দাঁতের ক্ষয় হবেই না? বয়সকালেও সারি সারি সতেজ দাঁতে মুক্তোর মতো হাসি হাসবেন। বাঁধানো দাঁতের প্রয়োজনই হবে না। দাঁতের ক্যাভিটি নিয়েও আর চিন্তা থাকবে না। কেবল একটি জেলের প্রলেপ দিলেই নতুন দাঁত গজাবে। ক্ষয়ে যাওয়া এনামেলও তৈরি হবে নতুন করে। ব্রিটেনের নটিংহাম ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা তৈরি করে ফেলেছেন এক বিশেষ প্রকারের জেল।
দাঁত নিয়ে ভোগেননি, এমন মানুষ কমই আছেন। কথায় আছে, দাঁত থাকতে তার মর্ম বোঝা যায় না। সত্যিই তাই। জ্বর, পেটের সমস্যা বা ব্যথাবেদনা হলেই চিকিৎসকের কাছে যাওয়া হয়। তবে দাঁত শিরশির করলে ক’জনই বা চিকিৎসকের কাছে ছোটেন! যত দিন না সমস্যা আরও যন্ত্রণাদায়ক হয়ে উঠছে, দাঁতে শিরশিরানি, মাড়িতে ঘা অথবা ক্যাভিটি হলে তখন টনক নড়ে। দাঁতের যত ঝামেলার কারণ এনামেল। দাঁতের বাইরের এই স্তরটি ক্ষয়ে যেতে থাকলেই সর্বনাশ ঘটে। তখন দাঁত ক্ষয়ে যায়, পড়ে যায়, সমস্যা হয় আরও নানা ভাবে। তখন দাঁত তুলে ফেলা ছাড়া গতি থাকে না। কিন্তু ওই বিশেষ জেলটি থাকলে, আর কোনও সমস্যা থাকবে না বলেই দাবি করেছেন গবেষকেরা।
দাঁতের মর্ম বুঝবে জেল
নটিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘স্কুল অব ফার্মেসি’ এবং ‘ডিপার্টমেন্ট অব কেমিক্যাল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর গবেষকেরা ফ্লোরাইড-মুক্ত এক বিশেষ প্রকার জেল তৈরি করেছেন। এই উপাদানটি ক্ষয়ে যাওয়া বা ক্ষতিগ্রস্ত দাঁতের বাইরের শক্ত আবরণ অর্থাৎ ‘এনামেল’ পুনর্গঠনে সাহায্য করবে।
আরও পড়ুন:
দাঁতের উপরিভাগের শক্ত সাদা আবরণকে বলা হয় এনামেল। এটি মানবশরীরের সবচেয়ে শক্ত পদার্থ হলেও, এক বার ক্ষয় শুরু হয়ে গেলে এটি আর প্রাকৃতিক উপায়ে ফিরে আসে না। অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা থাকলে বা খুব বেশি অম্ল জাতীয় খাবার বা অধিক মিষ্টি খাবার খেলে পাকস্থলীর অ্যাসিড বার বার মুখের ভিতর চলে আসে। ফলে এনামেল গলে যেতে শুরু করে। তামাকজাত দ্রব্য অত্যধিক সেবনের কারণেও তা হয়। আবার বয়সজনিত কারণেও এনামেলের ক্ষয় হতে থাকে। নটিংহামের গবেষক আবশার হাসান জানিয়েছেন, এই জেলের প্রলেপ দিলে এনামেলের ক্ষয় আর হবেই না। এমনকি, ক্ষয়ে যাওয়া দাঁতেরও পুনর্গঠন হবে।
শৈশবে ঠিক যে ভাবে প্রাকৃতিক উপায়ে এনামেল তৈরি হত, সেই পদ্ধতিই অনুসরণ করেছেন গবেষকেরা। জেল তৈরিতে যে প্রোটিন ব্যবহার করা হয়েছে, সেটি মুখের লালা থেকে ক্যালশিয়াম ও ফসফেট শোষণ করে এনামেল তৈরির কাজ শুরু করবে। এই প্রক্রিয়াকে বলে ‘এপিট্যাক্সিয়াল মিনারেলাইজেশন’। এই পদ্ধতিতে এনামেল প্রাকৃতিক ভাবেই তৈরি হবে ও দাঁত এবং মাড়ির কোষের সঙ্গে মিলেমিশে যাবে। ফলে স্বাভাবিক উপায়েই নতুন দাঁত গজাবে ও ক্ষয়ে যাওয়ার দাঁতের পুনর্গঠন হবে।
আরও পড়ুন:
জেলটি নিয়ে পরীক্ষা চলছে। আপাতত এর প্রয়োগের ফল নিরাপদ বলেই জানিয়েছেন গবেষকেরা। সব ঠিক থাকলে আগামী বছরে মধ্যে সেটি বাজারে চলে আসবে বলে জানিয়েছেন তাঁরা।