিশ্চিত করতে হয়। প্রোটিন পেশির ভর ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ। অন্য দিকে, ফাইবার হজম ও পেট ভরা রাখার ক্ষেত্রে ভূমিকা পালন করে। স্বাস্থ্যকর ফ্যাটও সুষম খাদ্যের অংশ। তাই বয়স বাড়লে খাবারের তালিকায় শুধু ক্যালোরি কমানোর দিকে নজর না দিয়ে খাবারের গুণমানের দিকে নজর দেওয়াও জরুরি।
বেশি বয়সে হজমের ক্ষমতায় পরিবর্তন আসতে পারে। সেই কারণে সহজপাচ্য, কম প্রক্রিয়াজাত এবং পুষ্টিকর খাবারের দিকে ঝোঁকা যেতে পারে। প্রক্রিয়াজাত খাবার কমানোর পাশাপাশি জল পানের পরিমাণও বাড়তে পারে। ভাল হজম হলে খাবার থেকে পুষ্টি শোষণেও সাহায্য হয়।
তবে বার্ধক্যে পৌঁছোনো মানেই কেবল বিস্বাদ, স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া। অনুপম যেমন কখনওসখনও ছোলে বাটুরে খেয়ে মনকে তৃপ্তি দেন, তেমনই যে কোনও বয়স্ক ব্যক্তিই নিজের পছন্দের খাবার কালেভদ্রে খেতে পারেন। কোনও চরম খাদ্যাভ্যাসের কথা বলছেন না রায়ান। বরং ছোট ছোট পরিবর্তন, পরিমাণের দিকে নজর এবং ব্যক্তির শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী খাবার বেছে নেওয়ার উপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।