Advertisement
E-Paper

রাগলেই মেজাজ হারিয়ে কটু শব্দ বলেন! কথা বলা বন্ধ রেখে না ফিসফিসিয়ে, কী কী উপায়ে পরিস্থিতি সামলাবেন

ছোট ছোট ব্যাপারে রেগে যাচ্ছেন? মাথা গরম হলেই কটু কথা বলে ফেলছেন যাকে তাকে। আঘাতও দিয়ে ফেলছেন কাছের মানুষকে। তাই পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ার আগেই জেনে নিন রাগ সামলানোর সহজ কিছু উপায়।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৫ অগস্ট ২০২৬ ১৩:২৬
The Brain Science behind Instant Anger and Smart Ways to Stay Calm

তুচ্ছ বিষয়ে রেগে যাচ্ছেন, মেজাজ হারাচ্ছেন, সামলানোর সহজ কিছু টোটকা। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

রাগটা কি বেশিই হচ্ছে ইদানীং? ছোট ছোট কথায় রেগে যাচ্ছেন। মাথাগরম হলেই মেজাজ হারিয়ে কটু কথা বলে ফেলছেন কাছের মানুষজনদের। আপনার অতিরিক্ত রাগ ও মেজাজের ঠেলায় সম্পর্কে ভাঙনও ধরছে। এই সমস্যা অবশ্য আপনার একার নয়। অনেকেই আছেন যাঁরা খুব তাড়াতাড়ি মেজাজ হারিয়ে ফেলেন। রাগে অগ্নিশর্মা হলে কাকে কী বলে ফেলবেন, তার খেয়ালও থাকে না। অনেকেই বলেন, রাগ হলে তা উগরে দিলেই স্বস্তি! তবে বিজ্ঞান বলে, রাগের প্রকাশ নয়, বরং রাগ নিয়ন্ত্রণ করাই বুদ্ধিমানের কাজ। না হলে শরীরে যেমন প্রভাব পড়ে, তেমনই মানসিক স্বাস্থ্যেরও প্রবল ক্ষতি হয়।

কেন এত রাগ হচ্ছে?

রাগ, আবেগ, সুখ-দুঃখের অনুভূতি নিয়ন্ত্রণ করে মস্তিষ্কের অ্যামিগডালা অংশটি। যদি সেটি অতিরিক্ত সক্রিয় হয়ে ওঠে, তা হলে আবেগে নিয়ন্ত্রণ থাকে না। অনুভূতির প্রকাশও ভিন্ন রকম হতে পারে। রাগ আসলে একদিনের সমস্যা নয়। দীর্ঘসময় ধরে মানসিক চাপ, উদ্বেগ বা উৎকণ্ঠা মনে চেপে রাখলে তখন অ্যামিগডালা অংশটি অধিক উত্তেজিত হয়ে ওঠে। ফলে যখন তখন মেজাজ হারাতে পারেন। আচরণগত সমস্যাও দেখা দিতে পারে। আবার হরমোনগত কারণেও মেজাজে ঘন ঘন বদল আসতে পারে। স্ট্রেস হরমোন কর্টিসলের ক্ষরণ অত্যধিক বেড়ে গেলে তখন চিন্তাভাবনায় অসঙ্গতি আসে, দুশ্চিন্তা গ্রাস করতে থাকে ফলে রাগের বহিঃপ্রকাশ বেশি হয়।

কী ভাবে রাগ সামলাবেন?

১০ সেকেন্ডের ‘মেন্টাল বাফার’

রাগ যখন হচ্ছে সেই সময়েই কথা বলা বন্ধ করে দিন। সাধারণত দেখা যায়, রাগ যত বাড়ে তত মস্তিষ্কে রাসায়নিক বিক্রিয়া হতে থাকে ও সেটি হতেই ৯০ সেকেন্ডের মতো সময় লাগে। তাই মেজাজ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আগেই কথা বলা বন্ধ করে মনে মনে নিজের পুরো নাম, বয়স বা ফোন নম্বর উল্টো দিক থেকে গুনতে শুরু করুন। কিছুক্ষণ করলেই দেখবেন, রাগ অনেক কমে এসেছে।

ফিসফিস করে কথা বলা

তীব্র রাগ উঠলেই ইচ্ছাকৃত ভাবে স্বর একধাপ নামিয়ে একদম ফিসফিস করে কথা বলতে শুরু করুন। এটি প্রথমেই করা সম্ভব নয় অনেকের পক্ষেই। কারণ রাগ হলেই গলার স্বর কয়েক ধাপ চড়ে যায়। কিন্তু এই প্রচেষ্টা শুরু করলে, মস্তিষ্কে বার্তা যাবে যে অধিক উত্তেজনার কারণ ঘটেনি। ফলে হরমোনের ক্ষরণও নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।

ফিজ়িকাল গ্রাউন্ডিং

নানা রকম পদ্ধতি আছে। রাগ যাঁদের খুব বেশি তাঁরা মাথা গরম হওয়ার মুহূর্তেই বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ দিয়ে তর্জনীর ডগায় জোরে চাপ দিন বা হাতের তালুতে বরফের টুকরো চেপে ধরুন। এই হঠাৎ অনুভূতিটি মস্তিষ্কের অ্যামিগডালা থেকে মনোযোগ সরিয়ে দেবে। ফলে মেজাজ হারানোর আগেই তা সামলে নিতে পারবেন।

৩০ মিনিটের নিয়ম

ঝগড়ার সময়ে বা প্রচণ্ড রাগ হলে নিজেকে বলতে হবে যে আপনি প্রতিক্রিয়া দেবেন ঠিক ৩০ মিনিট পর। রেগে গিয়ে কাউকে মেসেজ পাঠানোর আগে বা কটূ কথা বলার আগে, ওই সময়টা নিজেকে দিন। ওই ৩০ মিনিটে কর্টিসল হরমোনের ক্ষরণও কমবে এবং মস্তিষ্কে অধিক উত্তেজনাও প্রশমিত হবে। শুরুতে ১০-১৫ মিনিট দিয়ে শুরু করুন। ধাপে ধাপে সময় বাড়িয়ে নিন।

ভোকাল ডাম্পিং

প্রিয়জনকে সরাসরি কটু কথা না বলে ফোনের ভয়েস রেকর্ডার অন করে মনে যা আসছে সব কটূ কথা বলে রেকর্ড করুন, তারপর তা ডিলিট করে দিন। এতে ক্ষোভ প্রকাশও হয়, আবার কেউ আঘাতও পায় না।

Anger Management anger management tips Mental Health

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy