হৃদ্রোগ বলে কয়ে আসে না। অফিসে কাজের চাপ, ব্যক্তিগত জীবনেও নানা মানসিক উদ্বেগ, সব মিলিয়ে জটিলতা বাড়ছে। কোলেস্টেরল, ডায়াবিটিস, লিভারের রোগ নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠছে। আর এ সব রোগের হাত ধরেই হানা দিচ্ছে হৃদ্রোগ। নিয়ন্ত্রিত ব্যায়ামই সুস্থ থাকার চাবিকাঠি। হৃদ্রোগের ঝুঁকি যদি কমাতে হয়, তা হলে ব্যায়ামের কোনও বিকল্প নেই। তবে হার্ট ভাল রাখার নির্দষ্ট কিছু যোগাসন আছে। তার মধ্যে একটি অর্ধ ধনুরাসন। রোজ সকালে বা বিকালে অভ্যাসে হৃদ্রোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যাবে।
কী ভাবে করবেন?
১) ম্যাটের উপরে প্রথমে উপুড় হয়ে শুয়ে পড়ুন।
২) ডান হাঁটু ভাঁজ করে ডান পায়ের পাতা যতটা সম্ভব পিঠের উপর নিয়ে আসুন। যেহেতু অর্ধ ধনুরাসন, তাই এক পায়েই আসনটি করতে হবে।
৩) এ বার ডান হাত পিছনে নিয়ে গোড়ালি শক্ত করে চেপে ধরুন। যদি গোড়ালি ধরতে অসুবিধা হয়, তা হলে স্পর্শ করার চেষ্টা করুন।
৪) পা যতটা সম্ভব পিঠের উপর নিয়ে আসতে হবে। এ বার হাত ও পা ওই অবস্থায় ধীরে ধীরে উপরে তোলার চেষ্টা করুন।
৫) এতে বুক সামনের দিকে প্রসারিত হবে।
৬) শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক রেখে এই ভঙ্গিতে ২০-৩০ সেকেন্ড থাকুন। তার পর ধীরে ধীরে আগের ভঙ্গিতে ফিরে যান।
৭) ১০ সেকেন্ডের বিরতি নিয়ে অন্য পায়ে একই ভাবে আসনটি করুন।
আরও পড়ুন:
উপকারিতা:
১) হার্ট ভাল থাকবে, রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতা কমবে।
২) কোলেস্টেরল বেশি হলে, নিয়মিত এই আসনটি অভ্যাসে সুফল পেতে পারেন।
৩) নিয়মিত অভ্যসে ফ্যাটি লিভারের সমস্যাও কমবে, লিভারের জটিল রোগের ঝুঁকি কমবে।
৪) ফুসফুসের জোর বাড়বে আসনটি করলে, শরীরের রোগ প্রতিরোধ শক্তিও বাড়বে। হাঁপানির রোগীদের জন্য খুবই উপযোগী এই আসন।
৫) মনঃসংযোগ বাড়বে, মানসিক চাপ কমবে।
কারা করবেন না?
উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা থাকলে আসনটি করবেন না।
অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় আসনটি করা নিষিদ্ধ।
মাইগ্রেনের সমস্যা থাকলে প্রশিক্ষকের পরামর্শ ছাড়া আসনটি করবেন না।