সাইনা নেহওয়াল ছিলেন ভারতের হয়ে অলিম্পিক পদকজয়ী প্রথম ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড়। একটা সময়ে তিনি বিশ্বের এক নম্বর মহিলা ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় ছিলেন। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে অবসর গ্রহণের আগে ২৪টি আন্তর্জাতিক শিরোপা জয় করেন সাইনা। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও শারীরচর্চার রুটিনে বাঁধা ছিল তাঁর দিনলিপি। অবসরের আগে কেমন ছিল তাঁর ডায়েট এবং কোন কারণে তাঁকে আমিষভোজী হতে হয়েছিল, সেই নিয়ে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে খোলাখুলি আলোচনা করেন সাইনা।
সাইনা জানান, একটা সময়ে তিনি শুধু স্যালাড এবং ভারতীয় পদ্ধতিতে রান্না করা সব্জি খেতেন। এ ছাড়া তাঁর ডায়েটে ডিমও থাকত। সাইনা বলেন, “আন্তর্জাতিক খেলাগুলির জন্য আমাকে বেশি ভ্রমণ করতে হত। আমি আগে নিরামিষাশী ছিলাম, তবে ভ্রমণের জন্যই আমাকে কিছুটা আমিষ খাওয়া শুরু করতে হয়। মুরগির মাংসটাই বেশি খেতাম। বেশি প্রোটিন পাউডার খেয়ে শারীরিক কিছু সমস্যা হচ্ছিল, তাই কোচ স্যারের পরামর্শেই আমিষ খেতে শুরু করি।’’
আরও পড়ুন:
সাইনা বলেন, ক্রীড়াবিদেদের এমনিতেই বেশি প্রোটিন প্রয়োজন হয়। পেশি গঠনে, পেশি মেরামতে সহায়তা করে প্রোটিন। আবার, ঘুম এবং শরীরের সামগ্রিক কর্মক্ষমতা বজায় রাখতেও প্রোটিন সাহায্য করে। তাই শারীরচর্চার পর তিনি প্রোটিন পাউডার খেতেন। দুপুরে ও রাতে তিনি মুরগির মাংস খেতেন আর প্রোটিনের চাহিদা পূরণের জন্য সকালের জলখাবারে ডিম রাখতেন। সাইনা আরও বলেন, ‘‘সবকিছুর মধ্যেই ভারসাম্য থাকা জরুরি।’’
উত্তর ভারতীয় হিসাবে তিনি ছোলে বাটুরে, আলু পরোটা, গোলগাপ্পা (ফুচকা), সমোসা (শিঙাড়া), গাজরের হালুয়া এবং জিলিপি-রাবড়ির মতো খাবারগুলি খেতে ভীষণ ভালবাসেন। ডায়েট করলেও রবিবারে তিনি পছন্দের খাবার খেতেন, তবে অবশ্যই পরিমাণ মেপে। সোমবার সকালে শরীরে যাতে কোনওরকম অস্বস্তিভাব না থাকে, তাই পেটভরে খাওয়ার কিছুক্ষণ পর তিনি দৌড়োতে যেতেন। প্রাক্তন ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় আরও বলেন, তাঁর মা তাঁকে নিয়মিত আমন্ড তেল মেশানো দুধ খাওয়াতেন, সঙ্গে ড্রাই ফ্রুটের লাড্ডু ও পনিরের বিভিন্ন পদও থাকত তাঁর বাড়ির ডায়েটে।
অবসরগ্রহণের পরেও সাইনা একটি সুশৃঙ্খল রুটিন মেনে চলেন এবং খেয়াল রাখেন তাঁর খাবার যেন পরিমিত ও পুষ্টিকর হয়।