ধূমপান না করলেও ফুসফুস সুরক্ষিত নয়। যাঁরা ধূমপান করেন না বা তামাকজাত দ্রব্যের নেশা নেই, তাঁরাও বিপদের বাইরে নন। রোজের এমন কিছু অভ্যাস আছে, যা ফুসফুসে ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। প্রায় সকলেই এই অভ্যাসগুলির সঙ্গে পরিচিত।
পরোক্ষ ধূমপান
নিজে ধূমপান না করলেও পাশে থাকা ধূমপায়ীর সিগারেট বা বিড়ির ধোঁয়া শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে সরাসরি ফুসফুসে ঢোকে। এই ধোঁয়ায় হাজার হাজার ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ থাকে, যা শ্বাসনালি ও ফুসফুসে গিয়ে টক্সিন হিসাবে জমা হতে থাকে। এই সব রাসায়নিকের কারণেই ফুসফুসের কোষে বদল ঘটতে পারে। কোষের অস্বাভাবিক বিভাজন ঘটে ক্যানসার কোষের জন্ম হতে পারে। নানা গবেষণায় দাবি করা হয়েছে যে, পরোক্ষ ধূমপান বা প্যাসিভ স্মোকিং ফুসফুসের কোষের জিনগত বদলও ঘটাতে পারে। তাই সতর্ক থাকা জরুরি।
রান্নার ধোঁয়া
বদ্ধ জায়গা বা পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের বন্দোবস্ত নেই এমন রান্নাঘরে গ্যাস বা অন্যান্য জ্বালানি দিয়ে রান্না করার সময়ে যে কার্বন ডাই অক্সাইড ও কার্বন মনোক্সাইড বার হয়, তা ফুসফুসের জন্য বিপজ্জনক। তা ছাড়া রান্না করার সময়ে যে তেল বা মশলাপোড়া ধোঁয়া বার হয় তাতে বেঞ্জিন, ফরম্যালডিহাইডের মতো রাসায়নিক থাকে যা ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
আরও পড়ুন:
ধুলোবালির জায়গায় মাস্ক না পরে যাওয়া
শিল্পাঞ্চলের বিষাক্ত ধোঁয়া ও রাসায়নিক কণার সংস্পর্শে দীর্ঘসময় মাস্ক বা সুরক্ষা ছাড়া থাকলে ফুসফুস বিকল হতে থাকে। পেশাগত কারণে যাঁদের দীর্ঘসময় ধুলোবালি বা ধোঁয়ায় থাকতে হয়, তাঁদের মাস্ক পরে থাকা জরুরি। তা ছাড়া নির্মাণস্থলের আশপাশে থাকলে বা সেই জায়গা দিয়ে যাতায়াত করলে মাস্ক পরতেই হবে।
দীর্ঘদিনের কাশিকে অবহেলা
দীর্ঘস্থায়ী কাশি, শ্বাসকষ্টকে অবহেলা করলেও বিপদ ঘটতে পারে। শ্বাসকষ্টের সমস্যাকে অনেকেই সাধারণ সর্দি-কাশির জন্য হচ্ছে ভেবে এড়িয়ে যান। শুকনো কাশি একটানা থাকলেও তা কী কারণে হচ্ছে সে পরীক্ষা করান। চিকিৎসকেরা বলছেন, ফুসফুসের কোষে বদল ঘটলে বা কোষের অনিয়ন্ত্রিত বিভাজন শুরু হলে তার প্রাথমিক উপসর্গ এমন হতে পারে। তাই সময় থাকতেই সতর্ক হওয়া জরুরি।
ঘরে মশা মারার ধূপ বা কয়েল
মশা তাড়ানোর কয়েল বা ধূপ সারা সার জ্বললে তার ধোঁয়া ফুসফুসের জন্য বিষ হয়ে ওঠে। সুগন্ধি মোমবাতিও কিন্তু নিরাপদ নয়। এমন ধোঁয়ায় ফরম্যালডিহাইড, বেঞ্জিন এবং আরও নানা বিষাক্ত গ্যাস থাকে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, বদ্ধ ঘরে একটি মশার কয়েল জ্বালালে প্রায় ১০০টি সিগারেটের সমান ধোঁয়া ও বিষাক্ত কণা নির্গত হয়, যা ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।