পুজোর আগে কত কিছুই তো করাবেন ভেবেছেন। ফেশিয়াল, হেয়ার কাট, স্পা— তালিকাটা লম্বা। ভেবেছেন যে, ঠোঁটও বদলে ফেলবেন? এমনটাও করা যায়! ছুরি-কাঁচি চালিয়ে অস্ত্রোপচার না করে বা কৃত্রিম উপায়ে ঠোঁট না ফুলিয়েও (ফিলার্স/বোটক্স) ঠোঁটের ভোল বদলানো যায়। এমন সৌন্দর্য চিকিৎসা এখন কলকাতাতেও হচ্ছে। পুরু ঠোঁটের মায়ায় না ভুলে বরং ঠোঁট রাঙিয়ে তুলুন প্রাকৃতিক রঙে। মেকআপ ছাড়াও আকর্ষণীয় দেখাবে ঠোঁট।
লিপ ব্লাশিং
লিপস্টিকের দাগ কাপে বা রুমালে লেগে যাওয়ার দিন শেষ। বাইরে বেরোনোর আগে রোজ ঠোঁট রাঙানোর দিনও শেষ। ঘুম থেকে উঠে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে দেখতে পাবেন ঠোঁটের লালচে বা গোলাপি রং, ঠিক লিপগ্লসের মতোই চকচক করছে। এক বিশেষ উপায়ে ঠোঁটের প্রাকৃতিক রং চিরস্থায়ী করার চিকিৎসা এসে গিয়েছে, যার পোশাকি নাম ‘লিপ ব্লাশিং’।
ঠোঁটের ট্যাটু বলা যায় লিপ ব্লাশিংকে, তবে সাধারণ ট্যাটুর মতো ঠিক নয়। তার চেয়ে অনেক বেশি নিরাপদ। মাইক্রোনিডল অর্থাৎ খুব সূক্ষ্ম সুচের সাহায্যে ঠোঁটের উপরের স্তরে প্রাকৃতিক বা অর্গ্যানিক পিগমেন্ট বসিয়ে দেওয়া হয়। এটি করলে ঠোঁট প্রাকৃতিক ভাবেই লালচে বা গোলাপি দেখায়, ঠোঁটের আকার স্পষ্ট হয় এবং কালচে দাগছোপ উঠে যায়। লিপ ব্লাশ করালে দেখে মনে হবে আপনি সব সময়েই একটি হালকা টিন্টেড লিপবাম মেখে আছেন।
লিপ ব্লাশিং।
পদ্ধতি: লাল, গোলাপি, কোরাল যে রংটি পছন্দ সেটির পিগমেন্ট বানিয়ে নেওয়া হয়। তার পর ঠোঁট পরিষ্কার করে সেই রং সরু সুচ দিয়ে ওষ্ঠাধরে বসিয়ে দেওয়া হয় যত্ন করে। খুব হালকা হাতে এই কাজ করা হয় যাতে ঠোঁটের কোনও ক্ষতি না হয়। ব্যথা কমাতে বিশেষ রকম লিপজেল ও ক্রিম ঠোঁটে মালিশ করা হয়। রং ফুটে উঠতে ৭ থেকে ১০ দিন সময় লাগে। ওই সময়টাতে ঠোঁটে ক্রিম বা তেল মাখা অথবা রোদে বেরোনো বা ঝালমশলা দেওয়া খাবার খেতে বারণ করা হয়। লিপ ব্লাশ করালে ঠোঁট ভরাট ও ফোলা দেখায়। মোমের মতো মসৃণ ও চকচকে থাকে।
আরও পড়ুন:
খরচ: কলকাতায় নামী ক্লিনিক বা সালোঁগুলিতে লিপ ব্লাশিংয়ের খরচ শুরু হয় ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকার মধ্যে। কী ধরনের ব্লাশ করাবেন তার উপর খরচ নির্ভর করবে। সেটি ২৫ হাজার অবধি হতে পারে। একবার লিপ ব্লাশ করালে তা ২-৩ বছর স্থায়ী হবে।
লেজ়ার লিপ লাইটেনিং
সিগারেট বা বিড়ি খেয়ে ঠোঁট কালচে হয়ে গেলে লেজ়ার লাইটেনিং চিকিৎসায় লাভ হতে পারে। কালচে ঠোঁট লিপস্টিকে সাময়িক ভাবে ঢাকা যায়। পাকাপাকি ভাবে দাগছোপ তুলতে হলে অস্ত্রোপচার ছাড়া গতি থাকে না। কিন্তু লেজ়ারে তা সহজেই হতে পারে। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ভয়ও থাকে না। লেজ়ার লিপ লাইটেনিং একধরনের চর্মচিকিৎসা যার কাজ হল ঠোঁটে জমে থাকা অতিরিক্ত মেলানিন রঞ্জক (যার উপস্থিতির কারণে ঠোঁটের রং গাঢ় দেখায়) ভেঙে দেয়। ধূমপান, অতিরিক্ত চা-কফি পান, সস্তার প্রসাধনী ব্যবহার বা সূর্যের অতিবেগনি রশ্মির কারণে ঠোঁটের উপর কালচে ছোপ পড়লে তা তোলা যায় এই চিকিৎসায়। এটি করালে ঠোঁটের স্বাভাবিক লালচে বা গোলাপি রং ফিরে আসে।
লেজ়ার লিপ লাইটেনিং।
পদ্ধতি: লেজ়ার থেরাপি করতে বেশি সময় লাগে না। ১৫ থেকে ৩০ মিনিটের মধ্যেই একটি সেশন সম্পন্ন হয়। প্রথমে ঠোঁট পরিষ্কার করে ট্রপিক্যাল অ্যানাস্থেটিক ক্রিম মাখিয়ে দেওয়া হয় যাতে যন্ত্রণা না হয়। চিকিৎসকেরা বিশেষ একরকম লেজ়ার রশ্মি ব্যবহার করে চিকিৎসা করেন। লেজ়ার রশ্মি ত্বকের গভীরে গিয়ে বাড়তি মেলানিন ভেঙে দেয়। লেজ়ার দেওয়ার পর ঠোঁট ঠান্ডা করতে আইস প্যাক বা বিশেষ কোনও জেল বা ক্রিম লাগিয়ে দেওয়া হয়। লেজ়ার থেরাপি করার পরে ঠোঁট লালচে বা ফোলা দেখাতে পারে, তবে তা সাময়িক। ২-৩ দিনের মধ্যে ঠোঁটে খুব পাতলা একটি খসখসে স্তর তৈরি হয় যা খসে যায় ও সে সঙ্গে মৃতকোষ ও বাড়তি মেলানিনও ঝরে পড়ে। কয়েক দিন পরে কালচে ছোপ পুরোপুরি উঠে যায় এবং ঠোঁট উজ্জ্বল গোলাপি বা হালকা লালচে দেখায়।
ধূমপায়ী, বংশগত কারণে ঠোঁটের রং গাঢ় অথবা যাঁদের ঠোঁটের উপরের ও নিচের অংশের রঙে সামঞ্জস্য নেই, ঠোঁট সবসময়েই ফাটা ও রুক্ষ দেখায়, তাঁরা করাতে পারেন এই থেরাপি।
খরচ: কলকাতায় সেশনপিছু খরচ সাধারণত ৩০০০ টাকা থেকে ৭০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। তবে এক সেশনে কালো দাগ সম্পূর্ণ উঠবে না। কম করেও ৩-৫টি সেশন করাতে হতে পারে।