ওজন বাড়ছে। সুগার-প্রেসারের জ্বালায় নাজেহাল। এ দিকে রাতে ঠিকমতো ঘুমও হয় না। এ সমস্যা এখন ঘরে ঘরে। এর সমাধানে মুঠো মুঠো ওষুধেই ভরসা রাখছেন অনেকে। ওজন কমাতেও ওষুধ খাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। অথচ হাতের নাগালে এমন কিছু ভেষজ উপকরণ আছে, যার সঠিক প্রয়োগে ওজন যেমন কমবে, তেমনই অনিদ্রার সমস্যাও দূর হবে। আবার মানসিক চাপ থেকেও রেহাই পাবেন। এর জন্য খেতে হবে ভেষজ চা। শুধু গ্রিন টি নয়, আরও নানা ধরনের চা রয়েছে যার উপকারিতা অনেক।
দারচিনি-গোলমরিচের চা
দারচিনি, গোলমরিচ, লেবুর রস ও মধু দিয়ে বানাতে পারেন ভেষজ চা। এক চামচ দারচিনির গুঁড়ো, সিকি চামচ গোলমরিচ গুঁড়ো, এক চামচ লেবুর রস ও এক চামচ মধু-র মধ্যে এক কাপ ফুটন্ত জল দিয়ে ভাল করে মিশিয়ে ছেঁকে নিন। দারচিনির কুমারিন, গোলমরিচের পিপারিন প্রদাহের প্রবণতা কমাবে, বাড়বে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। লেবুর ভিটামিন সি-এর কাজও তাই। সঙ্গে যুক্ত হবে মধুর এনার্জি। এই চা পেটের জন্য খুব ভাল।
অশ্বগন্ধার চা
রোজ সকালে বা বিকেলে এক কাপ অশ্বগন্ধার চা খেতে পারেন। এক কাপ ফুটন্ত জলে এক চা-চামচ অশ্বগন্ধা মূলের গুঁড়ো দিয়ে ঢাকা দিয়ে রাখুন মিনিট ১০-১৫। ছেঁকে লেবুর রস ও মধু দিয়ে খান। এতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রদাহের প্রবণতা কমবে। অশ্বগন্ধার জীবাণুনাশক গুণও আছে। কমবে মানসিক চাপ-অবসাদ ও বয়সজনিত ক্ষয়-ক্ষতির হার।
আরও পড়ুন:
ক্যামোমাইল চা
এতে 'অ্যাপিজেনিন' নামে একধরনের অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট থাকে যা উদ্বেগ কমায় ও ঘুমের সমস্যা দূর করতে পারে। ক্যামোমাইল চা রাতে শোয়ার আগে খেলে পেট ফাঁপার সমস্যা, অম্বলের সমস্যা দূর হবে। এই চা হজমশক্তি বৃদ্ধি করে এবং ওজনও কমাতে পারে।
জবাফুলের চা
জবা ফুলে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্থোসায়ানিন এবং ভিটামিন সি-এর মতো শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট রয়েছে। যা শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। কোষকে ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে পারে এবং শরীরের প্রদাহ কমাতে সহায়তা করে। ফলে ব্যথা, যন্ত্রণা ও নানা রোগের উপশম হয়। জবার পাপড়ি দিয়ে তৈরি চায়ে থাকে অ্যামাইলেজ ইনহিবিটর নামের এক ধরনের উপাদান যা ওজন কমাতে সহায়ক। এই চা বানাতে ২ চা চামচ শুকনো জবার পাপড়ি (বাজারে পাওয়া যায়) অথবা তাজা জবা ফুল ভাল ভাবে ধুয়ে পাপড়ি গুলো আলাদা করে ছিঁড়ে নিন। একটি পাত্রে জল ভাল ভাবে ফুটিয়ে নিন। আঁচ বন্ধ করে তাতে পাপড়ি ভিজিয়ে ৫ থেকে ১০ মিনিট রেখে দিন। যত বেশি সময় ধরে ভেজাবেন, ততই চায়ের স্বাদ বাড়বে। তার পরে তাতে মধু, আদার রস, লেবুর রস কিংবা দারচিনির গুঁড়ো ছড়িয়ে খান।