হাতে হাতে তালি দিয়ে ‘গুপী গাইন বাঘা বাইন’ ছবিতে খাবার থেকে পোশাক সবই মিলত। এই কৌশলে হতে পারে রোগমুক্তি। শুধু সোজা হয়ে বসে কিছুক্ষণ তালি বাজাতে হবে। হাতে রয়েছে অসংখ্য স্নায়ু এবং রক্তনালীর প্রান্ত, যেগুলিকে বলা হয় আকুপ্রেশার পয়েন্ট। হাততালি দিলে সেই অংশগুলিতে ঘষা লাগে, চাপ পড়ে। তার ফলে স্নায়ু সক্রিয় হয়।
রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে: ছন্দ মেনে তালি বাজালে সারা শরীরে রক্ত চলাচল বাড়ে। এর ফলে দেহের প্রতিটি অংশ ও কোষে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছোয়, যা হৃদ্যন্ত্র সুস্থ রাখতে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে।
আরও পড়ুন:
মনমেজাজ ভাল থাকে: এই অনুশীলনে মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি হয়। তালি বাজালে শরীরে ‘এন্ডরফিন’ হরমোনের ক্ষরণ হয়, যা মন ফুরফুরে করে তোলে। মানসিক চাপ এবং উদ্বেগ কমিয়ে মনকে শান্ত রাখে।
শরীরের নমনীয়তা বৃদ্ধি হয়: হাতের তালুর নিয়মিত সঞ্চালন অস্থিসন্ধির জড়তা কাটায় এবং পেশি শিথিল রাখতে সাহায্য করে। এর ফলে অস্থিসন্ধি সচল থাকে, শরীরের নমনীয়তা বৃদ্ধি পায় এবং পেশির আঘাতের আশঙ্কা কমে।
ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক: তালি বাজানোর শারীরচর্চাতে অল্প হলেও ক্যালোরি ক্ষয় হয়। সহজ অভ্যাসটি মেদ ঝরাতে ও ওজন নিয়ন্ত্রণে পরোক্ষে সাহায্য করে।
শরীর ঝরঝরে রাখে: তালি দেওয়ার অভ্যাস লিম্ফ্যাটিক ড্রেনেজ বা শরীর থেকে অপ্রয়োজনীয় বা দূষিত পদার্থ বার করে দিতে সাহায্য করে। তা স্বাস্থ্য ভাল রাখার জন্য জরুরি।
সঠিক পন্থা
সকালের দিকেই এই অভ্যাস করতে পারেন। হাতে নারকেল তেল বা পছন্দের কোনও তেল হালকা মালিশ করে নিন।
শিরদাঁড়া সোজা করে পদ্মাসন বা বজ্রাসনে বসে হাততালি দেওয়া অভ্যাস করুন। প্রথমে ২-৩ মিনিট। পরের সপ্তাহে ৫ মিনিট। এই ভাবে ১০-১৫ মিনিট করলেই হবে।