ভাতের সঙ্গে একটু বেশি নুন, বিকালের জলখাবারে নোনতা চানাচুর বা এক প্যাকেট চিপ্স— অনেকেরই নোনতা খাবারের প্রতি বিশেষ আসক্তি থাকে। কিন্তু নিয়মিত অতিরিক্ত নুন খাওয়ার অভ্যাস যে হৃদ্যন্ত্রের উপর চাপ তৈরি করতে পারে, তা কি জানেন? বিশেষ করে রক্তচাপের সমস্যা থাকলে এই অভ্যাস আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।
নুনে থাকা সোডিয়ামের কারণে শরীরে অতিরিক্ত জল জমতে শুরু করে। ফলে রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে এবং রক্তনালি ও হৃদ্যন্ত্রের উপর চাপ পড়ে। দীর্ঘদিন রক্তচাপ বেশি থাকলে রক্তনালির ক্ষতি হতে পারে, বাড়তে পারে হৃদ্রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি। অতিরিক্ত সোডিয়াম গ্রহণ ভারতে হৃদ্রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। এমনকি স্বাস্থ্যপরীক্ষার রিপোর্ট স্বাভাবিক হলেও দীর্ঘদিন বেশি নুন খাওয়ার অভ্যাস ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
এখানে পটাশিয়াম কেন গুরুত্বপূর্ণ?
পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার। ছবি: সংগৃহীত
এমন পরিস্থিতিতে নুন খাওয়া কমানোর পাশাপাশি কাজে আসতে পারে পটাশিয়াম। শরীরে সোডিয়াম ও পটাশিয়ামের ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি। পটাশিয়াম অতিরিক্ত সোডিয়ামের প্রভাব সামলাতে সাহায্য করে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা পালন করে। পাশাপাশি শরীরে তরলের ভারসাম্য বজায় রাখা, স্নায়ুর কাজ এবং পেশির স্বাভাবিক কার্যকারিতার জন্যও এই খনিজ প্রয়োজন। পটাশিয়ামের সঙ্গে রক্তচাপ কমা, স্ট্রোকের ঝুঁকি হ্রাস এবং হৃৎস্পন্দন স্বাভাবিক হওয়ারও সম্পর্ক রয়েছে।
কোন কোন খাবারে পটাশিয়াম রয়েছে?
পটাশিয়াম পেতে দামি বা বিশেষ কোনও খাবারের প্রয়োজন নেই। প্রতিদিনের খাবার থেকেই এর বেশ কিছু ভাল উৎস পাওয়া যায়। যেমন কলা, ডাবের জল, পালংশাক, মিষ্টি আলু, ডাল, বিভিন্ন ধরনের বিন্স, টক দই, অ্যাভোকাডো ও কমলালেবু। নিয়মিত পাতে এই ধরনের খাবার রাখলে পটাশিয়ামের চাহিদা পূরণে সাহায্য হতে পারে।
পটাশিয়ামের মাত্রা কমে গেলে স্বাস্থ্যে কী প্রভাব পড়ে?
শরীরে পটাশিয়ামের মাত্রা কমে গেলে ক্লান্তি, পেশিতে টান বা ক্র্যাম্প এবং হৃৎস্পন্দন অনিয়মিত হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে এই লক্ষণগুলি অন্য কারণেও হতে পারে। তাই শুধু উপসর্গ দেখে পটাশিয়ামের অভাব হয়েছে বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। তবে দেহে পটাশিয়ামের মাত্রা স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করতে হবে।
কিন্তু, পটাশিয়াম বাড়ানোর জন্য় অতিরিক্ত কলা, ডাবের জল বা পটাশিয়াম সাপ্লিমেন্ট খাওয়া শুরু করবেন না। কিডনির অসুখ থাকলে শরীর থেকে অতিরিক্ত পটাশিয়াম বার করতে সমস্যা হতে পারে। আবার কিছু ওষুধের সঙ্গেও পটাশিয়ামের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই কিডনির সমস্যা থাকলে বা নিয়মিত ওষুধ খেলে ডায়েটে বড় পরিবর্তনের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।