শরীরে ছোটখাটো পরিবর্তন নজরে এলে অনেকেরই উদ্বেগ শুরু হয়ে যায়। বড় কোনও অসুখের আতঙ্ক তৈরি হয়। তেমনই প্রস্রাবে ফেনা দেখলে অনেকেরই মনে প্রশ্ন জাগে, কিডনির কোনও সমস্যা হচ্ছে না তো? কিন্তু ফেনাযুক্ত প্রস্রাবের কারণ জেনে নিলে তা সুবিধাজনক হতে পারে। এমনকি গুরুতর আকার নেওয়ার আগেও সতর্ক হওয়া যায়।
প্রস্রাবের ধরন দেখে আতঙ্কিত? ছবি: সংগৃহীত
প্রস্রাবে ফেনা কেন তৈরি হয়?
চিকিৎসকদের মতে, প্রস্রাবে ফেনা দেখা গেলেই আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। কখনও প্রস্রাবের বেগ বেশি থাকলে, শরীরে জলের ঘাটতি হলে কিংবা শৌচাগার পরিষ্কার করার রাসায়নিকের সংস্পর্শে এসেও ফেনা তৈরি হতে পারে। প্রস্রাবের সঙ্গে কমোডের জলের সংস্পর্শে বুদ্বুদ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। মূত্রথলি ভর্তি থাকলে প্রস্রাবের ধারা জোরে বেরিয়ে এসেও ফেনা হতে পারে। শরীরে জলের ঘাটতি হলে প্রস্রাব ঘন হয়ে যায়, তখনও ফেনা দেখা দিতে পারে। শৌচাগারে ব্যবহৃত পরিষ্কার করার রাসায়নিক থেকেও এমনটা হতে পারে।
তবে ফেনা যদি বার বার দেখা যায় এবং সহজে মিলিয়ে না যায়, তা হলে প্রস্রাবে প্রোটিনের উপস্থিতি পরীক্ষা করা দরকার পড়তে পারে। এই অবস্থাকে বলা হয় প্রোটিনিউরিয়া। সাধারণত কিডনি রক্ত থেকে বর্জ্য পদার্থ ছেঁকে প্রস্রাবের মাধ্যমে বার করে দেয়, কিন্তু প্রয়োজনীয় প্রোটিন শরীরে ধরে রাখে। কিডনির ছাঁকনির মতো কাজ করা অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে প্রস্রাব দিয়ে প্রোটিন বেরিয়ে আসতে পারে। এটি অনেক সময়ে কিডনির সমস্যার প্রাথমিক সঙ্কেতও হতে পারে।
আরও পড়ুন:
কখন সতর্ক হওয়া দরকার?
প্রস্রাবের চেহারা দেখেই কিডনির সমস্যা নিশ্চিত করা যায় না। প্রস্রাবে ঘন ঘন ফেনা দেখা দিলে, বিশেষ করে কয়েক দিন ধরে একই সমস্যা চলতে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী প্রস্রাব পরীক্ষা করে প্রোটিন বা রক্তের উপস্থিতি দেখতে পারেন। ফল অস্বাভাবিক হলে আরও কিছু রক্তপরীক্ষা বা ওষুধ চালু করতে পারেন। তবে কেবল ফেনা নয়, তার সঙ্গে অন্য কিছু লক্ষণ থাকলে আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। যেমন—
· প্রস্রাবে রক্ত দেখা যাওয়া।
· রাতে বার বার প্রস্রাবের বেগ পাওয়া।
· প্রস্রাবের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য ভাবে কমে যাওয়া।
· চোখের চারপাশ, মুখ বা পা ফুলে যাওয়া।
· উচ্চ রক্তচাপ বা কিডনির অসুখের পূর্ব ইতিহাস থাকা।