করোনাভাইরাসের আতঙ্কের পরে যে ভাইরাস নিয়ে এখন চিন্তা সবচেয়ে বেশি তা হল ইনফ্লুয়েঞ্জা। একটা সময়ে শীতকাল এলে ইনফ্লুয়েঞ্জার ভয় বাড়ত। এখন বছরের যে কোনও সময়েই এই ভাইরাসের প্রকোপ বাড়ছে। খামখেয়ালি আবহাওয়ায় ইনফ্লুয়েঞ্জা, সোয়াইন ফ্লু ভাইরাসের বাড়বাড়ন্ত আতঙ্কের কারণই হয়ে উঠেছে। দেশের নানা রাজ্যে সোয়াইন ফ্লু ছড়াচ্ছে। সেই সঙ্গে সক্রিয় হয়ে উঠেছে ইনফ্লুয়েঞ্জার আরও এক উপরূপ ‘সাবক্ল্যাড কে’। এই সব ফ্লু ভাইরাস থেকে বাঁচতে প্রতি বছর ফ্লুয়ের টিকা নিয়ে রাখার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। তবে সমস্যা হল, ভাইরাস তার রূপ বদলালে সে টিকা কার্যকর হবে না। তখন নতুন টিকা তৈরি করার প্রয়োজন হবে। তাই সে ঝক্কি কমাতে এমন একটি ন্যাজ়াল ড্রপ তৈরি করেছেন গবেষকেরা, যা ইনফ্লুয়েঞ্জার যে কোনও উপরূপকে প্রতিরোধ করতে পারে।
ব্রিটেনের সরকারি সংস্থা ন্যাশনাল হেল্থ সার্ভিস (এনএইচএস) ড্রপটি তৈরি করেছে। ছোট থেকে বড়— সকলেই নিতে পারেন এই ড্রপ। গবেষকেরা জানিয়েছেন, সর্দি-কাশির ধাত থাকলে বা অ্যালার্জির সমস্যা থাকলে ইনফ্লুয়েঞ্জা মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে। তা ছাড়া হাঁপানি, সিওপিডির রোগী বা যাঁদের আগে থেকেই ফুসফুসের রোগ রয়েছে, তাঁদের জন্য এই ড্রপটি মহৌষধের মতো কাজ করবে। এটি নির্দিষ্ট ডোজ়ে নিলে বছর বছর টিকা নেওয়ার প্রয়োজন হবে না।
আরও পড়ুন:
কতটা ভয়াবহ ‘সাবক্ল্যাড কে’?
ইনফ্লুয়েঞ্জা এ (এইচ৩এন২) ভাইরাসেরই পরিবর্তিত রূপ। ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস মাঝেমধ্যেই তার ভোল বদলায়। এই ভাইরাসের জিনে রাসায়নিক পরিবর্তন (মিউটেশন) ঘটে নতুন এক উপরূপ তৈরি হয়েছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘সাবক্ল্যাড কে’। ‘অ্যাকিউট নিউমোনিয়া’ হচ্ছে অনেকের এই ভাইরাসের সংক্রমণে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ফুসফুস। প্রবল শ্বাসকষ্ট দেখা দিচ্ছে। সেই সঙ্গে বুকে ব্যথা, অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন, এমনকি হার্টের সমস্যা হতেও দেখা যাচ্ছে।
শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাচ্ছে, আচমকা জ্ঞান হারিয়ে ফেলার মতো লক্ষণও দেখা দিচ্ছে অনেকের। গবেষকেরা জানাচ্ছেন, এই ভাইরাসের সঙ্গে যদি সোয়াইন ফ্লু (এইচ১এন১) ভাইরাসের সংক্রমণও ঘটে, তবে তা প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। এর থেকে বাঁচতেই নাকের ড্রপটি তৈরি করা হয়েছে। এই ড্রপ নিয়ে রাখলে ভাইরাস সংক্রমণের ভয় কমবে। তবে যে শিশুদের হাঁপানির চিকিৎসা চলছে অথবা যারা অ্যাসপিরিন জাতীয় ওষুধ খায়, তাদের ড্রপটি নেওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।